Published : 04 May 2026, 12:17 PM
সবশেষ যে টেস্ট সিরিজে খেলেছেন তাসকিন আহমেদ, সেটিতে তিনিই ছিলেন ম্যান অব দা সিরিজ। এরপর দেড় বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সাদা পোশাকে আর দেখা যায়নি তাকে। চোটাঘাত আর ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট মিলিয়ে কোনো প্রথম শ্রেণির ম্যাচেও তিনি খেলেননি এই সময়ে। তবে সেই বিরতি শেষ হওয়ার পথে। সব ঠিক থাকলে পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে আবার লাল বল হাতে ছুটবেন তিনি। ফেরার আগে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ৩১ বছর বয়সী পেসার কথা বললেন তার শরীরের অবস্থা, টেস্টে ফেরার পেছনে ভাবনা, বোলিংয়ের নানা দিকসহ প্রাসঙ্গিক আরও অনেক কিছু নিয়ে।
দেড় বছর পর টেস্টে ফিরছেন, কতটা মুখিয়ে আছেন?
তাসকিন আহমেদ: আমি আসলেই অনেক রোমাঞ্চিত। কারণ টেস্ট ক্রিকেটের একটা মজা আছে। সেই মজার একটা টান আছে। সবশেষ টেস্ট সিরিজে ম্যান অব দা সিরিজ ছিলাম। দারুণ বোলিং করেছিলাম। উইকেট পেস বোলিং সহায়ক ছিল। বোলিং করেও তৃপ্তি পেয়েছিলাম। বাংলাদেশেও স্পোর্টিং উইকেটে খেলা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।”
স্পোর্টিং কন্ডিশনে কষ্টও আছে, সুবিধাও আছে। কষ্ট হলো, ব্যাটসম্যান সেট হয়ে গেলে লম্বা ইনিংস খেলে। অনেক ওভার বোলিং করতে হয়। তবে সুবিধা হলো, সেট হওয়ার আগে তো আমার চান্স বেশি। এছাড়াও কিছু না কিছু থাকে উইকেটে (বোলারদের জন্য)। ফ্ল্যাট, ডেড পিচ হলে তো কিছু্ই পাওয়া যায় না। একটু মুভমেন্ট, বাউন্স পাওয়া গেলে আমাদের বোলিং আক্রমণের ভালো করার সম্ভাবনা বেশি। আমিও এরকম উইকেটে উপভোগ করি।
সবশেষ সিরিজে আপনি ‘ম্যান অব দ্য সিরিজ’ ছিলেন, দুর্দান্ত বোলিং করলেন। এক ইনিংসে ছয় উইকেট নিয়েছিলেন, দেশের বাইরে যা পেস বোলিংয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সেরা বোলিং। এরপর শারীরিক অবস্থার কারণে আপনাকে বিরতি নিতে হলো। এত ভালো ছন্দে থেকে টেস্ট ক্রিকেটের বাইরে যাওয়াটা কতটা হতাশার ছিল?
তাসকিন: খুব সুখকর নয় অবশ্যই (ছিটকে পড়া)। ওয়েস্ট ইন্ডিজে দুটি টেস্ট খেলেছি। পেসারদের সহায়তা থাকলেও বেশ উইকেটগুলো হার্ড উইকেট ছিল। এতে যেটা হয়েছে, আমার হিলের ইনজুরি সেখান থেকেই শুরু হয়েছে।
তার পরও টেস্ট ক্রিকেটের মজাটা অন্যরকম। বিভিন্নরকম পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়, কষ্ট হচ্ছে, হাঁপাচ্ছি, শরীর চলছে না, গা ব্যথা, তার পরও সবটুকু দিয়ে পরের ডেলিভারিটি করছি, এটিই ক্রিকেটের সৌন্দর্য, বোলিংয়ের আনন্দ। যত খুশি বোলিং করা যায়। মন ভরে বোলিং করা যায়। কখনও কখনও শরীর সায় দেয় না, তবু মজাটা অনেক। কষ্ট তো হবেই, এবারও হবে। আমার নিগলস (ছোটখাটো চোট-ব্যথা) আগের চেয়ে বেড়েছে আরও। তবে ম্যানেজ করার মতো।

আপনার বর্তমান শারীরিক অবস্থা আসলে কেমন?
তাসকিন: আমি এখন ফিট আছি। তবে নিগলস তো আছেই, সেটা ম্যানেজ করেই আমাকে খেলতে হবে। আমার বিশ্বাস, যদি ব্যথা না বাড়ে এবং এভাবে ম্যানেজ করে যেতে পারি, টেস্ট খেলে যেতে পারব।
টেস্ট খেলাটা তাহলে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হচ্ছে না?
তাসকিন: না, আমি আসলে সেভাবে ভাবছি না। ঝুঁকি তো অনেক সময় অনুশীলনেও থাকে। আমি চাই আগামী কয়েক বছর সব ফরম্যাটেই ম্যানেজ করে খেলতে। কয়েক বছর পর হয়তো সিদ্ধান্ত নেব, কোনো ফরম্যাট বাদ দেওয়া উচিত কি না। তবে এখনও আমি তিন ফরম্যাটেই খেলতে চাই।
পাকিস্তানের বিপক্ষে কি একটি টেস্টেই খেলবেন?
তাসকিন: দুটিও খেলতে পারি, যদি শরীর সাড়া দেয় ঠিকঠাক। প্রথম টেস্টের পর শরীরের অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নেব।
কখন মনে হলো টেস্টে ফেরার সময় হয়েছে আবার?
তাসকিন: কেন্দ্রীয় চুক্তির আগে নির্বাচকরা আমার সঙ্গে কথা বলেছিলেন যে, এই বছর ১০-১২টি টেস্ট আছে। আমি খেলতে ইচ্ছুক কি না বা আমার মনোভাব কী। আমি বললাম, ‘হ্যাঁ, আমি তো অবশ্যই ইচ্ছুক। তবে এটা আমার শরীরের ওপর নির্ভর করে। শরীর সায় দিলে কেন নয়!’
আমার মনে হয়েছিল, খেলতে খেলতেই বুঝতে পারব, আসলে অবস্থা কী। একদমই না খেললে তো আর বোঝা যাবে না।
মানে, নির্বাচকদের পক্ষ থেকেই ব্যাপারটি এসেছিল?
তাসকিন: হ্যাঁ, তবে নির্বাচক বা ম্যানেজমেন্ট কেউই আমার ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দেননি। তারা আমাকে খেলতে বাধ্য করেননি, বরং অপশন দিয়েছেন আমাকে, অগ্রাধিকার বিবেচনা করতে বলেছেন। তারা বলেছেন, ‘আমরা চাই তুমি টেস্ট খেলো, তবে তুমি কি ভাবছো?’ আমি বলেছি, ‘অবশ্যই, কেন নয়!’
অস্ট্রেলিয়ায় আপনার কখনও টেস্ট খেলা হয়নি। বর্তমান প্রজন্মের কেউই সেখানে টেস্ট খেলেনি। দক্ষিণ আফ্রিকায় আপনি খেলেছেন, তবে সেখানে খেলাটাও পেসারদের জন্য দারুণ ব্যাপার। এই বছর দুই জায়গাতেই সফর আছে। টেস্টে ফেরার পেছনে এই দুটি সফরের ভাবনাও কি ছিল?
তাসকিন: হ্যাঁ, এই দুটি সিরিজের কথা তো মাথায় ছিলই। দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশন কিছুটা হলেও ভালো হতে পারে (পেসারদের জন্য)। সেখানে উইকেট, কন্ডিশন, সবই সহায়ক। বাংলাদেশে প্রচণ্ড গরম, যা বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে সেটাও ঠিক আছে। একটা সময় আসবে যখন চাইলেও আর খেলতে পারব না, তাই আমি খেলার অবস্থা থাকলে আমি ‘না’ বলতে চাই না। যতক্ষণ পারব, চেষ্টা করব।
আর সত্যি বলতে, শুধু কোনোরকমে পারা নয়।। কোনোরকমে পারা বা একটু-আধটু দিয়ে খেলার জায়গা তো আর জাতীয় দল নয়! বরং দলের জন্য কার্যকর হতে সর্বোচ্চ চেষ্টাই করব।
অস্ট্রেলিয়ায় সিরিজ নিয়ে আপনি কতটা রোমাঞ্চিত? সীমিত ওভারের ক্রিকেটে সেখানে আপনি খুব ভালো করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার মাঠে টেস্ট খেলার আলাদা একটা আমেজ আছে…
তাসকিন: গোটা বিশ্বেই আমার সবচেয়ে প্রিয় জায়গাগুলোর একটি অস্ট্রেলিয়া। সেটা খেলার জন্যও, এছাড়া মাঠের ভাইরেও ভালো লাগে।
খেলার জন্য, কারণ আমার জীবনের প্রথম সফর ছিল অস্ট্রেলিয়ায় (২০১২ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে)। সেখানে আমি দলের সর্বোচ্চ উইকেট নিয়েছিলাম। অনেক স্মৃতি আছে, যা কখনও ভুলতে পারব না। পরেও যতবারই খেলেছি, ভালো করেছি। ২০১৫ বিশ্বকাপে ও ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও ভালো করেছিলাম। খুবই ভালো অভিজ্ঞতা সেখানে। অস্ট্রেলিয়ায় আমাদের শেষ টেস্ট হয়েছিল এক-দেড় যুগ আগে, তাই না?
সেখানে বাংলাদেশের শেষ টেস্ট ছিল ২০০৩ সালে!
তাসকিন: ওহ, তাহলে তো ২৩ বছর আগে! অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলার সুযোগ আমি কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে চাই না। খেলবই খেলব ইনশাল্লাহ।
প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন দল ঘোষণার পর সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, আপনাকে তারা তিন সংস্করণেই খেলাতে চান, তবে বেছে বেছে খেলাবেন। তাহলে তো আপনাকে আসলে সিরিজ বাই সিরিজ বা সিরিজের মধ্যেও ম্যাচ বাই ম্যাচ চিন্তা করতে হবে!
তাসকিন: হ্যাঁ, সিরিজ ধরে ধরে বিবেচনা করতে হবে। বোলিং ওয়ার্কলোড ও শরীরের অবস্থা বিবেচনা করে ফিজিও, ট্রেনার এবং ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে সমন্বয় করে খেলতে হবে।
যেমন নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে খেলার জন্য ফিট ছিলাম, চাইলেই খেলতে পারতাম। কিন্তু টেস্টের প্রস্তুতির জন্য বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে। অনেকদিন লাল বলে খেলা হয়নি, নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের জন্য বিসিএলের চার দিনের ম্যাচও খেলতে পারিনি। তাই অনুশীলনে লম্বা স্পেলে বল করে নিজেকে প্রস্তুত করার চেষ্টা করছি।
বোলিংয়ের প্রস্তুতি কেমন হচ্ছে? সেদিন বলছিলেন যে, ১৩ ওভার বোলিং করেছেন। এভাবেই অনেক ওভার বোলিং করে তৈরি হচ্ছেন?
তাসকিন: খারাপ না, বেশ ভালোই হচ্ছে। ভালোর কোনো শেষ নেই, সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আশা করি আমি খুব ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারব। ছন্দ ব্যাপারটি অনেকটাই শরীরের ওপর নির্ভর করে। তবে এখন পর্যন্ত বোলিং উপভোগ করছি এবং আল্লাহর রহমতে ভালোই হচ্ছে।
আপনার বোলিং দেখলে মনে হয়, আপনি এখন নিজের শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে খুব ভালো জানেন। লেংথ এখন অনেক বেশি সুনির্দিষ্ট। মনে হয় নিজের খেলাটা ভালোভাবে বুঝতে শিখেছেন। আপনি নিজে কেমন অনুভব করেন?
তাসকিন: এখন যেটা হয়, চাপের মুখে দ্রুত পরিস্থিতি বুঝতে পারাটা সহজ হয়েছে। মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকেও এই বিষয়গুলো আগের চেয়ে অনেকটা উন্নত হয়েছে। হ্যাঁ, অনেকটা ভালো হয়েছে, উন্নতি হয়েছে।
এসব আমার মনে হয় অভিজ্ঞতা থেকে আসে। দেখা গেছে যে অনেক সময় বোলিং ভালো হয়, ফলাফল ভালো হয় না। উইকেট মেলে না। অনেক সময় তেমন একটা ভালো বোলিং হয় না, কিন্তু উইকেট তিন-চারটা পেয়ে যাই। অনেক সময় হয়েছে, অসাধারণ বল করেছি, কিন্তু উইকেট পাইনি বা একটি-দুটি মোটে পেয়েছি। ক্রিকেট খেলাটাই এমন এবং এসব এখন মেনে নিতে শিখেছি।
আগে উইকেট নিয়ে ভাবতাম, এখন ভাবি না। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে যতক্ষণ নিজের কাছে বলতে পারব যে, নিজের ১১০ ভাগ দিয়েছি, এরপর আর কতটা পেলাম বা পেলাম না, এসব নিয়ে ভাবি না।

আপনার বয়স যখন কম ছিল, নবীন পেসার ছিলেন, আপনার স্বপ্ন ছিল ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বল করা। কাছাকাছি গেলেও সেটা করতে পারেননি, চোট-চোট বা নানা কারণে। এখন আপনার এক সতীর্থ ১৫০ কিলেমিটার ছাড়িয়েছেন বেশ কবার, নিয়মিতই ১৪৫-১৪৭ কিলোমিটারে বল করে। দেখতে কেমন লাগে? নিজেকে নিয়ে একটু আক্ষেপও কি হয়?
তাসকিন: সত্যি বলতে, খুবই উপভোগ করি এবং গর্ব অনুভব করি। আমাদেরই একজন, বাংলাদেশের একজন ফাস্ট বোলার, আমার ভাই, আমার টিমমেট, আমার সঙ্গে একই মাঠে ১৫০ কিলোমিটার করছে!
সবার আসলে সবকিছু করার হয় না। আমার যে স্কিল সেট আছে—রিস্ট, সিম, এগুলো ভিন্ন রকম। এসব হয়তো অনেকের নেই। আবার নাহিদ রানার যে জিনিসটা সেটা আলাদা। শারীরিকভাবে একেকজন একেকরকম।
তবে হ্যাঁ, কিন্তু জোরে বোলিং করাটা অন্যরকম ব্যাপার।। এটার মতো মজা কিছুতে হয় না। যখন রানা বল করে, ওহ! লাভলি টু সি! ওয়েস্টার্ন ব্যাটসম্যানরা আমাদের বাংলাদেশি একজন ফাস্ট বোলারকে ভয় পাচ্ছে, ওদের চোখেমুখে শঙ্কা দেখা যাচ্ছে, এগুলো দারুণ শান্তির ব্যাপার।
নাহিদ রানা যখন ছন্দে থাকে, বোলিং পার্টনারশিপ হিসেবেও তো আপনাদের জন্য কাজ অনেকটা সহজ হয়!
তাসকিন: হ্যাঁ, অনেকটা সহজ হয়। বোলিংয়ের ব্যাপারটিই এরকম, জুটি ধরে বোলিং করতে হয়। অন্য কেউ একদিন উইকেট বেশি পাবে, একদিন আমি, আরেকদিন ফিজ (মুস্তাফিজ), আরেকদিন শরিফুল। কিন্তু বোলিং পার্টনারশিপ—এই জিনিসটায় ক্রমে অনেক উন্নতি হচ্ছে।
নাহিদ রানার কোন ব্যাপারটি এমনিতে আপনার আলাদা করে চোখে পড়ে?
তাসকিন: ওর সহজাত সামর্থ্য দারুণ। প্রকৃতিগতভাবেই অনেক কিছু পেয়েছে, ওর পারিবারিক যে জিন, সেখানেই শক্তপোক্ত ব্যাপারটি আছে। ন্যাচারালি খুব ভালো অ্যাথলেট ও। যেভাবে ও বেড়ে উঠেছে, সেটাও ওকে এরকম হতে সহায়তা করেছে। আশা করি, এভাবেই চালিয়ে যেতে পারবে এবং যতটা সম্ভব চোটমুক্ত থেকে দেশকে সার্ভিস দিতে পারবে।
আপনার ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে ১৫০ কিলোমিটার হয়তো স্পর্শ করা কঠিন এখন, খুব ফিট থাকলে ১৪০ কিলোমিটার ছাড়াতে পারেন, তবে ১৩৫-১৩৭ কিলোমিটারেই বেশি দেখা যায়। যদিও গতি কমলেও অভিজ্ঞতা ও স্কিল বেড়েছে, আপনার বোলিং দেখলে মনে হয় যে, স্কিলগুলো কাজে লাগাতে পারছেন এখন…
তাসকিন: আমার মনে হয় গেম অ্যাওয়ারনেস বেড়েছে, স্কিল অবশ্যই বেড়েছে, বোলিংয়ে অনেক কিছু যোগ হয়েছে, বৈচিত্র বেড়েছে।
গেম অ্যাওয়ারনেস বড় ব্যাপার, কোন সময় কী করা যায় এবং নিয়ন্ত্রণ, এসব আগের চেয়ে ভালো হয়েছে।
গতি তো তুলতে ইচ্ছে করেই ভাই। নিগলস কম থাকলে ১৪০ তুলতেও করতে পারি। এমনিতে ১৩৫ থেকে ১৪০-এর মধ্যে থাকে, সেটাও খারাপ নয়। মানে, ম্যানেজ করা যায়। আগের চেয়ে তো উন্নতি তো হয়েছেই। তবে আমার কাছে মনে হয়, এখনও আমার সেরাটা দেওয়া বাকি। এখনও অনেক কিছু করার বাকি এবং তা আমি দিতে চাই এবং দেবই দেব।
বোলিং কোচ শন টেইটের সঙ্গে আপনার সম্পর্কটা তো বেশ ভালো মনে হয়। সম্পর্কের কথা বলার কারণ, ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলে ও পরস্পরের সম্পর্কে ধারণা জানা থাকলে কাজও ভালো হয়…
তাসকিন: শন টেইট খুবই ভালো মানুষ, খুবই বিনয়ী, সহজেই সবকিছু বলা যায়। একসময় বিপিএলে একসঙ্গে খেলেছি আমরা (চিটাগং কিংস দলে ২০১২-১৩ আসরে)।
ভালো মানুষ হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে, সহজেই আমরা তার কাছে যেতে পারি ও সবকিছু বলতে পারি। খুবই রিল্যাক্সড একজন কোচ। তার সবচেয়ে ভালো ব্যাপার যেটি, যেদিন আমাদের খারাপ যায়, যে বোলারের দিনটি ভালো যায় না, সেদিনই সবচেয়ে বেশি পাশে পাওয়া যায় তাকে। অনেক সাপোর্ট করেন।
বাংলাদেশের পেস ইউনিটের উন্নতি নিয়ে অনেক চর্চা হয়। সেখানে তো বোলিং কোচদেরও অনেক অবদান আছে! বাংলাদেশ টানা বেশ ভালো তিনজন বোলিং কোচ পেয়েছে গত কয়েক বছরে, ওটিস গিবসন, অ্যালান ডোনাল্ড এবং এখন শন টেইট। তাদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন?
তাসকিন: তিনজনই ভালো কোচ। তিনজন তিন রকমের ভালো। আমাদের জন্য তিনজনই আসলে ভালো ছিলেন বা আছেন।
ওটিস গিবসন টেকনিক্যালি, ট্যাকটিক্যালি খুব ভালো ছিলেন। অ্যালান ডোনাল্ড গ্রেট মোটিভেটর। তিনিও টেকনিক্যালি ভালো, তবে অনুপ্রাণিত করার বিশেষ ক্ষমতা তার ছিল।
শন টেইটের বিশেষ ব্যাপার যেটা, তিনি চেষ্টা করেন যতটা সাধারণভাবে শেখানো যায়। তার মূল ব্যাপারই হলো, ‘কিপ ইট সিম্পল।’ টুকটাক নানা কিছু তো বলছেনই তিনি। তবে যতক্ষণ না মনে হচ্ছে কোনো বোলারের রিদম পুরোপুরি শেষ বা এরকম কিছু, ততক্ষণ তিনি মোটেও চিন্তিত হন না।। একটি-দুটি ম্যাচ বাজে গেলে তিনি দুর্ভাবনায় পড়েন না। সবসময় বলেন যে, নিয়মিত প্রক্রিয়টা অনুসরণ করে গেলেই চলবে। এই ব্যাপারটা ভালো, বোলাররা যখন দেখে যে বোলিং কোচই রিল্যাক্সড আছেন, তখন তাদের মনের ভার কমে যায় এবং ভালোভাবে কাজ করতে উজ্জীবিত হয়।
ক্রিকেট নিয়ে প্রশ্ন আপাতত শেষ। মাঠের বাইরের একটি প্রশ্ন। আপনি তো এখন ব্যবসায়ীও! ‘প্লে’ নামের নতুন একটি পানীয় এনেছেন বাজারে। আপনি এটার সঙ্গে কীভাবে সম্পৃক্ত এবং এটা পানীয়ের ধরন কেমন?
তাসকিন: আমি যে শুধু প্রমোট করছি, তা নয়। এই বেভারেজের মালিকানাও আছে আমার, শেয়ার আছে।
তিন ফ্লেভারের বেভারেজ এটি। সবগুলিই দারুণ স্বাদের। অস্বাস্থ্যকর উপাদান নেই কিছু। স্বাদে মজার, কোয়ালিটি বানানো হচ্ছে। নতুন ব্যাপারের কথা যদি বলেন, কার্বোনেটেড বেভারেজে স্ট্রবেরি ফ্লেভারের পানীয় এটিই প্রথম বাংলাদেশে। কার্বোনেটেড বেভারেজে স্ট্রবেরি কেউ করেনি, আমার জানা মতে। হয়তো জুস আছে বা অন্যান্য কিন্তু কার্বোনেটেড বেভারেজের স্ট্রবেরি এই প্রথম। এটা বাড়তি কৌতূহলের জায়গা।
প্রমোশনের কাজে আমি ছাড়াও বিভিন্ন খেলার ও আঙিনার বেশ কজনকে বেছে নিয়েছি আমরা।
আমাদের টিমও দারুণ, এজন্য আমার বেশি ভাবতে হচ্ছে না বা আমার ক্রিকেটে কোনো প্রভাব পড়ছে না। ক্রিকেট তো সবকিছুর ওপরে। তবে মনে হলো, পাশাপাশি কিছু করতে পারলে ভালো। একটা ব্যবসা যদি দাঁড় করাতে পারি, খুবই ভালো হয়। ক্রিকেটের পরও তো বড় একটা জীবন আছে! সঙ্গে দেশকেও যদি ভালো কিছু দিতে পারি, সব কিছু মিলিয়েই এটা শুরু করেছি।
আমাদের কারখানা কুমিল্লাতে। 'প্লে' এখন পাওয়া যাচ্ছে সব জায়গায়।