শেষ ওভারের নাটক

নখ কামড়ানো উত্তেজনার ম্যাচে শেষ ওভারে মাঠের ভেতরের মতো বাইরেও জমেছিল নাটক। এক পর্যায়ে দুই ব্যাটসম্যানকে বেরিয়ে আসতে ইশারা দিয়েছিলেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তবে শেষ পর্যন্ত শুভবুদ্ধির জয় হয়। ঠাণ্ডা মাথায় বাংলাদেশকে জিতিয়ে আনেন মাহমুদউল্লাহ।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 March 2018, 05:54 PM
Updated : 17 March 2018, 04:16 AM

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের জন্য শেষ ওভারে বাংলাদেশের দরকার ছিল ১২ রান। ইসুরু উদানার প্রথম বলটি ছিল বাউন্সার। রান নিতে পারেননি মুস্তাফিজ। পরের বলও বাউন্সার, আবারও রান নেই। মাহমুদউল্লাহকে স্ট্রাইক দিতে গিয়ে রান আউট মুস্তাফিজ।

টি-টোয়েন্টিতে ওভারে সর্বোচ্চ একটি বল কাঁধের ওপর দিয়ে করা যায়। মুস্তাফিজ যখন ফিরছেন, মাহমুদউল্লাহ লেগ আম্পায়ারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। আম্পায়ার ‘নো’ বলের সংকেত দেন।

এবার প্রতিবাদ লঙ্কানদের। তারা আম্পায়ারকে ঘিরে ধরেন। লেগ আম্পায়ার গিয়ে মূল আম্পায়ারের সঙ্গে আলোচনা করে ‘নো’ তুলে নেন। এবার প্রতিবাদ করেন মাহমুদউল্লাহ। মাঠের বাইরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাকিব। চতুর্থ আম্পায়ার তাকে বারবার আটকাতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছিলেন।

এর মাঝেই সাকিব ইশারা দেন দলের কম্পিউটার অ্যানালিস্টকে। তিনি রিপ্লে দেখে সাকিবকে জানান বল কাঁধের ওপর ছিল। এবার সাকিবের সঙ্গে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন দলের সবাই।

আম্পায়াররা নো বল দিতে রাজি নন। সাকিব ইশারায় দু্‌ই ব্যাটসম্যানকে ডেকে মাঠ ছেড়ে চলে আসতে বলেন। মাহমুদউল্লাহ ও রুবেল মাঠের বাইরে প্রায় চলেই গিয়েছিলেন। দুই দলের অন্য ক্রিকেটারদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। কথার লড়াই তো ছিলই, প্রায় হাতাহাতির উপক্রম। বাংলাদেশ দলের বেঞ্চে থাকা নুরুল হাসানের সঙ্গে লেগে যায় কুসল মেন্ডিসসহ লঙ্কানদের বেশ কজনের। ভরা গ্যালারি ফুটছিল তীব্র উত্তেজনায়। শব্দে কান পাতা ছিল দায়।

তখন ঠাণ্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামলান ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ। ব্যাটসম্যানদের বলেন খেলা চালিয়ে যেতে। সাকিব ক্ষোভ নিয়ে ঢুকে যান ড্রেসিং রুমে। সেখান থেকে মাহমুদউল্লাহর বীরত্বে অসাধারণ জয়।

তখন জয়ের জন্য ৪ বলে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ১২ রান। প্রথম বলে মাহমুদউল্লাহ হাঁকান চার। পরের বলে নেন দুই রান। এরপর দারুণ এক ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে নিয়ে যান রোববারের ফাইনালে। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ভারত।

ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সাকিব স্বীকার করেন, দলের অধিনায়ক হিসেবে সে সময়ে তার আরও সতর্ক থাকা দরকার ছিল। বিশ্বের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার জানান, ভবিষ্যতে তিনি এ ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন।