কোহলি-রোহিতদের নিয়ে গাম্ভিরকে ‘কঠিন সিদ্ধান্ত’ নিতে বললেন কুম্বলে
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শেষেই ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপের দল গোছানো শুরু করা উচিত বলে মনে করেন ভারতীয় কিংবদন্তি আনিল কুম্বলে।
আলোচনাপর্বটি ছিল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতের প্রথম ম্যাচ নিয়ে। আনিল কুম্বলে সেখানে ছবি আঁকলেন আরও বড় ক্যানভাসে। এই আসর ছাড়িয়ে তিনি তাকাচ্ছেন দুই বছর পরের বিশ্বকাপে। ভারতের কিংবদন্তি স্পিনার ও সাবেক এই কোচের মতে, ২০২৭ বিশ্বকাপের জন্য ভারতের দল গোছানো উচিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শেষেই।
দল গোছানোর সেই পালায় বড় অনুসঙ্গ সিনিয়র ক্রিকেটারদের ভাগ্য নির্ধারণ। কুম্বলের মতে, তরুণদের নিয়ে দল সাজিয়ে তোলার উপযুক্ত সময় এখনই। সিনিয়রদের বিদায় বলার কঠিন সিদ্ধান্তটি তিনি নিতে বলছেন ভারতের কোচ গৌতাম গাম্ভিরকে।
সিনিয়রদের মধ্যে ২০২৭ বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে সংশয় আছে ৩৭ বছর বয়সী রোহিত শার্মা ও ৩৬ বছর বয়সী ভিরাট কোহলিকে ঘিরে। ৩৬ বছর বয়সী রাভিন্দ্রা জদেজাকেও রাখা যায় এই তালিকায়। এছাড়া লোকেশ রাহুলের বয়স এখন ৩২, মোহাম্মদ শামির ৩৪।
ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোর ম্যাচডে শো-তে কুম্বলে বললেন, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারত সাফল্য পাক বা না পাক, এখনই তাকানো উচিত আগামী বিশ্বকাপে।
“এটা বলতে পারেন যে, কোচের জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি টুর্নামেন্ট, ‘লেগ্যাসি’ ক্রিকেটারদের থেকে অন্য ক্রিকেটারদের দিকে পালাবদলের কঠিন সিদ্ধান্তগুলো যাকে নিতে হবে। কাজটা সহজ নয়। তবে কোচের দায়িত্ব এটি, ওই কঠিন সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া।”
“এই টুর্নামেন্টই হয়তো ঠিক করে দিতে পারে, ওই সিনিয়র ক্রিকেটাররা কোন পথে এগোবে এবং পরিবর্তনগুলোর দিকে ভারতীয় দল কীভাবে তাকাবে। দল জিতুক বা হারুক, যতটা দ্রুত সম্ভব ওই কঠিন সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া উচিত। সাদা বলের ক্রিকেটে সামনের দিকে তাকানো উচিত এখনই, বিশেষ করে চোখ রা উচিত ২০২৭ বিশ্বকাপে।”
দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় আগামী বিশ্বকাপ হবে ২০২৭ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে। আপাতদৃষ্টিতে তাই এখনও সময় আছে বেশ। তবে কুম্বলের মতে, বিশ্বকাপের জন্য দলকে প্রস্তুত করে তুলতে একসঙ্গে যথেষ্ট ম্যাচ খেলানো উচিত।
“যে কোনো বিশ্বকাপের জন্যই এমন একটি স্কোয়াড গড়ে তোলা উচিত, যারা একসঙ্গে অন্তত ২০-২৫টি ম্যাচ খেলেছে। ম্যাচ পরিস্থিতির সূক্ষ্ন বিষয়গুলো এবং কার ওপর নির্ভরতা থাকবে, এমব খুঁটিনাটি বোঝা যায় তখনই।”
“উপযুক্তভাবে দেখলে, এই টুর্নামেন্টের পরই আগামী বিশ্বকাপের কথা ভাবনায় আনা উচিত। সিনিয়ররা কি ওই বিশ্বকাপে থাকবে? নাকি সংক্ষিপ্ত সংস্করণগুলোয় তরুণদের সুযোগ দিয়ে দলকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে ও শক্তিশালী একটি ইউনিট গড়ে তোলা হবে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজা জরুরি গাম্ভিরের।”
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভারতের পালাবদলটা শুরু হয়ে গেছে অবশ্য গত বছর বিশ্বকাপ জয়ের পরই। রোহিত-কোহলি-জাদেজারা অবসরে গেছেন এই সংস্করণ থেকে। তরুণদের নিয়ে গড়া দল ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলে নজর কেড়েছে বেশ। গাম্ভিরের কোচ হওয়ার পর ১৬টি টি-টোয়েন্টিতে জিতেছে ভারত, হেরেছে স্রেফ ২টি।
অন্যান্য সংস্করণে তার কোচিংয়ে দলের পারফরম্যান্স এখনও পর্যন্ত নাজুক। ২৭ বছরের মধ্যে প্রথমবার শ্রীলঙ্কায় ওয়ানডে সিরিজ হেরেছে তারা গত অগাস্টে। পরে দেশের মাঠে নিউ জিল্যান্ডের কাছে টেস্ট সিরিজে হেরেছ ৩-০ ব্যবধানে। অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে খুইয়ে এসেছ বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি।
কুম্বলের মতে, ওয়ানডেতেও তরুণদের ওপর ভরসা রেখে তাদেরকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া উচিত।
“তরতাজা ও তরুণ একটি দল তার (গাম্ভিরের) আছে এবং ভবিষ্যতের দল গড়ে তোলার জন্য প্রচুর বিকল্প তার হাতে আছে। তার উচিত, গঠনমূলকভাবে ২০২৭ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করা। টি-টোয়েন্টিতে তার তরুণ দল ভালো করছে। সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ দারুণ নেতৃত্ব দিচ্ছে। আগামী বিশ্বকাপের আর দুই বছর বাকি আছে এবং ব্যাটিং অর্ডার, ম্যাচ পরিস্থিতি ও কৌশলের মতো অনেক কিছু ভালোভাবে বোঝার জন্য নতুন ক্রিকেটারদের পরস্পরের সঙ্গে ম্যাচ খেলা প্রয়োজন ধারাবাহিকভাবে।”
