Published : 02 Jun 2026, 09:22 PM
স্পিন মঞ্চ সাজিয়ে যেনতেনভাবে সিরিজ জিততে চান না তাওহিদ হৃদয়। আইসিসি ইভেন্টের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে দ্বি-পাক্ষিক সিরিজগুলো কাজে লাগাতে চান এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। তাই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন সিরিজেও স্পোর্টিং উইকেটে খেলতে চান তিনি।
তিন মাসের ব্যবধানে ঘরের মাঠে দুটি ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তান ও নিউ জিল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সমীকরণ মেলাতে এই সিরিজগুলোয় পয়েন্ট ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ছিল মেহেদী হাসান মিরাজের দলের জন্য। তবুও স্পিন সহায়ক উইকেটের পথে হাঁটেনি বাংলাদেশ।
আপাতত ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে মনোযোগ হৃদয়ের। মিরপুরে মঙ্গলবার লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরিতে মোহামেডানের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। ১০১ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সেখানে উঠে আসে আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সিরিজ প্রসঙ্গ।
আগামী ৯ জুন মিরপুরেই শুরু হবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। পাকিস্তানের মাঠে খেলছে ওয়ানডের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। সিরিজের প্রথম ম্যাচে স্পিনিং উইকেটে সহজেই জিতেছে শাহিন শাহ আফ্রিদির দল।
মিরপুরে স্পেন মঞ্চ সাজিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের নজির আছে বাংলাদেশের। অতীতের সেই স্মৃতি আর পাকিস্তানে স্পিন সহায়ক উইকেটে জশ ইংলিসের নেতৃত্বাধীন দলের ভোগান্তি দেখে প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশ কী পাকিস্তানকে অনুসরণ করবে? হৃদয় বললেন, এই পথ ধরতে চান না তারা।
“সামনে বিশ্বকাপ বা আইসিসির বড় যেসব ইভেন্টগুলোতে আমরা খেলি, ওসবে সবসময় ভালো উইকেটই থাকে, স্পোর্টিং উইকেট থাকে। আমাদের ওইসব জায়গায় পারফর্ম করতে গেলে, ভালো করতে গেলে- দল হিসেবে যদি আমরা ফল চাই, আমাদের ভালো উইকেটে খেলতে হবে।”
ভালো উইকেটে খেলার প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে গিয়ে হৃদয় সবশেষ দুই সিরিজের কথাও মনে করিয়ে দেন।
“শেষ দুই-তিনটা সিরিজ মনে হয় আমরা ভালো উইকেটে খেলেছি। আমরা খুব ভালো করেছি। আলহামদুলিল্লাহ, দিনকে দিন নিজেদের যেন আরও এক ধাপ-দুই ধাপ উপরে নিয়ে যাওয়া যায়।”
অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে ঢাকা লিগে আরও এক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন ক্রিকেটাররা। এখান থেকেই ক্রিকেটারদের নিতে হবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলার প্রস্তুতি। হৃদয় জানান, সেই চেষ্টাই করছেন তারা।
“সামনে যেহেতু আমাদের অস্ট্রেলিয়া সিরিজ আছে, মিরপুরে খেলা, এই মাঠেই খেলা হবে। চেষ্টা করেছি যতটুকু অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে মিল রেখে কীভাবে খেলব, এই পরিকল্পনাটাই ছিল। সব মিলিয়ে আলহামদুলিল্লাহ ভালো হয়েছে।”
এছাড়া গরমের প্রসঙ্গও উঠে আসে হৃদয়ের কথায়। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে গরমের সঙ্গে মানিয়ে খেলার বিকল্প দেখেন না তিনি।
“পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আমি বলব না (এই গরমে খেলা) কঠিন। কিন্তু এটা সমন্বয় করতে হবে, মানিয়ে নিতে হবে। আমাদের জন্য যেটা হবে, ওদের জন্য একই হবে। আমি মনে করি হাইড্রেটেড থাকাটা জরুরি। যেদিন খেলা থাকবে, সেই দিনটা যেন ১০০% ইফোর্ট দিতে পারি। পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের দায়িত্ব।”