Published : 07 Apr 2026, 11:20 PM
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) কমিটির প্রতিবেদনকে ত্রুটিপূর্ণ, খামখেয়ালী এবং আইনত অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে নিজেকেই বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি দাবি করেছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তার মতে, নির্বাচিত পরিচালক পর্ষদের বিলুপ্তি এবং তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ‘অ্যাড-হক কমিটি গঠন একটি ‘সাংবিধানিক অভ্যুত্থান।’
আমিনুলের নেতৃত্বে পরিচালনা পর্ষদকে এনএসসি ভেঙে দেওয়ার পর মঙ্গলবার রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এসব দাবি তোলার পাশাপাশি আইসিসির হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
আমিনুল স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়, "তথাকথিত 'তদন্ত প্রতিবেদন' প্রত্যাখ্যান এবং ৬ অক্টোবর,২০২৫-এর বিসিবি নির্বাচনে কোনো অনিয়মের কথা দ্ব্যর্থহীনভাবে অস্বীকার।"
নিজেকে তিনি 'যথাযথভাবে' নির্বাচিত বিসিবি সভাপতি দাবি করেন এবং এনএসসির কমিটির তদন্তকে 'বিদ্বেষপ্রসূত' উল্লেখ করে তিনি বলেন, "আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলছি যে, ২০২৬ সালের ৫ই এপ্রিল দাখিল করা প্রতিবেদনটি একটি ত্রুটিপূর্ণ, খামখেয়ালী এবং আইনত অগ্রহণযোগ্য দলিল, যার আইন বা বিসিবির গঠনতন্ত্রের দৃষ্টিতে কোনো ভিত্তি নেই।"
গত বিসিবি নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের দুর্নীতি, কারচুপি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ 'দ্ব্যর্থহীনভাবে' অস্বীকার করেন দেশের সাবেক এই অধিনায়ক।
আলোচিত নির্বাচনটি কঠোরভাবে বিসিবি গঠনতন্ত্র মেনেই অনুষ্ঠিত হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, " ১৫টি ক্লাব এবং তামিম ইকবালের কাউন্সিলর পদ সংক্রান্ত আপত্তিসহ উত্থাপিত আপত্তিগুলো যথাযথভাবে শোনা হয়েছে এবং ২৪-২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে আধা-বিচারিক শুনানির মাধ্যমে সমাধান করা হয়েছে। রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষী কিছু সাবেক খেলোয়াড়ের ছড়ানো 'নির্বাচন ফিক্সিং'-এর আখ্যানটি বোর্ডকে অস্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে তৈরি একটি মনগড়া কাহিনী।"
এনএসসির কমিটির প্রতিবেদনকে বাতিল দাবি করে তিনি কাঠগড়ায় দাঁড় করার যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হককে।
"বিসিবির মতো একটি স্বায়ত্তশাসিত ও স্বশাসিত ফেডারেশনের একটি সমাপ্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়া তদন্ত করার কোনো এখতিয়ার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নেই। আইসিসির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, সদস্য বোর্ডগুলোকে অবশ্যই সরকারি হস্তক্ষেপমুক্তভাবে কাজ করতে হবে। প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের উদ্যোগে শুরু হওয়া এনএসসির এই তদন্ত একটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ, কোনো আইনি প্রক্রিয়া নয়। এখতিয়ার বহির্ভুত হওয়ায় প্রতিবেদনটি বাতিল।"
তামিম ইকবালের নেতৃত্বে অ্যাডহক কমিটিকে অবৈধ দাবি করে আমিনুল বলেন, আইসিসির বিধিও ভঙ্গ করা হয়েছে এখানে। তাই বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থাটির হস্কক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
"নির্বাচিত পরিচালক পর্ষদের কথিত বিলুপ্তি এবং তামিম ইকবালের নেতৃত্বে 'অ্যাড-হক কমিটি' চাপিয়ে দেওয়া একটি সাংবিধানিক অভ্যুত্থান। এই পদক্ষেপটি অবৈধ, বিসিবি গঠনতন্ত্রে এখতিয়ার বহির্ভূত এবং সরকারি হস্তক্ষেপ সংক্রান্ত আইসিসির নিয়মের সরাসরি লঙ্ঘন। এনএসসি অধ্যাদেশে সংজ্ঞায়িত চরম পরিস্থিতি ব্যতীত কোনো নির্বাচিত সংস্থাকে বিলুপ্ত করার ক্ষমতা এনএসসির নেই, যার কোনোটিই এখানে বিদ্যমান নেই। 'অ্যাড-হক কমিটি' একটি অবৈধ সত্তা । এর কর্তৃত্বকে আমরা স্বীকৃতি দিই না এবং আইসিসিকে অবিলম্বে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এবং এই অবৈধ সংস্থাকে কাজ করতে না দেওয়ার জন্য আহ্বান জানাই আমরা।"
এই পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশের ক্রিকেট অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে এবং দেশের ক্রিকেটে আঁধার ঘনিয়ে আসবে বলে মনে করেন আমিনুল। এমনকি বাইরের দেশগুলোর দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, "আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই বুঝতে হবে যে, সরকার আমাদের ক্রিকেটীয় স্বায়ত্তশাসনের গলায় ছুরি ধরে রেখেছে।"
ক্রিকেট বোর্ডের এই অস্থিরতায় নতুন ক্রিকেটার তুলে আনার কাজ ব্যাহত হবে বলেও সতর্ক করে দেন ৫৮ বছর বয়সী সাবেক ক্রিকেটার।
"এই অস্থিতিশীলতা খেলোয়াড়দের বিকাশের জন্য একটি বিপর্যয়। সরকার রাজনীতি করায় আমাদের অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আমরা মাত্রই দেখলাম, জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে এবং শিল্প উৎপাদন সংকুচিত হয়েছে; খেলাধুলায় এই রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ আমাদের অর্থনীতি বা যুব সমাজকে কিভাবে সাহায্য করবে?
সংবাদ বিজ্ঞপ্তির 'উপসংহারে' তিনি আবার আইসিসির হস্তক্ষেপ কামনা করেন ও অ্যাডহক কমিটিকে অবৈধ দাবি করেন।
"আমরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) আমাদের নির্বাচিত বোর্ডের পবিত্রতা রক্ষায় অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানাচ্ছি। ‘অ্যাড-হক কমিটি অবৈধ। তদন্ত প্রতিবেদনটিও অবৈধ। সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী এবং একজন ঊর্ধ্বতন সিআইডি কর্মকর্তাসহ একটি নিরপেক্ষ তিন সদস্যের কমিশন দ্বারা পরিচালিত ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবরের নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে পরবর্তীতে কোনো সরকারি সংস্থা প্রশ্ন তুলতে পারে না।"
সবশেষে নিজের স্বাক্ষরের ওপরে নিজেই মোটা অক্ষরে লেখায় দাবি করেছেন, "হাইকোর্ট অন্য কোনো রায় না দেওয়া পর্যন্ত আমিনুল ইসলাম বুলবুলই বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি থাকবেন।"