Published : 25 Sep 2025, 10:37 AM
ক্রিকেট, সময় ও বাস্তবতা কতটা কঠিন, ক্রিস ওকস এখন বুঝতে পারছেন ভালোভাবেই। গত অ্যাশেজে তিনি হয়েছিলেন সিরিজ-সেরা। ইংল্যান্ডের সবশেষ সিরিজে ভারতের বিপক্ষে দলের একমাত্র তিনিই খেলেছিলেন পাঁচ ম্যাচের সবকটি। অথচ তার ক্যারিয়ার এখন প্রবল অনিশ্চয়তার মোড়ে। অতি নাটকীয় কিছু না হলে এই পেস বোলিং অলরাউন্ডারের টেস্ট ক্যারিয়ার এখানেই শেষ বলে ধরে নেওয়া যায়।
চোটের কারণে আপাতত মাঠের বাইরে আছেন ওকস। এই চোট তাকে ছিটকে দিয়েছে সামনের অ্যাশেজ থেকেও। এবার ইংল্যান্ডের ছেলেদের দলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রব কি পরিষ্কার করেই জানিয়ে দিলেন, তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় একদমই নেই ওকস।
গত ৩১ জুলাই ভারতের বিপক্ষে ওভাল টেস্টের প্রথম দিনেই ফিল্ডিংয়ের সময় পড়ে গিয়ে কাঁধের হাড় নড়ে যায় ওকসের। পরে দলের প্রয়োজনে স্লিংয়ে এক হাত ঝুলিয়ে মাঠে নেমেছিলেন তিনি এক হাতেই ব্যাটিং করতে। ২২ নভেম্বর শুরু হতে যাওয়া অ্যাশেজে তার খেলা নিয়ে শঙ্কা ছিল তখন থেকেই।
সেটিই পরে সত্যি হয়েছে। সময়মতো ফিট হতে পারছেন না তিনি। গত মঙ্গলবার ঘোষিত ইংল্যান্ডের ১৬ সদস্যের স্কোয়াডে জায়গা পাননি পাঁচটি অ্যাশেজ সিরিজ ও দুটি অ্যাশেজ সফরের অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার।
আগামী অ্যাশেজ শেষ হওয়ার পর ওকসের বয়স হয়ে যাবে ৩৭। ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের জায়গা তাই ছিল। সেটিই বুধবার একরকম নিশ্চিত করে দিলেন রব কি।
‘যে কারও জন্যই এই সময়গুলো খুব কঠিন। ক্রিকেটীয় দিক থেকে, ক্রিস ওকসের জন্য যে সময়টায় এটি (কাঁধের চোট) হয়েছে এবং নিকট ভবিষ্যতে এটি আবার ফিরে আসার যে শঙ্কা আছে (তা আদর্শ নয়)।”
“অ্যাশেজের জন্য প্রস্তুত হতে তার সময় ছিল খুবই কম। এরপর অ্যাশেজে যখন সে থাকতে পারছে না, এরপর তো সত্যি বলতে পরের চক্রের (টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের) দিকে তাকাতে হয়। সেদিক থেকে বলতে, ক্রিস ওকস এই মুহূর্তে আমাদের পরিকল্পনায় নেই… একদমই।”
তাতে দুইশ উইকেটের দুয়ারেই থামতে হচ্ছে ওকসকে। ৬২ টেস্টে ১৯২ উইকেট তার। ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন পাঁচ বার, ম্যাচে ১০ উইকেট একবার। ব্যাট হাতে একটি সেঞ্চুরি ও সাত ফিফটিতে ২ হাজার ৩৪ রান করেছেন ২৫.১১ গড়ে।
২০২৩ সালের পর ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতেও আর জায়গা পাননি তিনি। সেখানেও আর ফেরার সম্ভাবনা অতি সামান্য। ওকসের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি তাই ধরে নেওয়া যায় এখানেই।
ইংল্যান্ডের অ্যাশেজ স্কোয়াডের আরেকটি আলোচিত প্রসঙ্গ অলিভার পোপের জায়গায় হ্যারি ব্রুককে সহ-অধিনায়ক করা। এটা যদিও বড় চমক নয়। সীমিত ওভারের দলের অধিনায়ক ব্রুককে ভবিষ্যৎ টেস্ট অধিনায়ক ভাবা হচ্ছে বেশ কিছুদিন ধরেই। সেই পালাবদলের প্রক্রিয়ারই অংশ এটি। রব কির ব্যাখ্যাতেও ফুটে উঠল, ব্রুককে কতটা গুরুত্ব দিয়ে দেখেন তারা।
“তার এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা আরও বেশি এবং আমার মনে হয়, এই দায়িত্ব হ্যারি ব্রুকের প্রাপ্য। সহ-অধিনায়ক হওয়ার জন্য ব্রুকই এই মুহূর্তে সেরা, এটা ছাড়া এই সিদ্ধান্তের পেছনে অন্য কোনো গোপন উদ্দেশ্য নেই।”
“আমার মনে হয়, পপি (পোপ) নিজেও বুঝতে পারছিল যে, এমন কিছু হতে যাচ্ছে। এমনিতে সহ-অধিনায়কত্ব সবসময় খুব গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত নয়। আমরা চাইলে সহ-অধিনায়ক কাউকে নাও রাখতে পারতাম। পপি যখন দায়িত্ব পালন করছিল, খুব ভালোভাবেই করেছে। গত কয়েক বছরে তাকে আমরা যা কিছু করতে বলেছি, সব ভূমিকা সে পালন করেছে এবং ভালোভাবেই করেছে। তবে এই মুহূর্তে ব্রুক শ্রেয়তর নেতা ও সামনের পথচলায় আরও ভালো হয়ে উঠবে। এজন্যই সে দায়িত্বটি পেয়েছে।”