Published : 06 Jun 2026, 12:12 PM
স্কোয়াডে আফগানিস্তানের ক্রিকেটার রাখতে হবে চারজন এবং আয়ারল্যান্ডের একজন। একাদশে রাখতে হবে আফগানিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে অন্তত দুজন করে এবং সহযোগী দেশগুলি থেকে একজন ক্রিকেটার। আইএল টি-টোয়েন্টিতে নতুন এই নিয়ম চালু করা হচ্ছে, যা নিয়ে প্রবলভাবেই প্রশ্ন তুলেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো।
গত মাসে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর কাছে পাঠানো ‘প্লেয়ার কন্ট্রাক্ট মডেল’ ডকুমেন্টের অংশ ছিল এই শর্তগুলো। ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফো জানতে পেরেছে যে, ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজিই নতুন নিয়মগুলোর তীব্র সমালোচনা করেছে এবং তারা কর্তৃপক্ষকে চিঠি লিখে তা জানিয়েছে।
তবে, জানা গেছে যে, আইএল টি-টোয়েন্টি কর্তৃপক্ষ ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে জানিয়েছে যে, তারা টুর্নামেন্টের পঞ্চম মৌসুমের জন্য নতুন নিয়মগুলো নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী ২২ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে এই আসর।
ইএসপিএনক্রিকইনফোর হাতে আসা ‘প্লেয়ার কন্ট্রাক্টিং মডেল’ নথিতে জানানো হয়েছে যে, স্কোয়াডে সর্বনিম্ন ২১ এবং সর্বোচ্চ ২৩ জন ক্রিকেটার থাকলেও, দলগুলোকে স্কোয়াড গঠনের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত ন্যূনতম শর্তগুলোও পূরণ করতে হবে: ১২টি পূর্ণ সদস্য দেশ থেকে ১১ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে চারজন (যাদের মধ্যে অন্তত একজন আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ক্রিকেটার এবং অন্তত একজন অনূর্ধ্ব-২৩ ক্রিকেটার থাকতে হবে), উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) ছয়টি দেশ (সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, ওমান, কাতার, বাহরাইন) থেকে দুজন এবং সহযোগী দেশ (সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব বা কুয়েত ছাড়া) থেকে একজন ক্রিকেটার।
আইএল টি-টোয়েন্টি কর্তৃপক্ষ ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে জানিয়েছে যে, এই ন্যূনতম শর্তগুলো ‘বাধ্যতামূলক খেলোয়াড়’ বিভাগের অংশ।
জানা গেছে, টুর্নামেন্টের প্রথম চারটি মৌসুমে যথেষ্ট ক্রিকেটার না পাওয়ার উদ্বেগের প্রতিক্রিয়ায় নতুন নিয়মকানুনগুলোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই উদ্বেগ মূলত এসএ টোয়েন্টি এবং বিবিএলসহ অন্যান্য টি-টোয়েন্টি লিগের সঙ্গে সূচির সংঘাতের কারণে তৈরি হয়েছিল। যদিও গত মৌসুমে আইএলটি-টোয়েন্টির সঙ্গে এসএ টোয়েন্টির কোনো সংঘাত ছিল না এবং এ বছরের শেষের দিকেও তা-ই হবে, তবে এটি অল্প সময়ের জন্য বিবিএলের সমান্তরালে চলবে।
জানা গেছে, আইএল টি-টোয়েন্টি কর্তৃপক্ষ উদ্বিগ্ন যে, ভবিষ্যতে আরও পূর্ণ সদস্য দেশ যদি তাদের ক্রিকেটারদের অনাপত্তিপত্র না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে এটি এই টুর্নামেন্টকে প্রভাবিত করবে। এমনিতেই মানসম্পন্ন ক্রিকেটার পেতে লড়াই করছে এই টুর্নামেন্ট। পূর্ণ সদস্য দেশগুলো থেকে বিপুল সংখ্যক ক্রিকেটার হারানোর ঝুঁকি এড়াতে, জানা গেছে যে, আইএল টি-টোয়েন্টি কর্তৃপক্ষ এর মধ্যেই আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এবং ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছেছে এই লিগে খেলার অনুমতি দেওয়ার জন্য।
ক্রিকেটারদের এই টুর্নামেন্টে খেলার অনুমতি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি আদায়ের জন্য কোনো পূর্ণ সদস্য বোর্ডের সঙ্গে কথা বলার ঘটনা আইএল টি-টোয়েন্টির জন্য এারই প্রথম নয়। জানা গেছে যে, ২০২২ সালে উদ্বোধনী মৌসুমের আগে, ক্যারিবীয় ক্রিকটা খেলোয়াড়দের অনাপত্তিপত্র প্রদান এবং এটিকে তাদের পছন্দের টি-টোয়েন্টি লিগ হিসেবে গণ্য করার জন্য ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছেছিল। কিন্তু সেই চুক্তিতে আইএল টি-টোয়েন্টিতে কতজন ক্রিকেটারকে খেলার অনুমতি দেওয়া হবে, তা নিয়ে কোনো শর্ত ছিল না।
ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজিই নতুন শর্তাবলী নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের একটি প্রধান আশঙ্কা হলো, যদি প্রতিষ্ঠিত দেশগুলোর শীর্ষ ক্রিকেটাররা কাঙ্ক্ষিত পারিশ্রমিক না পান এবং এখানে খেলতে না চান, তাহলে তাদের দল নিম্নমানের হয়ে পড়বে। ইএসপিএনক্রিকইনফোর সঙ্গে কথা বলা কর্মকর্তারা বলেছেন যে, সেরা একাদশ বাছাই করার বা নিজেদের পছন্দমতো খেলোয়াড় নিয়োগ করার স্বাধীনতা তাদের থাকবে না।
আইএল টি-টোয়েন্টি সেই তিনটি টি-টোয়েন্টি লিগের মধ্যে একটি, যেখানে আইসিসি নির্ধারিত চারজনের বেশি বিদেশি ক্রিকেটার একাদশে সুযোগ পান। ২০২৫-২৬ মৌসুম পর্যন্ত এখানে দুজন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রিকেটারসহ ৯ জন বিদেশি খেলোয়াড় খেলার অনুমতি ছিল। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো উল্লেখ করেছে যে, ভবিষ্যতে টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ যদি অন্য কোনো দেশের সঙ্গে একই ধরনের চুক্তি করে, তবে এই নতুন বাধ্যতামূলক নিয়মগুলো একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করতে পারে।
ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্মকর্তারা মনে করেন, নতুন নিয়মগুলো তাদের কাছে পাঠানোর আগে কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল তাদের সঙ্গে পরামর্শ করা। একাধিক ব্যক্তি পরামর্শ দিয়েছেন যে, এই টুর্নামেন্ট অনেক কিছু সঠিকভাবে করছে, যার মধ্যে রয়েছে এই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের ক্রিকেটারদের খেলার সুযোগ দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের একটি একক টি-টোয়েন্টি লিগ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা। সেই অনুযায়ী, অদূর ভবিষ্যতে উপসাগরীয় অঞ্চলে একাধিক বিচ্ছিন্ন টি-টোয়েন্টি লিগ না থেকে আইএল টি-টোয়েন্টি একটি কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে।
ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো আরও বলেছে যে, যদিও তারা বুঝতে পারছে, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে পূর্ণ সদস্য দেশগুলো থেকে ক্রিকেটারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হচ্ছে, তবুও শেষ পর্যন্ত অনেকেই খেলবেন না এবং তা তাদের সীমিত বাজেটকে আরও কমিয়ে দেবে।