Published : 02 Jun 2026, 01:26 PM
ওয়ানডে ক্রিকেটের সাম্প্রতিক ছন্দের ধারাবাহিকতা ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ঠিকঠাক ফুটিয়ে তুলতে পারছিলেন না তানজিদ হাসান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বিরতিতে প্রাইম ব্যাংকের হয়ে দুই ম্যাচের কোনটিতেই ইনিংস বড় করতে পারেননি। তবে দলকে খুব বেশি অপেক্ষায় রাখলেন না তিনি। জ্বলে উঠলেন ঈদের বিরতির পর লিগের প্রথম ম্যাচেই।
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে মঙ্গলবার পিকেএসপিতে ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে ৯৩ বলে ১১৯ রান করেন তানজিদ। বাঁহাতি ওপেনারের লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি এটি।
দিনের আরেক ম্যাচে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে ১০৬ বলে ১০১ রানের ইনিংস খেলেন তাওহিদ হৃদয়। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তার পঞ্চম শতরান এটি।
চলতি বছর বাংলাদেশের জার্সিতে ওয়ানডে সংস্করণে ছয় ম্যাচে দুই ফিফটি ও এক সেঞ্চুরি এসেছে তানজিদের ব্যাটে। ৫০.৮০ গড়ে ২৫৪ রানের পরিসংখ্যানে স্পষ্ট, কতটা দাপুটে ছিলেন তিনি। কিন্তু ঢাকা লিগের শুরুটায় প্রত্যাশার সঙ্গে প্রাপ্তি মিলছিল না তার।
ঈদের আগে প্রাইম ব্যাংকের জার্সিতে দুই ম্যাচে তানজিদ করেন মোটে ৫৩ রান। ছিল না কোন ফিফটি। এবার শুধু ফিফটি করেই থমকে যাননি, ইনিংসকে নিয়ে গেছেন তিন অঙ্কে। ১২৭.৯৬ স্ট্রাইক রেটের ইনিংসে ছিল ১৩ চার ও ৫ ছক্কা।
এই ইনিংস খেলার পথে শাহাদাত হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে উদ্বোধনী জুটিতে ২১০ রান যোগ করেন তানজিদ।
দুর্দান্ত ফর্মে থাকা শাহাদাতও করেছেন সেঞ্চুরি। ১০ চার ও ৪ ছক্কায় ১১১ বলে ১০৫ রান করে আউট হন তিনি। এবারের লিগে তার দ্বিতীয় শতরান এটি, লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারে সপ্তম।
ম্যাচের প্রথম দুই ওভারে বাউন্ডারিতে শুরু করেন দুজন। বাউন্ডারির স্রোতেই এগিয়ে যেতে থাকেন দুজন। এক পর্যায়ে অবশ্য শাহাদাতকে ছাড়িয়ে এগিয়ে যান তানজিদ।
৪৭ বলে ফিফটি করে তানজিদ। এরপর আরও দ্রুততায় ছুটে শতরানে পা রাখেন ৮৫ বলে।
শাহাদাতের ফিফটি ছিল তুলনামূলক ধীরগতিতে (৬১)। তবে পুষিয়ে দিয়ে পরের পঞ্চাশ করেন তিনি ৪৫ বলে।
৩০ ওভার পর্যন্ত উইকেটে থিতু থাকা তানজিদ আউট হন অভিষিক্ত সাইম শেখের বলে। পার্টটাইম মিডিয়াম পেসারের বলে হোসেন আলির হাতে ক্যাচ তুলে ফেরেন প্যাভিলিয়নে।
৩৯তম ওভারে হোসেন আলির শিকার হয়ে ফেরেন শাহাদাত। এবারের লিগে ৮ ইনিংসে ২ সেঞ্চুরি ও ৩ ফিফটিতে ৪৯১ রান করে রানের তালিকায় তিনি সবার ওপরে।
তানজিদ-শাহাদাতের সেঞ্চুরির দিনে আবাহনী লিমিটের হয়ে বিকেএসপিতে গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে ৮ চার ও ৬ ছক্কায় ৯৫ বলে ১০২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন।
অগ্রনী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের বিপক্ষে ১৪৫ বলে ১৫১ রানের ইনিংস খেলেছেন সিটি ক্লাবের আব্দুল্লাহ আল মামুন। চার ও ছক্কা মেরেছেন এক ডজন করে। এবারের লিগের প্রথম দেড়শ রানের ইনিংস এটি। অথচ আগের চার ইনিংস মিলিয়ে তার রান ছিল মোটে ২০!
মিরপুরে হৃদয়ের ইনিংসটি ছিল একটু ভিন্ন। শুরুতে বেশ কিছুটা সময় নেন তিনি। ফিফটি করতে বল লাগে ৭৫টি। পরে অবশ্য শেষের দাবি মিটিয়ে ঝড় তুলে শতরানে পৌঁছে যান তিনি ১০৫ বলেই।
বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ঢাকা লেপাডর্সের বিপক্ষে ২৩ রানে ৬ উইকেট নিয়েছেন গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের মোহাম্মদ রুবেল। এবারের লিগেই লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে অভিষিক্ত এই রহস্য স্পিনার দ্বিতীয় ম্যাচে নিয়েছিলেন ৪ উইকেট, সপ্তম ম্যাচে পেয়ে গেলেন আরও বড় সাফল্য।