Published : 11 Aug 2025, 10:24 AM
অস্ট্রেলিয়ার কাছে টানা ৮ ম্যাচ হারার পর পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে পরাজয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটে যেন ঘোর অমানিশা। বিপর্যয় কাটানোর পথ খুঁজতে জরুরি এক ‘স্ট্র্যাটেজিক মিটিং’ ডেকেছে ক্যারিবিয়ান বোর্ড। ক্লাইভ লয়েড, ভিভ রিচার্ডস, ডেসমন্ড হেইন্স, শিবনারাইন চান্দারপলের মতো গ্রেটদের সঙ্গে এখনকার দলের সিনিয়র ক্রিকেটার ও কোচরা থাকছেন সেই সভায়। ত্রিনিদাদে হোটেলে যেদিন সভার প্রথম দিন, মাঠে অবশ্য সেদিন ধরা দিল স্বস্তির এক জয়।
বৃষ্টিবিঘ্নিত দ্বিতীয় ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে সমতা ফেরাল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ত্রিনিদাদে রোববার বৃষ্টিতে দফায় দফায় বিরতি পড়া পাকিস্তানের ইনিংস শেষ পর্যন্ত থামে ৩৭ ওভারে ১৭১ রান তুলে। ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৫ ওভারে ১৮১। ম্যাজ জিতে নেয় তারা ১০ বল বাকি রেখে।
বল হাতে একটি উইকেটের পর ৪৯ রানের অপরাজিত ইনিংসে ম্যাচের সেরা রোস্টন চেইস। সেরার স্বীকৃতি পেতে পারতেন দারুণ বোলিংয়ে ৩ উইকেট নেওয়া পেসার জেডেন সিলসও।
ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে রান তাড়ায় ক্যারিবিয়ানরা দুই ওপেনার ব্র্যান্ডন কিং (১) ও এভিন লুইসকে (৭) হারায় দ্রুতই। একাদশে ফেরা হাসান আলির বলে দুজনই ধরা পড়েন কিপারের হাতে।
তিনে নামা কেসি কার্টি ক্রিজে নেমে যেন গভীর সমুদ্রে পড়ে যান। প্রথম ২৬ বলে কেবল তিনটি সিঙ্গল ছাড়া আর কোনো রান ছিল না তার! শেষ পর্যনত ৪২ বলে ১৬ করে তিনি বোল্ড হন আবরার আহমেদের গুগলিতে।
সেই সময় রান বাড়ানোর কাজটি করছিলেন মূলত শেই হোপ। তবে রান তাড়া সত্যিকারের গতি পায় শেরফেন রাদারফোর্ডের ব্যাটে। দুজনের জুটিতে ৫৪ রান আসে ৪০ বলেই।
৩৫ বলে ৩২ করে ফেরেন হোপ। ৩৩ বলে ৪৫ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন রাদারফোর্ড।
এই দুজনকেই ফেরান মোহাম্মাদ নাওয়াজ। বাঁহাতি এই স্পিনারের সঙ্গে লেগ স্পিনার আবরারের বোলিংয়ের সময়টায় ম্যাচে সম্ভাবনা জিইয়ে রেখেছিল পাকিস্তান। কিন্তু ম্যাচ হাতছাড়া করে তারা পঞ্চম বোলারের ব্যর্থতায়। দুই স্পিনিং অলরাউন্ডার সাইম আইয়ুব ও সালমান আলি আগার ওপর চড়াও হয়ে দ্রুত রান বাড়ান ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানরা। পরে মূল পেসাররা আক্রমণে ফিরেও সুবিধা করতে পারেননি।

ষষ্ঠ উইকেটে কার্যকর ব্যাটিংয়ে ম্যাচ শেষ করে দেন রোস্টন চেইস ও জাস্টিন গ্রেভস। ৭২ বলে ৭৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন দুজন।
৪৭ বলে ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন চেইস, দলে ফেরা গ্রেভস করেন ৩১ বলে ২৬।
ম্যাচের প্রথম ভাগে পাকিস্তান ব্যাটিংয়ে নামে টস হেরে। সাইম আইয়ুব ও আব্দুল্লাহ শাফিক ৩৭ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়লেও ইনিংস গতিময় করতে পারেননি। দুজনই কয়েকটি বাউন্ডারি আদায় করেন, কিন্তু সিঙ্গল নিতেই পারছিলেন না। পাকিস্তানের প্রথম ১০ ওভারে সিঙ্গল ছিল স্রেফ ৫টি!
টানা ৯ বলে রান নিতে না পেরে শেষ পর্যন্ত সাইম ফেরেন ২৩ রানে। তাকে ফেরানোর পর ওই ওভারেই দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বাবর আজমকে শূন্যতে বোল্ড করে দেন সিলস।
শাফিককে ২৬ রানে ফিরিয়ে প্রথম ওয়ানডে উইকেটের স্বাদ পান বাঁহাতি পেসা জেডিয়াহ ব্লেডস।
মোহাম্মাদ রিজওয়ান নামার পর যেন আরও থমকে যায় ইনিংস। প্রথম ২৩ বলে কেবল ৪ রান করতে পারেন পাকিস্তান অধিনায়ক। পরেও আর সুবিধা করতে পারেননি তিনি (৩৮ বলে ১৬)। ব্যর্থ হন সালমান আলি আগাও (৯)।
প্রথম ম্যাচের দুই নায়ক হুসাইন তালাত ও হাসান নাওয়াজের ব্যাটেই কেবল যা একটু বাড়ে ইনিংসের গতি ও রান।
৩২ বলে ৩১ করে ফেরেন তালাত। অভিষেকে অপরাজিত ৬৩ করে ম্যাচ-সেরা হওয়া নাওয়াজ এবার অপরাজিত থাকেন ৩০ বলে ৩৬ করে। শেষ দিকে শাহিন শাহ আফ্রিদির একটি ছক্কা ও শেষ ওভরে নাওয়াজের দুই ছক্কায় ১৭০ পেরোতে পারে পাকিস্তান।
তবে যা যথেষ্ট হয়নি জয়ের জন্য। ২০১৯ বিশ্বকাপের পর ওয়ানডেতে প্রথমবার পাকিস্তানকে হারাতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ একই মাঠে মঙ্গলবার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান: ৩৭ ওভারে ১৭১/৭ (সাইম ২৩, শাফিক ২৬, বাবর ০, রিজওয়ান ১৬, তালাত ৩১, সালমান ৯, হাসান নাওয়াজ ৩৬*, মোহাম্মাদ নাওয়াজ ৫, আফ্রিদি ১১*; সিলস ৭-২-২৩-৩, ব্লেডস ৭-০-৪৬-১, শামার ৭-১-২৭-১, মোটি ৮-০-৩১-১, গ্রেভস ২-০-১৬-০, চেইস ৬-০-২৬-১)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: (লক্ষ্য ৩৫ ওভারে ১৮১) ৩৩.২ ওভারে ১৮৪/৫ (কিং ১, লুইস ৭, কার্টি ১৬, হোপ ৩২, রাদারফোর্ড ৪৫, চেইস ৪৯*, গ্রেভস ২৬*; আফ্রিদি ৬-০-৩৫-০, হাসান ৬.২-০-৩৫-২, আবরার ৭-০-২৩-১, মোহাম্মাদ নাওয়াজ ৭-০-১৭-০, সাইম ৪-০-৩৩-০, সালমান ৩-০-৩৩-০)।
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৫ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: ৩ ম্যাচ পাকিস্তান ১-১ সমতা।
ম্যান অব দা ম্যাচ: রোস্টন হেইস।