Published : 12 Jan 2026, 12:31 AM
বৃষ্টির কারণে দেরিতে শুরু হওয়া ম্যাচ নেমে এলো ১২ ওভারে। শেষের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে শ্রীলঙ্কাকে দেড়শ ছাড়ানো পুঁজি এনে দিলেন অধিনায়ক দাসুন শানাকা। বল হাতে দুই দফায় ওভারে জোড়া শিকার ধরলেন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। পাকিস্তানকে হারিয়ে সমতায় সিরিজ শেষ করল লঙ্কানরা।
তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষটিতে শ্রীলঙ্কার জয় ১৪ রানে। প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের জয়ের পর দ্বিতীয়টি বৃষ্টিতে ভেসে যায়।
ডাম্বুলায় রোববার ১২ ওভারে শ্রীলঙ্কা করে ১৬০ রান। জবাবে ১৪৬ পর্যন্ত যেতে পারে পাকিস্তান।
১৩ বছরের বেশি সময় পর ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে পাকিস্তানকে হারাতে পারল শ্রীলঙ্কা। সবশেষ ২০১২ সালের অক্টোবরে কলম্বোয় জিতেছিল তারা ১৬ রানে। এই দুটির মাঝে দেশটিতে দুই দলের ফল হওয়া তিন ম্যাচের সবকটিতে জয় পায় পাকিস্তান।
ছয় নম্বরে নেমে ৫ ছক্কায় ৯ বলে ৩৪ রান করেন শানাকা। ৩৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ‘ম্যান অব দা ম্যাচ’ লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার হাসারাঙ্গা।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ওভারে পাথুম নিসাঙ্কাকে হারায় শ্রীলঙ্কা। আরেক ওপেনার কামিল মিশারা ৩ চার ও এক ছক্কায় ৮ বলে ২০ রান করে আউট হন পরের ওভারে।
৪টি চারে ১৫ বলে ২২ রান করেন ধানাঞ্জায়া ডি সিলভা। কুসাল মেন্ডিসের রান ছিল একপর্যায়ে ৯ বলে ৯। পরে জ্বলে উঠে ২টি করে চার ও ছক্কায় ১৬ বলে ৩০ রান করেন তিনি।
সাবেক অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কা ফেরেন ১৩ বলে ২১ রান করে। সেখান থেকে শানাকা ও জানিথ লিয়ানাগের ১৫ বলে ৫২ রানের বিস্ফোরক জুটিতে দেড়শ ছাড়ায় লঙ্কানদের স্কোর।
শেষ ওভারে মোহাম্মদ ওয়াসিমের প্রথম তিন বলে তিন ছক্কা মেরে বিদায় নেন শানাকা। ৩ চার ও এক ছক্কায় ৮ বলে ২২ রানে অপরাজিত থাকেন লিয়ানাগে।
শেষ ওভারে ২৪ ও শেষ ৬ ওভারে আসে ৯৮ রান!
রান তাড়ায় শুরুতেই সাহিবজাদা ফারহানকে হারায় পাকিস্তান। দ্বিতীয় উইকেটে সাইম আইয়ুবের সঙ্গে ১৪ বলে ৫১ রানের জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন সালমান আলি আগা।
৫ চার ও ৩ ছক্কায় ১২ বলে ৪৫ রান করেন পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান। সাইম ও উসমান খান ভালো করতে পারেনি। পঞ্চম ওভারে তাদের বিদায় করেন হাসারাঙ্গা।
১ উইকেটে ৬০ থেকে দ্রুতই পাকিস্তানের স্কোর হয়ে যায় ৪ উইকেটে ৬৭।
সেখান থেকে আশা জাগান মোহাম্মদ নাওয়াজ ও অভিষিক্ত খাওয়াজা নাফে। ২৬ বলে ৪৯ রানের জুটি গড়েন তারা।
শেষ ১৮ বলে পাকিস্তানের দরকার ছিল ৪৫ রান। দশম ওভারের প্রথম বলেই নাফেকে (১৫ বলে ২৬) ফিরিয়ে মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠা জুটি ভাঙেন হাসারাঙ্গা। এই ওভারে ১৫ রান দিলেও শাদাব খানের উইকেটও নেন তিনি।
পরের ওভারে নাওয়াজকে (১৫ বলে ২৮) বোল্ড করে দেন মাথিশা পাথিরানা।
শেষ ওভারে ২০ রানের প্রয়োজনে প্রথম বলে রান আউটে কাটা পড়েন ফাহিম আশরাফ। চারটি ওয়াইডের পরও এই ওভারে মাত্র ৫ রান দেন ইসান মালিঙ্গা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
শ্রীলঙ্কা: ১২ ওভারে ১৬০/৬ (নিসাঙ্কা ০, মিশারা ২০, মেন্ডিস ৩০, ধানাঞ্জায়া ২২, আসালাঙ্কা ২১, শানাকা ৩৪, লিয়ানাগে ২২*, হাসারাঙ্গা ১*; নাসিম ৩-০-৩৫-১, ওয়াসিম ৩-০-৫৪-৩, আবরার ২-০-২২-০, শাদাব ২-০-১৯-০, নাওয়াজ ১-০-৮-১, ফাহিম ১-০-১৯-১)
পাকিস্তান: ১২ ওভারে ১৪৬/৮ (সাহিবজাদা ৯, সাইম ৬, সালমান ৪৫, উসমান ১, নাওয়াজ ২৮, নাফে ২৬, শাদাব ৬, ফাহিম ৯, ওয়াসিম ৭*, নাসিম ১*; থিকশানা ২-০-২৭-০, মালিঙ্গা ২-০-২৭-১, পাথিরানা ৩-০-৩৪-২, হাসারাঙ্গা ৩-০-৩৫-৪, ধানাঞ্জায়া ২-০-২২-০)
ফল: শ্রীলঙ্কা ১৪ রানে জয়ী
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ
ম্যান অব দা ম্যাচ: ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা
ম্যান অব দা সিরিজ: ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা