Published : 02 Apr 2026, 01:28 PM
চেনা সেই ধার নেই। বৈচিত্র সব যেন হারিয়ে গেছে। রহস্য যেন সব উন্মুক্ত। গত কিছুদিনে ভারুন চক্রবর্তি যেন স্রেফ নিজের ছায়া। আগে তিনি বল হাতে নিলেই উইকেটের সম্ভাবনা জেগে উঠত। এখন তিনি কোনোরকমে রান কম দিতে পারলেই যেন রক্ষে! বিশ্বকাপের সুপার এইট থেকে ছন্দ হারানোর শুরু। আইপিলের শুরুতেও অবস্থা তথৈবচ। কলকাতা নাইট রাইডার্সের কোচ আভিশেক নায়ার অবশ্য প্রবল বিশ্বাস নিয়েই বলছেন, দ্রুতই আপন রূপে ফিরবেন এই স্পিনার।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে দারুণ ফর্মেই ছিলেন ভারুন। ৪ ম্যাচে উইকেট নিয়েছিলেন ৯টি। সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে উল্টোযাত্রার শুরু। সেদিন ৪ ওভারে ৪৭ রান দিয়ে ১টি উইকেট নিতে পারেন। পরের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পারফরম্যান্স ছিল মোটামুটি (৪-০-৩৫-১)। এরপর থেকে তিনি হয়ে উঠেছেন রান খরচের মেশিন।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪ ওভারে দেন ৪০, সেমি-ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪ ওভারে ৬৪। ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে দলের অন্যরা ভালো করলেও তার ৩ ওভারে রান আসে ৩৯। কোনো ম্যাচেই উইকেট পাননি ১টির বেশি।
৩ সপ্তাহ বিরতির পর আইপিএলে ফিরেও তিনি ফিরে পাননি নিজেকে। কলকাতা নাইট রাইডার্সের প্রথম ম্যাচে ৪ ওভারে ৪৮ রান দিয়ে তিনি উইকেটশূন্য।
তার ফর্ম নিয়ে প্রশ্নগুলি তাই এখন দারুণভাবেই উচ্চকিত। তার সব রহস্য মিলিয়ে গেল কি না, সেই আলোচনাও চলছে।
পরের ম্যাচে শনিবার তিনি নামবেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে। ম্যাচের আগে কোচ আভিশেক তার ওপর আস্থা রাখার কথা জানিয়ে বললেন, শিগগিরই চেনা চেহারায় দেখা যাবে ভারুনকে।
“বছরের পর বছর ধরেই অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গিয়েছে সে। ফ্র্যাঞ্চাইজি হিসেবে, সাপোর্ট স্টাফ হিসেবে আমরা তার পাশে আছি। আমার মনে হয় না, কোনো সমস্যা তার আছে।”
“তবে হ্যাঁ, প্রতিপক্ষ দলগুলি এখন তাকে ভালোভাবে খেলছে। এর মানে এই নয় যে সে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। এটা স্রেফ তার জীবনের আরেকটি চ্যালেঞ্জ, আগেও যেমন ছিল। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি, আশা আছে এবং সবদিক থেকেই তার পাশে আছি। আশা করি, বিশ্বজুড়ে সমর্থকরাও পাশে থাকবেন। এই ম্যাচেই হোক বা সামনে, এটা নিশ্চিত যে সে ঘুরে দাঁড়াবেই, যেমনটি অতীতেও করেছে।”
মানসিকভাবে ভারুন চাঙা আছে বলেই দাবি আভিশেকের। তবে প্রত্যাশার ভার যে বেড়েছে এই স্পিনারের ওপর, সেটি স্বীকার করছেন কলকাতা কোচ।
“আমি সত্যিই বিশ্বাস করি, মানসিকভাবে সে ভালো অবস্থায় আছে। সত্যি বলতে, আগের বছরগুলোর চেয়ে ভালো।”
“হ্যাঁ, গত কয়েক বছরে সে অনেক কিছু অর্জন করেছে, যা তার ওপর প্রত্যাশা বাড়িয়েছে। সবাই বরাবরই জানত যে ভারুন দারুণ এক বোলার, তবে ভারতের হয়ে যেভাবে পারফর্ম করেছে, এতে ওর ওপর প্রত্যাশা বেড়েছে।”
বোলিংয়ের মৌলিক জায়গা থেকেও ভারুন খুব একটা সরেনি বলে জানালেন কোচ। তিনি বরং কৃতিত্ব দিচ্ছেন প্রতিপক্ষকে।
“পরিসংখ্যান দেখলে দেখতে পাবেন, সে প্রায় একইরকম গতিতে বোলিং করছে, যেভাবে সবসময় করে আসছে। হকআই দেখে বোঝা যাচ্ছে, তার লেংথও প্রায় একই আছে। কখনও কখনও এটা মনে রাখতে হবে যে, প্রতিপক্ষ আপনার চেয়ে ভালো করতে পারে।”