Published : 02 Apr 2026, 12:22 PM
নাম ঘোষণা হয়ে গেছে কদিন আগেই। হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বে নতুন সেই নির্বাচক কমিটির দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো বুধবার। প্রথম দিনেই বিসিবিতে সভায় বসেছিলেন চার সদস্যের এই কমিটি। সেখানে অবশ্য দল নির্বাচন নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়নি। প্রথম দিনেই খুব গভীরতায় ঢুকতে চাননি তারা। তবে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের সম্ভাব্য দল নিয়ে একটি ভাবনা আছে হাবিবুলের। সম্ভাব্য সেরা দলটিকেই বেছে নিতে চান প্রধান নির্বাচক।
সেরা দলের প্রশ্নটি উঠছে মূলত নিউ জিল্যান্ডের স্কোয়াড থেকে। তাদের শীর্ষ ক্রিকেটাররা ব্যস্ত আইপিএল ও পিএসএলে। বাংলাদেশ সফরের দুই সংস্করণের যে দল তারা ঘোষণা করেছে, সেটিকে ‘সি’ দল বা টেনেটুনে ‘বি’ দল বলা যায়। টম ল্যাথামের নেতৃত্বে এই দলে প্রথম সারির অন্তত ১৫-১৬ জন ক্রিকেটার নেই। বাংলাদেশ তাই কোন পথে হাঁটবে, কৌতূহল থাকছেই।
এমনিতে আগামী মার্চ প্রতিটি ওয়ানডে সিরিজই বাংলাদেশের জন্য বিশ্বকাপ বাছাইয়ের মতো। সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা পেতে হলে র্যাঙ্কিংয়ের উন্নতির বিকল্প নেই। সবশেষ দুটি সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে জিতে রেটিং পয়েন্ট ও র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি হয়েছে কিছু। কিন্তু এখনও অনেক পথ পাড়ি দেওয়ার বাকি। দেশের মাঠের সিরিজগুলোতে তাই জয় নিশ্চিত করা জরুরি।
নিউ জিল্যান্ড যেখানে সেরা দল পাঠায়নি, বাংলাদেশের জন্য দারুণ সুযোগ সিরিজ জয়ের, এমনকি তিনটি ম্যাচই জিতে রেটিং পয়েন্ট বাড়ানোর। তবে অন্য এক ভাবনার স্রোতও তো থাকতে পারে। প্রতিপক্ষ যখন এত অনভিজ্ঞ, তখন দেশের মাঠের সিরিজটি তো বাংলাদেশের জন্যও কিছু নতুন ক্রিকেটারকে বাজিয়ে দেখার সুযোগ হতে পারে!
সেই ভাবনা কিছুটা খেলে গেছে হাবিবুলের মনেও। তবে সব দিক ভেবে সেরা দল মাঠে নামানোরই পক্ষপাতি তিনি। যদিও সহ-নির্বাচকদের সঙ্গে আলোচনা হয়নি বলে বিস্তারিত কিছু তিনি বলতে চান না এখনই। তবে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে শোনালেন ব্যক্তিগত চাওয়াটুকু।
“মাত্রই দায়িত্ব নিলাম আমরা। প্রথম দিনে আসলে সৌজন্যমূলক আলোচনাই বেশি হয়েছে। দল নির্বাচন নিয়ে টুকটাক কথার বাইরে কিছু হয়নি। এখনই তাই কিছু বলতে চাই না। কারণ, নির্বাচক কমিটির অন্যদের সঙ্গে তো বটেই, টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গেও আলোচনার ব্যাপার আছে এসব নিয়ে। তবে আমার ব্যক্তিগত ভাবনা হলো, সেরা দল খেলানোই ভালো।”
“আমাদের জন্য প্রতিটি সিরিজই গুরুত্বপূর্ণ। দল নির্বাচনেও সেটির ছাপ থাকা উচিত। নিউ জিল্যান্ড কেমন দল পাঠিয়েছে, তারা কেমন করতে পারে, সেসব আমাদের ভাবা জরুরি নয়। আমরা ভাবব, আমাদের জন্য কোনটি আদর্শ। তার পরও সবার সঙ্গে কথা বলে পরে এসব নিয়ে আরও বিস্তারিত জানাতে পারব।”
প্রধান নির্বাচক হিসেবে নাম ঘোষণার পরই পূর্ব নির্ধারিত উমরাহ করতে গিয়েছিলেন হাবিবুল। ফিরেছেন মঙ্গলবার। এসবের ফাঁকে নিউ জিল্যান্ডের স্কোয়াড তিনি দেখেছেন। তারকা ক্রিকেটাররা না থাকলেও কিউইদের শক্তি যে খারাপ নয়, সেটিও মনে করিয়ে দিলেন প্রধান নির্বাচক।
“নিউ জিল্যান্ডের দলটা কিন্তু বেশ ভালো। তারকা ক্রিকেটার হয়তো কম, কিন্তু কার্যকর ক্রিকেটার আছে অনেক। ওদের ক্রিকেটের গভীরতা কেমন, সেটা গত কয়েক বছরে গোটা ক্রিকেট বিশ্বই দেখেছে। ওরা খুবই পেশাদার দল। কাজেই আমরা সহজেই জিতে যাব, এমনটি ধরে রাখার কারণ নেই। জিততে হলে আমাদেরকে ভালো খেলেই জিততে হবে।”
তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে আগামী ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশে আসবে নিউ জিল্যান্ড দল।
নিউ জিল্যান্ড ওয়ানডে দল: টম ল্যাথাম (অধিনায়ক), মুহাম্মাদ আব্বাস, আদিত্য আশোক, ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ক, জশ ক্লার্কসন, ডেন ক্লেভার, ডিন ফক্সক্রফট, নিক কেলি, জেডেন লেনক্স, হেনরি নিকোলস, উইল ও’রোক, বেন সিয়ার্স, ন্যাথান স্মিথ, ব্লেয়ার টিকনার, উইল ইয়াং।
নিউ জিল্যান্ড টি-টোয়েন্টি দল: টম ল্যাথাম (অধিনায়ক), কাটেনে ক্লার্ক, ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ক, জশ ক্লার্কসন, ডেন ক্লেভার, ম্যাট ফিশার, ডিন ফক্সক্রফট, বেভন জ্যাকবস, নিক কেলি, জেডেন লেনক্স, টিম রবিনসন, বেন সিয়ার্স, ন্যাথান স্মিথ, ইশ সোধি, ব্লেয়ার টিকনার।