Published : 19 Jan 2026, 08:29 AM
ঘটনাগুলো বিপিএলের শুরুর দিকের। টুর্নামেন্ট চলছিল তখন সিলেটে। বিসিবির দুর্নীতি দমন বিভাগের কাছে দুই-তিনটি দল ও বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের হেনস্থা বা হয়রানির নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল। দলগুলির ক্ষোভের কথাও শোনা যাচ্ছিল। সেই ক্রিকেটারদের একজন, সাইফ হাসান, টুর্নামেন্টের শেষ ভাগে এসে শোনলেন সেই অভিজ্ঞতা।
গত বিপিএলে দুর্নীতি সংক্রান্ত অনেক অভিযোগের পর এবারে বিপিএলে আইসিসির একজন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেয় বিসিবি। এছাড়াও বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের প্রধান সাবেক আইসিসি কর্মকর্তা অ্যালেক্স মার্শাল ও বিসিবি দুর্নীতি দমন কর্মকর্তারা তো ছিলেন।
টুর্নামেন্ট কলঙ্কমুক্ত তারা এবার অনেক কিছুতেই কড়াকড়ি করেছেন বলে জানা গেছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, সেই চেষ্টা করতে গিয়ে তারা বাড়াবাড়ি করেছেন কিছু, অনেক সময় নিজেদের আওতা ছাড়িয়ে গেছেন, ক্রিকেটারদের মাঠের ক্রিকেটে বিঘ্ন ঘটিয়েছেন, মানসিক ব্যাঘাত ঘটিয়েছেন। এটা নিয়ে দলগুলির ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে তাদের বিতণ্ডা হয়েছে এবং তা বিসিবি পর্যন্ত গড়িয়েছে বলেও শোনা গেছে।
বিপিএলে ঢাকা ক্যাপিটালসের শেষ ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে সাইফ হাসান শোনালেন তার সঙ্গে যা হয়েছিল।
“প্রথম দুই-তিন ম্যাচে যখন ক্লিক করিনি, ওদের (দুর্নীতি দমন কর্মকর্তারা) কাছে লেগেছে যে, আমার পারফরম্যান্সটা মিলছে হচ্ছে না গত বছরের সঙ্গে, মানে গত বছর যেভাবে খেলেছি। ওদের কাছে জিনিসটা স্বাভাবিক লাগেনি। ওরা এসে হুট করে চার্জ করছে। এটা আমার ভালো লাগেনি। ডিস্টার্বড হয়েছি।”
“কারণ আমি এটার জন্য ক্রিকেট খেলি না। আমি আমার প্যাশন নিয়ে ক্রিকেট খেলি। আমার পারিবারের ব্যাকগ্রাউন্ডও ওরকম না। এই জিনিসটা নিয়ে আমি অনেক বিরক্ত হয়েছি অবশ্যই। তবে ম্যানেজমেন্টকে ধন্যবাদ ওরা মানে সবসময় আমাকে সমর্থন দিয়ে গেছে।”
সাইফ এক ম্যাচে ব্যাটিংয়ে নামার আগে তাকে মানসিক যন্ত্রণা দেওয়া হয়েছে বলেও শোনা গিয়েছিল তখন। তিনি নিজে বললেন একটু অন্যরকম, তবে এটিও কম গুরুতর নয়।
“ব্যাটিংয়ে নামার আগে জিজ্ঞেস করেনি। তবে তখন আমাদের ড্রেসিংরুমে এসেছিল। ড্রেসিংরুমে এসে জিজ্ঞেস করছে, ব্যাটিংয়ে নামছো নাকি বা এরকম। ব্যাটিংয়ে নামার আগে ড্রেসিংরুমে ছিলাম। তখন এসেছিল, আর তার আগের দিন রুমে এসেছিল।”
“অবশ্যই বিস্ময়কর এই ব্যাপারটা। আমি বিশ্রাম নেব, তখন হুট করে এসেছে। (রাহমানউল্লাহ) গুরবাজ তো ঘুমাচ্ছিল, তখন এসেছে। আগে থেকে তো জানাবে! হুট করে আসা মানে… এটা তো অনেক অসম্মানজনক।”
গুরবাজের ঘরে আচমকা ঢুকে যাওয়ার ঘটনা পরে অনেক দূর গড়ায়। রাগ করে টুর্নামেন্ট ছেড়ে যেতে চেয়েছিলেন আফগান এই তারকা। সিলেট থেকে ঢাকায় ফিরেও গিয়েছিলেন। পরে অনেক অনুরোধ করে তাকে আবার ফিরিয়ে আনা হয়।
সাইফ বললেন, কোনো কিছু না পেয়ে পরে দফায় দফায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন ওই কর্মকর্তারা।
“তারা দুঃখিত বলছে। রুমে এলো, আসার পর কথা বলল, যখন কিছু পায়নি, তখন ‘সরি’ বলে চলে গেল। তারপরের কয়েকদিন বারবার দুঃখিত বলেছে।”
অনেক আশা নিয়ে সাইফকে এবার সরাসরি চুক্তিতে দলে নিয়েছিল ঢাকা ক্যাপিটালস। কিন্তু সেই আশা তিনি পূরণ করতে পারেননি। আট ইনিংস খেলে মোট রান করেছিলেন তিনি মোটে ৬০। শেষ ম্যাচটিতে ৪৪ বলে ৭৩ রানের ইনিংস খেলে শেষটা কেবল ভালো করতে পেরেছেন।
সাইফ বললেন, দুর্নীতি দমন কর্মকর্তাদের আচরণ তার ব্যাটিংয়েও কিছুটা হলে প্রভাব ফেলেছে।
“একটু তো হতে পারে এটা, কারণ ওটার পরপর যে দুই-তিনটা ম্যাচ, মনের কোণে কাজ করতেই পারে যে, আমি কী করছি, না করছি, এটা কী হচ্ছে, তারা কী ভাবছে…। তবে একটা বিরতির পর চিন্তা করছি যে এগুলো তো আমার হাতে নেই। চেষ্টা করছি যে এখান থেকে বের হওয়ার।”