Published : 19 Apr 2026, 05:33 PM
মুস্তাফিজুর রহমানের চোটের অবস্থা জিজ্ঞেস করতেই শরিফুল ইসলাম জানালেন, “উনি এখন মোটামুটি সুস্থ…।” সঙ্গে সঙ্গে পরের প্রশ্নটিও চলে আসে স্বয়ক্রিয়ভাবে, “তাহলে কি শরিফুল একাদশে থাকছেন?” টিম ম্যানেজমেন্টের কেউ থাকলে প্রশ্নটি করা যেত। শরিফুলকেই তো আর এই প্রশ্ন করা যায় না!
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে মুস্তাফিজ হাঁটুতে অস্বস্তি অনুভব করাতেই শেষ মুহূর্তে একাদশে জায়গা পান শরিফুল। ১৬ মাস পর ওয়ানডে খেলতে নেমে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দেন এই বাঁহাতি পেসার। দলের সেরা বোলার ছিলেন তিনিই। কিন্তু মুস্তাফিজ ফিট হয়ে ওঠায় এখন তারই পরের ম্যাচে খেলা নিশ্চিত নয়।
সাধারণ সমীকরণ অবশ্য বলে, মুস্তাফিজকে নিয়ে আরেকটু বাড়তি সতর্কতা দেখানো হতে পারে। সেক্ষেত্রে পেস আক্রমণ অপরিবর্তিত থাকবে দ্বিতীয় ম্যাচে। তবে সিরিজে ফেরার জন্য ম্যাচে জিততেই হবে বাংলাদেশকে। দলের সফলতম বোলারকে তাই একাদশে চাইতেও পারে টিম ম্যানেজমেন্ট। সেটি হলে বাদ পড়বে কে?
যাকেই একাদশের বাইরে রাখা হোক, তার জন্যই সেটি হবে দুর্ভাগ্যের। কিন্তু কাউকে না কাউকে বাইরে থাকতেই হবে। বাংলাদেশের পেস আক্রমণের এই বাস্তবতা চলছে কয়েক বছর ধরেই। ব্যাটিংয়ে যেখানে বিকল্প খুঁজে হয়রান হতে হয় নির্বাচকদের বা টিম ম্যানেজমেন্টকে, অনেক সময়ই সেখানে বাছাইয়ের মানদণ্ড থাকে ‘কে কম খারাপ’, পেস আক্রমণে সেখানে উল্টো চিত্র। প্রতিযোগিতা এখানে তীব্র। কাকে রেখে কাকে খেলাবে দল! কারও থাকা বা না থাকা সেখানে খুব বেশি প্রভাব ফেলে না।
শরিফুল যেমন ১৬ মাস পর ওয়ানডে ক্রিকেটে ফিরলেন এই ম্যাচ দিয়ে। গত বছর টি-টোয়েন্টিতে দেশের জার্সিতে ১৭ ম্যাচ খেললেও ওয়ানডেতে সুযোগ পাননি। দলের বাস্তবতা বোঝেন বলেই লম্বা সময় বাইরে থেকেও হতাশ হননি বলেই জানালেন তিনি।

“এখানে হতাশার কিছু নেই। যারা খেলছে, সবাই ভালো করছে এবং যারা স্কোয়াডের বাইরে আছে, তারাও ভালো ক্রিকেটার। একটা স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা আছে। আমাদের ক্রিকেটের জন্য ভালো যে, মুস্তাফিজ ভাইয়ের বদলে আমি এলাম…এরকম কোনো ক্রিকেটার ইনজুরড হলে বা স্কোয়াডের বাইরে চলে গেলে নতুন কেউ এসে যাতে ভালো করতে পারে। এটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ভালো।”
পরের ম্যাচে যদি বাদ পড়তে হয়, সেটির জন্যও তিনি প্রস্তুত। আগামী বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জনের জন্য র্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান ও রেটিং পয়েন্ট বাড়ানো এখন দলের জন্য দারুণ জরুরি। টিম ম্যানেজমেন্টের ভাবনায় তাই আস্থা রাখছেন এই পেসার।
“প্রতিটা ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ, পয়েন্টের জন্য। কাজেই এখানে সেরা দলটাই খেলবে। টিম ম্যানেজমেন্ট ওভাবেই চিন্তা করে রোটেশন করার জন্য খেললে… সবার জন্যই ভালো।”
বোলিং আক্রমণের দারুণ পারফরম্যান্সের পরও বাংলাদেশ অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত জায়গায় যেতে পারছে না বা প্রত্যাশিত ফল পাচ্ছে না ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায়। তবে ব্যাটিং ইউনিটকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন না শরিফুল।
“সত্যি বলতে, আক্ষেপের কোনো কিছু নাই। যদি আমরা হেরে যাই, আমাদের যেমন খারাপ লাগে, ব্যাটসম্যানদেরও খারাপ লাগে তো। এখানে আমরা যদি আরও একটু ভালো বোলিং করতাম, হয়তো তাদের জন্য আরও সহজ হতো।”
“পরের ম্যাচে আশা করি ব্যাটসম্যানরা খুব ভালো করবে, আমাদের সাপোর্ট দেবে, আমরাও তাদের সাপোর্ট দেব এবং দলগতভাবে আমরা ম্যাচ জিতিয়ে আনব। ক্রিকেট খেলায় এরকম হয়ই, এক ইউনিট ভালো করে, অন্য ইউনিট একটু ব্যর্থ হয়। আমরা আশাবাদী যে পরের ম্যাচে ভালো করব।”