০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

শেষ ওভারে দুটি ক্যাচ ছেড়ে নাটকীয় পরাজয়ে হোয়াইটওয়াশড বাংলাদেশ

জয় নাগালে পেয়েও শেষ পর্যন্ত নিজেদের ভুলে হেরে গেল বাংলাদেশ, রোমাঞ্চকর জয়ে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতল আয়ারল্যান্ড।

শেষ ওভারে দুটি ক্যাচ ছেড়ে নাটকীয় পরাজয়ে হোয়াইটওয়াশড বাংলাদেশ
সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপন করছেন জান্নাতুল ফেরদৌস, কিন্তু শেষে গিয়ে ক্যাচ নিতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। ছবি: বিসিবি।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Dec 2024, 07:03 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:25 PM

জয়ের জন্য ৫ বলে তখন আয়ারল্যান্ডের প্রয়োজন ১৪ রান। স্বর্ণা আক্তারের ফুল টস বলে টাইমিং করতে পারলেন না লরা ডেলানি। কিন্ত লং অফে সহজ ক্যাচ নিতে পারলেন না রিতু মনি। উল্টো রান হলো দুটি। পরের দুই বলে দারুণ দুটি শটে চার মারলেন জীবন পাওয়া সেই ডেলানি। বাংলাদেশের সুযোগ এলো আরেকটি। ২ বলে যখন প্রয়োজন ৪ রান, আবার ডেলানির টাইমিংয়ে গড়বড়। কিন্তু লং অফে এবার বলের ফ্লাইট বুঝতে পারলেন না জান্নাতুল ফেরদৌস।

যেটি হওয়ার কথা আউট, সেটিই ফিল্ডারের পেছন দিয়ে হয়ে গেল চার। ম্যাচটাও বেরিয়ে গেল বাংলাদেশের মুঠো থেকে। শেষ টি-টোয়েন্টিতে ৪ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয়ে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিল আয়ারল্যান্ড। 

আইরিশদের জন্য এটি মধুর এক প্রতিশোধও। মিরপুরে ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশড হয়েছিল তারা, সিলেটে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশড বাংলাদেশ।

সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে সোমবার যথারীতি বাংলাদেশের ব্যাটিং ছিল হতাশাজনক। যে দলের রান ছুটছিল দেড়শর পথে, শেষ দিকে পথ হারিয়ে সেই দল আটকে যায় স্রেফ ১২৩ রানে।

রান তাড়ায় একসময় অনায়াসেই এগোচ্ছিল আয়ারল্যান্ড। বাংলাদেশ পরে ঘুরে দাঁড়ায় দারুণভাবে। কিন্তু শেষ ওভারে দুটি ক্যাচ হাতছাড়া করে ম্যাচও বেরিয়ে যায়।

শেষ ওভারে আয়ারল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ১৫ রান। নারী ক্রিকেটের বাস্তবতায় কাজটা খুবই কঠিন। আগের দুই ওভারে ৯ রান দেওয়া লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার স্বর্ণার ওপর শেষের ভার দেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা। প্রথম বলে দ্বিতীয় রান নেওয়ার চেষ্টায় রান আউট হয়ে যান আর্লিন কেলি। 

পরের বলে জীবন পেয়ে দুটি রানও পান ডেলানি।

তৃতীয় বলে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে বোলারের মাথায় ওপর দিয়ে চার মারেন তিনি। পরের বলটি আবার ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে দারুণ শটে কাভার দিয়ে চার মারেন অভিজ্ঞ আইরিশ ব্যাটার। 

বাংলাদেশের সম্ভাবনা জিইয়ে ছিল এরপরও। কিন্তু পঞ্চম বলে আবার জীবন পেয়ে ডেলানির বাউন্ডারিতে নাটকীয় জয়ের আনন্দে মেতে ওঠে আইরিশরা। ওই ডেলিভারির আগে লং অফ থেকে রিতু মনিকে সরিয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসকে আনা হয়। ক্যাচ নিতে পারেননি অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে দীর্ঘদিন ধরে খেলা এই ক্রিকেটারও। 

আইরিশদের রান তাড়ার শুরুটাও ছিল দারুণ। পাওয়ার প্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪৭ রান তোলে এমি হান্টার ও গ্যাবি লুইস। 

২৪ বলে ২৮ রান করে হান্টারের বিদায়ে ভাঙে ৫৫ রানের উদ্বোধনী জুটি। পরের ওভারে আইরিশ অধিনায়ক গ্যাবি লুইসকে বিদায় করেন লেগ স্পিনার রাবেয়া খান। 

এরপর রান আটকে ও দ্রুত আরও উইকেট নিয়ে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে ঝড় তোলা লিয়া পল এবার শূন্যতেই রান আউট হন মুর্শিদা খাতুনের থ্রোয়ে। আইরিশদের বড় ভরসা ওর্লা প্রেন্ডারগাস্ট ১১ রান করে সীমানায় ধরা পড়েন রাবেয়ার বলে। 

১৫ রানের মধ্যে ৪ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ।

ডেলানি ও রেবেকা স্টোকেল সেখান থেকে জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নেন কিছুটা। তবে রান রেটের চাপ বাড়ছিলই। দুই ওভারে যখন প্রয়োজন ২১ রান, নাহিদার বলে বোল্ড হয়ে যান স্টোকেল। ১৯ রান করতে ২২ বল খেলেন তিনি। 

নাহিদার ওই ওভার থেকে আসে কেবল ৬ রান। বাংলাদেশ তখন প্রবলভাবেই ফেভারিট। কিন্তু শেষ ওভারে ডেলানির দারুণ ব্যাটিংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের বাজে ক্যাচিংয়ে কঠিন সমীকরণ মিলিয়ে ফেলে আইরিশরা।

ম্যাচের প্রথম ভাগেও এমন হতাশার গল্প আছে বাংলাদেশের। শুরুটা যদিও ছিল আশা জাগানিয়া। উদ্বোধনী জুটিতে ৪ ওভারে ৩৩ রান তোলেন সোবহানা মোস্তারি ও মুর্শিদা খাতুন। 

১২ বলে ১২ করে মুর্শিদা আউট হওয়ার পর দারুণ এক জুটি গড়েন সোবহানা ও শারমিন আক্তার। ফর্মে থাকা দুই ব্যাটার যোগ করেন ৫৮ বলে ৭১ রান। 

১১ ওভারে দলের রান ছিল ৮৭। এরপর একটু ক্লান্ত হয়ে পড়েন দুই ব্যাটার। 

তারপরও দেড়শ রানের পথে ছিল বাংলাদেশ। চতুর্দশ ওভারে শারমিন স্টাম্পড হন ৩৩ বলে ৩৪ রান করে। একটু পর টানা চার বলে রান না করতে পেরে শেষ পর্যন্ত সোবহানা আউট হন ৪৩ বলে ৪৫ রান করে। 

পরের দিকের কোনো ব্যাটার পরিস্থিতির দাবি মেটাতে পারেননি। ১৭ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ পারেনি ১২৫ রান করতেও।

তারপরও ম্যাচ জিতে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু নিজেদের পায়ে কুড়াল মারলে রক্ষা করবে কে!

সংক্ষিপ্ত স্কোর: 

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১২৩/৭ (সোবহানা ৪৫, মুর্শিদা ১২, শারমিাহিদান ৩৪, নিগার ৮, স্বর্ণা ৪, রিতু ০, রাবেয়া ৩*, নাহিদা ১, জান্নাতুল ১*; সারজেন্ট ৪-০-২১-০, প্রেন্ডারগাস্ট ৪-০-২২-৪, ডালজেল ২-০-২৩-০, কেলি ৪-০-১৮-০, ডেলানি ২-০-১৬-০, ম্যাগুইয়ের ৪-০-২৫-২)।

আয়ারল্যান্ড: ১৯.৫ ওভারে ১২৪/৬ (হান্টার ২৮, লুইস ২১, প্রেন্ডারগাস্ট ১১, পল ০, ডেলানি ৩৬*, স্টোকেল ১৯, কেলি ২, রেইলি ০*; জাহানারা ২-০-১৬-০, মেঘলা ৪-০-২১-০, নাহিদা ৪-০-২৬-১, রাবেয়া ৪-০-১৭-২, জান্নাতুল ৩-০-১৯-১, ফাহিমা ২.৫-০-২৪-০)।

ফল: আয়ারল্যান্ড ৪ উইকেটে জয়ী।

সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে আয়ারল্যান্ড ৩-০তে জয়ী।

প্লেয়ার অব দা ম্যাচ: লরা ডেলানি।

প্লেয়ার অব দা সিরিজ: ওর্লা প্রেন্ডারগাস্ট।