Published : 07 Jul 2025, 05:56 PM
ব্যাট হাতে অসাধারণ পারফরম্যান্সে বাংলাদেশের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার টেস্ট সিরিজ জয়ের নায়ক পাথুম নিসাঙ্কা পেতে পারেন আরেকটি দারুণ স্বীকৃতি। আইসিসি ‘প্লেয়ার অব দা মান্থ’-এর সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছেন এই ওপেনার। জুন মাসের সেরার লড়াইয়ে তার সঙ্গী দক্ষিণ আফ্রিকার আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের দুই কারিগর এইডেন মার্করাম ও কাগিসো রাবাদা।
গত মাসের সেরার লড়াইয়ে মনোনীত পুরুষ ও নারী ক্রিকেটারদের নাম সোমবার প্রকাশ করেছে বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্তা সংস্থা। মেয়েদের সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছেন দক্ষিণ আফ্রিকার তাজমিন ব্রিটস, ওয়েস্ট ইন্ডিজের হেইলি ম্যাথিউস ও অ্যাফি ফ্লেচার।
পাথুম নিসাঙ্কা (শ্রীলঙ্কা)
দেশের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজে অবিশ্বাস্য ফর্মে ছিলেন নিসাঙ্কা। গলে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের বোলারদের ভুগিয়ে ২৩ চার ও এক ছক্কায় খেলেন ২৫৬ বলে ১৮৭ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস।
ড্র হওয়া ওই টেস্টে জোড়া সেঞ্চুরি করে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ম্যাচের সেরা হলেও, কলম্বোয় পরের টেস্টে আরেকটি দেড়শ ছোঁয়া ইনিংসে শ্রীলঙ্কার জয়ের নায়ক নিসাঙ্কা। এবার ১৯ চারে ২৫৪ বলে ১৫৮ রানের ইনিংস খেলেন ২৭ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।
ম্যাচ সেরার পাশাপাশি দুই টেস্টে মোট ৩৬৯ রান করে সিরিজ সেরার স্বীকৃতিও পান তিনি।
এইডেন মার্করাম (দক্ষিণ আফ্রিকা)
লর্ডসে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে শূন্য রানের পর, রান তাড়ায় ২০৭ বলে ১৩৬ রানের ম্যাচ জয়ী ইনিংস খেলেন মার্করাম। ২৮২ রানের লক্ষ্য ৫ উইকেট হাতে রেখে ছুঁয়ে ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকা। ২৭ বছর পর কোনো আইসিসি ট্রফি জয়ের স্বাদ পায় প্রোটিয়ারা।
দুর্দান্ত ইনিংসটির পাশাপাশি ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন মার্করাম।
কাগিসো রাবাদা (দক্ষিণ আফ্রিকা)
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে মার্করাম ব্যাটে হাতে, আর বোলিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন রাবাদা। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ২১২ রানে গুটিয়ে দিতে এই পেসার ৫ উইকেট নেন ৫১ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৯ রানে ধরেন ৪ শিকার, এবার অস্ট্রেলিয়া অলআউট হয় ২০৭ রানে।
তাজমিন ব্রিটস (দক্ষিণ আফ্রিকা)
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করেন ব্রিটস। দক্ষিণ আফ্রিকার ২-১ ব্যবধানে জেতা ওয়ানডে সিরিজে ৩ ম্যাচে ৮৭.৬১ স্ট্রাইক রেটে তিনি করেন ১৮৪ রান। তৃতীয় ওয়ানডেতে খেলেন ৯১ বলে ১০১ রানের ম্যাচ জয়ী ইনিংস।
২-১ ব্যবধানে হারা টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৩ ম্যাচে ১২২.২২ স্ট্রাইক রেটে ব্রিটসের ব্যাট থেকে আসে ১৩২ রান। প্রথমটিতে ৬৩ বলে অপরাজিত ৯৮ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলেন ৩৪ বছর বয়সী এই ওপেনার।
হেইলি ম্যাথিউস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ম্যাথিউস করেন ১০৪ রান। পাশাপাশি অফ স্পিনে ৪ উইকেট নেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক।
পরে দলের টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ে তার ছিল বড় অবদান। দুটি ফিফটিতে ১৪৭ রান করেন তিনি ১২০.৪৯ স্ট্রাইক রেটে। সঙ্গে ২টি উইকেট নিয়ে পান সিরিজ সেরার স্বীকৃতি।
অ্যাফি ফ্লেচার (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি, দুটি সিরিজেই সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন ৩৮ বছর বয়সী এই লেগ স্পিনার।
ওয়ানডে সিরিজে তার প্রাপ্তি ৮ উইকেট। এর মধ্যে দুই ম্যাচেই নেন ৭টি। এছাড়া ব্যাট হাতে করেন ৩০ রান।
জুন মাসে সব মিলিয়ে ৪ ওয়ানডেতে ৯ উইকেট শিকার করেন ফ্লেচার।
টি-টোয়েন্টি সিরিজে তিনি ৫ উইকেট নেন ওভারপ্রতি ৬.৭৫ করে রান দিয়ে।