অ্যাশেজ
Published : 05 Jan 2026, 07:11 PM
টেস্টে ব্যাট হাতে যেভাবে দ্যুতি ছড়াচ্ছেন জো রুট, তা দেখে মন্ত্রমুগ্ধ ড্যারেন লেম্যান। সিডনিতে রুট দেড়শ ছাড়ানো ইনিংস খেলার পর অস্ট্রেলিয়ার সাবেক কোচের মনে হচ্ছে, সাচিন টেন্ডুলকারের রেকর্ড ভেঙে নিজেকে এমন উচ্চতায় তুলবেন ইংলিশ ব্যাটিং গ্রেট, যেখানে অন্য কারো পা রাখতে অনেক সময় লাগবে।
চলমান অ্যাশেজের পঞ্চম ও শেষ টেস্টের প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করেন রুট। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সোমবার ১৬০ রান করে আউট হন তিনি। ২৪২ বল ও ৩৯৮ মিনিট স্থায়ী ইনিংসে ১৫টি চার মারেন তিনি।
টেস্টে এটি রুটের ৪১তম সেঞ্চুরি। এই সংস্করণে সবচেয়ে বেশি শতক করা ব্যাটসম্যানদের তালিকায় অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি রিকি পন্টিংয়ের সঙ্গে যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে এখন তিনি। ৪৫ সেঞ্চুরি করে দ্বিতীয় স্থানে সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডারদের একজন, দক্ষিণ আফ্রিকান গ্রেট জ্যাক ক্যালিস।
৫১ সেঞ্চুরি করে রেকর্ডটি টেন্ডুলকারের। টেস্টে সবচেয়ে বেশি রানও ভারতীয় কিংবদন্তির, ১৫ হাজার ৯২১। দুটি রেকর্ডই ভাঙা খুব সম্ভব ৩৫ বছর বয়সী রুটের জন্য।
টেন্ডুলকারকে পেরিয়ে যেতে আর কেবল ১১টি সেঞ্চুরি লাগে রুটের। আর টেন্ডুলকার থেকে হাজার দুয়েক রানে পিছিয়ে আছেন তিনি। ইংল্যান্ড যে পরিমাণে টেস্ট খেলে এবং রুট যেমন পারফর্ম করে চলেছেন, তার নতুন উচ্চতায় ওঠা কেবল সময়ের ব্যাপার মনে করছেন লেম্যান।
“এটা আমি আগেও বলেছি, অস্ট্রেলিয়ায় সে একবার সেঞ্চুরি পেয়ে গেলে, পরিসংখ্যানের বিচারে সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়দের মধ্যে ব্র্যাডম্যানের পরেই থাকবে সে।”
“সে সব রেকর্ড ভেঙে দেবে। টেন্ডুলকারকে ছাড়িয়ে যাবে, অন্য যে কারো চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি করবে। আর তাকে স্পর্শ করতে (অন্যদের) অনেক সময় লাগবে, কারণ সে এখনও অনেক ফিট।”
এবারের আগে অ্যাশেজ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় তিনবার সফর করেন রুট। সেখানে ১৪ টেস্ট খেলে কোনো সেঞ্চুরি ছিল না তার। সেটি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা কম হয়নি। এবার তিনি শূন্যতা পূরণ করতে পারবেন কি না, সেটি নিয়েও ছিল তুমুল আলোচনা।
এবার পার্থে প্রথম টেস্টে আউট হন ০ ও ৮ রান করে। দ্বিতীয় টেস্টে ব্রিজবেনে অবসান হয় তার দীর্ঘ অপেক্ষায়। গোলাপি বলের দিন-রাতের টেস্টে ১৩৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। কিন্তু এরপর আবার ব্যর্থতা জেঁকে ধরে তাকে, ফিফটিও পাননি পরের পাঁচ ইনিংসে। এবার সিডনিতে এসে আরেকটি সেঞ্চুরি করলেন রুট।
চার বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় পরের অ্যাশেজ খেলতে যাবে ইংল্যান্ড। তখন রুটের বয়স হবে ৩৯। তাহলে কি অস্ট্রেলিয়ায় শেষ টেস্ট খেলছেন রুট?
সিডনিতে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে রুটকে জিজ্ঞাসা করা হয়, এটাই তার অস্ট্রেলিয়ায় শেষ টেস্ট কিনা? উত্তরে তিনি তুলে ধরেন তার ভাবনা।
“আমার মনে হয়, এটা নিয়ে একটু বেশিই ভাবছে সবাই। আমার মনে হয়েছে, এই সিরিজজুড়ে আমরা চমৎকার (দর্শকদের) সমর্থন পেয়েছি।”
“দল হিসেবে আমরা যে লক্ষ্যে এখানে এসেছিলাম, সেটা অর্জন করতে পারিনি। তবুও এক মুহূর্তেই জন্য ওই সমর্থন কমে যায়নি। এখানে যতবারই সফরে এসেছি, কখনোই আমাদের প্রতি সমর্থনের কমতি ছিল না।”
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আরেকটি অ্যাশেজ খেলার আশা আছে রুটের। তবে সেটা সময়ের হাতেই ছেড়ে দিলেন তিনি।
“কে জানে? দেখা যাক। আমি এখানে আবার আসতে চাইব, তবে ওই সময়ে পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, তখন দেখব।”