Published : 01 May 2026, 02:23 PM
যে ব্যাটসম্যান বাজে শটে আউট হওয়ায় বিরক্ত হয়েছিলেন অধিনায়ক, সেই ব্যাটসম্যানকে দলে না পেয়েই পরে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন তিনি। লিটন কুমার দাসের দুটি রূপই দেখেছেন শামীম হোসেন। সেখান থেকে জন্ম দিয়েছে কৃতজ্ঞতা। বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ককে ধন্যবদ জানালেন আগ্রাসী এই ব্যাটসম্যান।
গত অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে দৃষ্টিকটূ শটে আউট হয়েছিলেন শামীম। ম্যাচের পর লিটন বলেছিলেন, “শামীম হোসেনের ব্যাটিং দেখে আমি খুবই হতাশ। এটা (ব্যাটিং) নিয়ে ভাবতে হবে ওকে; সবসময় শুধু এসেই ব্যাটিং উপভোগ করতে পারবেন না, দায়িত্ব নিতে হবে।”
এই যুগে অধিনায়কেরা সাধারণত নাম ধরে প্রকাশ্যে এভাবে সরাসরি বলেন না। লিটনের মন্তব্য নিয়েও তাই নানারকম আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিল।
সেদিন ১ রানে আউট হওয়া শামীম পরের ম্যাচেও বিদায় নেন ১ রানেই। পরে তিনি দলেই জায়গা হারান। পরের সিরিজে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে স্কোয়াডেই রাখা হয়নি তাকে।
এবার দেখা যায় লিটনের উল্টো চেহারা। আইরিশদের বিপক্ষে সিরিজের আগে নির্বাচকদের নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তার সঙ্গে কথা না বলেই শামীমকে বাদ দেওয়ায়।
“(শামীম) থাকলে অবশ্যই ভালো হতো। ইটস নট মাই কল, টোটালি সিলেক্টরস কল। আমি জানি না কেন… তবে নির্বাচকরা আমাকে কোনো কিছু নোটিশ করা ছাড়াই শামীমকে বাদ দিয়ে দিয়েছে দল থেকে… উইদাউট এনি নোটিশ। আমি এতদিন জানতাম যে, একটা দল যখন কেউ হ্যান্ডল করে, অন্তত অধিনায়ক জানে যে, কোন ক্রিকেটার কখন দলে আসবে, কখন বাইরে যাবে।”
“আমি আশা করি, বাংলাদেশের প্রত্যেক ক্রিকেটারই সেরা ক্রিকেটার। এজন্যই জাতীয় দলে আছে। যে ১৫ জনকেই নেওয়া হোক না কেন, তারাই ভালো করবে। তবে শামীমকে বাদ দেওয়ার পেছনে কোনো কারণ আমি দেখি না। জানিও না, কেন বাদ পড়েছে সে।”
তখন বোঝা গিয়েছিল, শামীমের প্রতি প্রবল ভরসার কারণেই তার সেই বাজে শট নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন লিটন। অধিনায়কের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার পর আইরিশদের বিপক্ষে শেষ টি-টোয়েন্টির দলে শামীমকে ফেরানো হয়।
সেই ম্যাচে তিনি ব্যাটিং পাননি। ফেরার পর প্রথম ব্যাট হাতে নামে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে। সেদিন রান তাড়ায় দুর্দান্ত জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল শামীমের ১৩ বল ৩১ রানের অপরাজিত ইনিংসের। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কেন তাকে প্রয়োজন, এই ধরনের ব্যাটসম্যান কটা জরুরি, সেটির কিছুটা প্রামাণ্য চিত্র সেদিন তিনি মেলে ধরেছেন।
সিরিজের শেষ ম্যাচের আগের দিন শুক্রবার মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে শামীম কৃতজ্ঞতা জানালেন অধিনায়কের প্রতি।
“লিটন ভাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ দেব। একজন অধিনায়ক হিসেবে যেটা করার দরকার ছিল, উনি করেছেন। আমাকে ফিরিয়েছেন। এরপর আমি ভালো খেলতে পেরেছি, এটা অনেক ভালো। অধিনায়কের ভালো লেগেছে, আমারও ভালো লেগেছে।”
শামীম যে ধরনের ব্যাটসম্যান, তাতে অনেক সময়ই তিনি ব্যর্থ হবেন বা তার আউটের ধরন হবে বাজে। তবে অধিনায়কের কাছ থেকে মুক্ত মনে খেলার সার্টিফিকেট পেয়ে গেছেন এই বাঁহাতি, “লিটন ভাই আমাকে সবসময় স্বাধীনভাবে খেলার জন্যই বলেন।”
লিটনের নেতৃত্বে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দল এই সংস্করণে বেশ ধারাবাহিক হয়ে উঠেছে। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষেও সিরিজ জয়ের হাতছানি তাদের সামনে। দলের সাফল্যে অধিনায়কের বড় কৃতিত্ব দেখেন শামীম।
“টি-টোয়েন্টিতে আমরা অনেকগুলো সিরিজ জিতেছি। দলের মধ্যে এতে ভালো বন্ধন গড়ে উঠেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা বিশ্বকাপ খেলতে পারিনি। কিছু তো করার নেই। অনেক ভালো প্রস্তুতি ছিল আমাদের। সব মিলিয়ে অবশ্যই অধিনায়কত্ব অনেক ম্যাটার করে।”