২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

প্রথম ম্যাচের উইকেট নিয়ে অনেক প্রশ্ন, কেমন হবে দ্বিতীয় ম্যাচের উইকেট

আগের সিরিজে স্পোর্টিং উইকেটে খেলে পাকিস্তানকে সিরিজ হারানোর পরও এবার নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে মন্থর উইকেট তৈরির নির্দেশনা দিয়েছিল বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট।

প্রথম ম্যাচের উইকেট নিয়ে অনেক প্রশ্ন, কেমন হবে দ্বিতীয় ম্যাচের উইকেট
উইকেটে শেষ সময়ের কাজ করছেন বিসিবির হেড অব টার্ফ ম্যানেজমেন্ট টনি হেমিং ও মিরপুরের প্রধান কিউরেটর বদিউল আলম, কাছ থেকে গভীরভাবে নজর রাখছেন লিটন দাস। ছবি: বিসিবি।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Apr 2026, 08:08 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:26 PM

উইকেট ভিন্ন, তবে চেহারা একই। দ্বিতীয় ম্যাচের উইকেট দেখতে প্রথম ম্যাচের মতোই সবুজাভ। তবে ঘাসের ছোঁয়া থাকা মানেই যে গতিময় ও প্রাণবন্ত উইকেট নয়, প্রমাণ তো গত ম্যাচেই হয়ে গেছে! সেদিনের উইকেট ছিল মন্থর। সময় যত গড়িয়েছে, বল ব্যাটে এসেছে ধীরে থেকে আরও ধীরে। মিলেছে টার্ন। বাউন্স ছিল অসম। প্রশ্নটিও তাই উঠে যাচ্ছে, আবার কেন এই ধরনের উইকেট বেছে নিল বাংলাদেশ!

সিরিজ শুরুর আগে বাংলাদেশের কোচ ফিল সিমন্স ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ বলেছিলেন, পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের মতোই প্রাণবন্ত ও স্পোর্টিং উইকেটের আশা করছেন তারা। কিন্তু বাস্তবে সিরিজের প্রথম ম্যাচে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। প্রথম ইনিংসে তবু কিছুটা ভালো ছিল উইকেটের আচরণ, দ্বিতীয় ইনিংসে একটা পর্যায়ে মিরপুরের সেই পুরোনো চরিত্রই ফুটে ওঠে সেখানে।

টিম ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, সংবাদ সম্মেলনে কোচ-অধিনায়ক যা বলেছিলেন, বাস্তবের ভাবনা ছিল আলাদা। টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে কিউরেটরকে বলা হয়েছিল, কিছুটা মন্থর উইকেট তৈরি করতে, যেখানে বল একটু ধীরে ব্যাটে আসবে। চোখধাঁধানো স্ট্রোক সেখানে খেলা যাবে না, তবে টিকে থাকলে রান করা যাবে। এটিও বলা ছিল, মন্থর উইকেট হলেও যেন টার্ন না থাকে। কারণ, টার্নিং ডেলিভারিতে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের দুর্বলতা চিরন্তন।

কিউরেটর হয়তো চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু এতটা ‘কাস্টমাইজড’ উইকেট তৈরি করতে পারেননি। বিসিবির হেড অব টার্ফ ম্যানেজমেন্ট টনি হেমিং তো আর এরকম উইকেটের বিশেষজ্ঞ নন!

আরেকটি ব্যাপারও বাংলাদেশের বিপক্ষে গেছে সেদিন। রোদের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে, ধারণার চেয়েও দ্রুততায় শুকিয়ে যায় উইকেট। ভেঙেও যায় ধারণার আগেই। ঘাসের নিচের কালো মাটি দৃশ্যমান হয় দ্রুতই, পায়ের ক্ষত পড়তে থাকে। মিলতে থাকে টার্ন।

সেদিনের উইকেটে উল্লেখযোগ্য সময় ব্যাটিং-বোলিং দুটিই করেছেন ন্যাথান স্মিথ। নিউ জিল্যান্ডের এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার সেদিন শেষ দিকে ২১ রানের ইনিংস খেলেন। পরে নতুন বলে জোড়া ধাক্কায় নাড়িয়ে দেন বাংলাদেশ। শেষ দিকে উইকেটের দেখা পান আরেকটি। দ্বিতীয় ম্যাচের আগে পেছন ফিরে তাকিয়ে তিনি যে মূল্যায়ন করলেন প্রথম ম্যাচের উইকেট সম্পর্কে ধারণা তাতে পাওয়া গেল।

“তাপে ঝলসে যাচ্ছিল উইকেট, তাই আমার ধারণা এটা ভেঙে যাচ্ছিল। ফ্লাডলাইট জ্বলে ওঠার আগেই, আমার মনে হয় সূর্যের প্রভাবটা হয়তো সবচেয়ে বেশি পড়ে গিয়েছিল এবং উইকেটে অনেকের বিচরণের কারণে ও ডাউন দা উইকেটে খেলায় ক্ষত তৈরি হয়েছিল আর ফাটলগুলো আরও বড় হয়ে যাচ্ছিল। তাই শুধু সূর্যের তাপে উইকেট ঝলসে যাচ্ছিল, নাকি সময়ের কারণে এমনটা হচ্ছিল, আমি নিশ্চিত নই।”

দ্বিতীয় ম্যাচের আগের দিন বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা শরিফুল ইসলাম ব্যাপারটিকে আড়াল করার চেষ্টা করেও একরকম স্বীকার করে নিলেন, উইকেট পড়তে ভুল হয়েছিল তাদের। 

“দেখেন এই বিষয়ে আসলে… আমরা যখন মিরপুরে খেলি, তখন অনেক সময় ভুল প্রমাণিত হই। এখানে আমরা যেমন চেয়েছিলাম, আমাদের টিম ম্যানেজমেন্ট উইকেট নিয়ে সন্তুষ্ট ছিল… পরের ম্যাচে আরও ভালো হবে।”

মূল প্রশ্নটা এখানেই। নিউ জিল্যান্ডের এই খর্বশক্তির দলের সঙ্গেও কেন মন্থর উইকেটের কৌশল বেছে নিতে হবে? গত সিরিজে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রাণবন্ত উইকেটে খেলে দারুণ সাফল্যের পরও কেন কিউইদের বিপক্ষে সেই সাহসটুকু দেখাতে পারল না টিম ম্যানেজমেন্ট!

প্রশ্নের উত্তর সময়ের হাতেই তোলা থাকল। আপাতত কৌতূহল, দ্বিতীয় ম্যাচের উইকেট কেমন হবে। 

উইকেটে ঘাসের ছোঁয়া দেখে ন্যাথান স্মিথের মনে হচ্ছে, পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের মতো উইকেট এটি হতে পারে। তবে আগের ম্যাচের অভিজ্ঞতার কারণে একটু সংশয়ও আছে তার মনের ভেতর।

“আমার মনে হয়, দ্বিতীয় ম্যাচের জন্য যে উইকেটটি প্রস্তুত করা হচ্ছে, ফুটেজে আমি যা দেখেছি, তাতে মনে হচ্ছে ওটা পাকিস্তানের (বিপক্ষে সিরিজের) উইকেটের মতোই দেখতে। এতে হয়তো আরেকটু বেশি গতি থাকতে পারে। আমার যদি ভুল না হয়, বাংলাদেশও ভেবেছিল যে প্রথম ম্যাচের উইকেটটিতে হয়তো আরেকটু বেশি গতি থাকবে। তবে হ্যাঁ, শেষ পর্যন্ত কী হয় তা দেখার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে, কিন্তু দেখে তো সেরকমই মনে হচ্ছে।”

প্রচণ্ড রোদের কারণে উইকেট ভেঙে যাওয়ায় প্রথম ম্যাচে টস হার ও পরে ব্যাট করাটা বাংলাদেশের কাজ কঠিন করে তুলেছিল অনেক। দ্বিতীয় ম্যাচেও টস মহাগুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে ধারণা স্মিথের। 

“আমার মনে হয় টসটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দ্বিতীয় ইনিংসে আবহাওয়া কিছুটা ঠান্ডা থাকলে বোলিং করাটাও সহায়ক হয়। (আগের ম্যাচে) খেলা শুরুর আগেই উইকেটে কিছু ফাটল ও খাঁজ ছিল। আগে থেকেই তাই এটা বেশ স্পষ্ট ছিল যে, ব্যাটিং করাটা বেশ কঠিন হতে চলেছে। সুতরাং, টসটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”

“এই উইকেটটা দেখতে কেমন তা নিশ্চিত নই, এখনও কাছ থেকে দেখিনি। কিন্তু আমার বিশ্বাস, প্রথমে ব্যাট করারই উইকেট এটি, আগে ব্যাট করে পরে চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করতে হবে।”

সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে সোমবার বেলা ১১টায়।