Published : 16 Dec 2025, 10:13 AM
উসমান খাওয়াজার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার কি তবে শেষ? প্রশ্নটি এখন জোরেসোরেই উঠতে পারে। অ্যাশেজের অ্যাডিলেইড টেস্টের স্কোয়াডে ফেরানো হলেও শেষ পর্যন্ত একাদশে রাখা হলো না ৮৫ টেস্ট খেলা অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানকে। গত টেস্টে ৫ উইকেট শিকার করা মাইকেল নিসারকেও হারাতে হয়েছে জায়গা।
ব্রিজবেনে দিন-রাতের টেস্টে জয় পাওয়া একাদশ থেকে অ্যাডিলেইড টেস্টের অস্ট্রেলিয়া একাদশে পরিবর্তন দুটি। অধিনায়ক প্যাট কামিন্স ও অফ স্পিনিং গ্রেট ন্যাথান লায়ন ফিরেছেন অনুমিতভাবেই। তাদেরকে জায়গা দিতে বাদ পড়েছেন দুই পেসার নিসার ও ব্রেন্ডান ডগেট।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা অবশ্য খাওয়াজার সুযোগ না পাওয়াই। অ্যাশেজ শুরু করেছিলেন তিনি অস্ট্রেলিয়ার প্রথম পছন্দের ওপেনার হিসেবে। আরেক ওপেনার জেইক ওয়েদেরল্ডের অভিষেক হয় সিরিজের প্রথম টেস্ট দিয়ে। পার্থে সেই টেস্টে চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকায় খাওয়াজা ইনিংস শুরু করতে পারেননি। নামেন চার নম্বরে। পিঠের জড়তার কারণে দ্বিতীয় ইনিংসেও নামতে পারেননি ওপেনিংয়ে। তার বদলে ইনিংস শুরু করে অসাধারণ এক সেঞ্চুরি করেন ট্রাভিস হেড।
পিঠের সেই জড়তার কারণে দ্বিতীয় টেস্টের স্কোয়াডেই ছিলেন না খাওয়াজা। হেড ও ওয়েদেরল্ড জুটি আবারও দলকে ভালো শুরু এনে দেন।
পরে তৃতীয় টেস্টের স্কোয়াডে খাওয়াজাকে ফেরানো হয়। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, ফিট হয়ে উঠেছেন শতভাগ। গত কয়েকদিনে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে সবচেয়ে বড় আলোচনা ছিল তাকে নিয়েই। বাঁহাতি এই ওপেনারকে একাদশে রাখা হবে কি না, একাদশে ফেরানো হলে কে বাদ পড়বেন, এসব নিয়ে নানা মতামত দেন সাবেক ক্রিকেটার ও বিশেষজ্ঞরা।
হেড-ওয়েদেরল্ড জুটিকে অক্ষত রেখে খাওয়াজাকে মিডল অর্ডারে খেলানোর আলোচনাও ছিল। শেষ পর্যন্ত তাইকে বাইরেই রাখা হলো একাদশের, মিডল অর্ডারে টিকে গেলেন জশ ইংলিস।
টেস্ট শুরুর আগের দিন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স বললেন, হেড-ওয়েদেরল্ড জুটির ইতিবাচক ব্যাটিং দলকে ভালো ভিত গড়ে দিয়েছে বলেই এখানে বদল আনছেন না তারা।
“আমার মনে হয়, বড় যে ব্যাপারটি আমাদের পক্ষে এসেছে তা হলো, ট্রাভ (হেড) প্রথম টেস্টে ওপেন করার পর থেকে তার সঙ্গে ওয়েদর্সের (ওয়েদেরল্ড) জুটি যতটা ভালো হয়ে উঠেছে। আমরা এই ব্যাটিং লাইন-আপ নিয়ে বেশ খুশি। মিডল অর্ডারেও পরিবর্তন আনার প্রয়োজন অনুভব করিনি আমরা।”
“এখনও পর্যন্ত ওরা দুজন স্কোরবোর্ড সচল রাখতে পেরেছে দারুণভাবে। ওদেরকে যেটির মুখোমুখিই করা হোক না কেন, সবকিছুরই জবাব ওরা দিতে পেরেছে। আমাদের ইনিংসের প্ল্যাটফর্ম গড়ে দিয়েছে এটা।”
খাওয়াজা সেক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে শেষ ম্যাচটি খেলে ফেলেছেন, এমন ধারণা এখন খুবই স্বাভাবিক। এই টেস্ট চলার সময়ই বয়স ৩৯ হবে তার। ২০২৩ অ্যাশেজে এজবাস্টনে সেঞ্চুরির পর থেকে গত ৪৫ ইনিংসের মধ্যে তার সেঞ্চুরি স্রেফ একটি, ব্যাটিং গড় ৩১.৮৪। গত জানুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গলে ২৩২ রানের ইনিংসের পর ১১ ইনিংসে আর ফিফটি করতে পারেননি।
তার ব্যাটিংয়ের ছন্দ ও গতি বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে গত কিছুদিনে। কিন্তু খুব বেশি বিকল্প ছিল না বলে তিনিই ছিলেন দলের মূল ওপেনার। সেই চিত্র এখন পাল্টে গেছে হুট করেই।
কামিন্স অবশ্য খাওয়াজার ফেরার দুয়ার বন্ধ করে দিলেন না এখনই।
“উজির (খাওয়াজা) বড় শক্তিগুলোর একটি হলো, সে টপ অর্ডারে যেমন রান করেছে, তেমনি মিডল অর্ডারেও করেছে। সরাসরি দলে আসার মতো উপযুক্ত মনে করেছি বলেই আমরা তাকে স্কোয়াডে রেখেছি। কাজেই অবশ্যই, কোনো একটা পর্যায়ে যদি তাকে প্রয়োজন হয়, অবশ্যই তার ফেরার পথ আছে।”
অ্যাডিলেইডে তৃতীয় টেস্ট শুরু বুধবার। এই টেস্টে হার এড়াতে পারলেই অ্যাশেজ ধরে রাখা নিশ্চিত করবে অস্ট্রেলিয়া।