Published : 24 Jan 2026, 11:25 AM
সতীর্থদের কতভাবেই তো প্রেরণা জোগান অধিনায়কেরা। ফর্মে না থাকা ক্রিকেটারদের উজ্জীবিত করতে প্রয়োজন পড়ে বিশেষ কিছুর। তানজিদ হাসানকে তেমনই একটি টোটকা দিয়েছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ফাইনালে তানজিদের সেঞ্চুরিতে ম্যাচ জেতার পর সেই গল্প শোনালেন রাজশাহী অধিনায়ক।
বিপিএল ফাইনালে শুক্রবার ৭ ছক্কায় ৬২ বলে ১০০ রানের ইনিংস খেলেন তানজিদ। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ৬৩ রানের জয়ে ম্যান অব দা ম্যাচও হন বাঁহাতি এই ওপেনারই।
গত ১২ জানুয়ারি ঢাকা ক্যাপিটালসের সঙ্গে ম্যাচটিতেও ৪৩ বলে ৭৬ রান করে সেরার স্বীকৃতি পেয়েছিলেন তানজিদ। সমস্যা হলো, ফাইনালের আগে ১২ ইনিংসে সেটিই ছিল তার একমাত্র ফিফটি!
প্রথম সাত ইনিংসের একটিতেও তিনি ৩০ পর্যন্ত যেতে পারেননি। ৭৬ রানের ওই ইনিংসের পর আবার চার ইনিংসে পাননি ৫০ পর্যন্ত যেতে।
অথচ গত বিপিএল তার দারুণ কেটেছিল। গত বছরটাই তার কেটেছিল চমৎকার। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এক পঞ্জিকাবর্ষে ৭৬ ছক্কার রেকর্ড গড়ে ১ হাজার ২৮৯ রান করেন। এবার বিপিএলের নিলামের বেশ আগেই তাকে দলে নিশ্চিত করে ফেলে রাজশাহী।
কিন্তু সেই আস্থার প্রতিদান তিনি দিতে পারছিলেন না। অবশেষে ফাইনালে তিনি ফিরে পেলেন নিজেকে। তার সেঞ্চুরিই গড়ে দেয় রাজশাহীর জয়ের ভিত।
রাজশাহীর অধিনায়ক শান্ত পরে বলেন, তার বিশ্বাস ছিল আসল সময়ে জ্বলে উঠবে শান্ত।
“আপনি দেখেন ফাইনালের মতো এরকম ম্যাচে যখন এরকম একটা ইনিংস হয়, তখন পুরো দলের জন্যই একটা বাড়তি অনুপ্রেরণা জাগায় এবং ওই আত্মবিশ্বাসটা তৈরি হয়। ইনিংসের শুরুতেই এরকম একটা ইনিংস দলকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গেছে।”
“আমরা জানি তামিম (তানজিদ) কত ভালো ক্রিকেটার। শুরুর দিকে ভালোভাবে শুরুটাই করতে পারছিল না। কিন্তু শেষের কয়েকটি ইনিংস যদি দেখেন, তাহলে ইম্প্যাক্ট রেখেছে। তামিমের কাছ থেকে এরকমই আশা ছিল।”
তানজিদকে বলা একটি কথা মিলে যাওয়াতেও দারুণ তৃপ্ত শান্ত।
“একটা কথাই সবসময় তামিমকে পুরা টুর্নামেন্টে বলেছিলাম যে, ‘সব ম্যাচ ভালো খেলতে হবে না, জায়গামতো আমাকে ম্যাচটা জিতিয়ে দিও।’ কাজেই আলহামদুলিল্লাহ যে ও আসলে ঠিক সময়মতো খুব দারুণ একটা ইনিংস খেলেছে।”
ফাইনালের সেঞ্চুরিতে এক ধাপে অনেকটা এগিয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান স্কোরার হিসেবে আসর শেষ করেছেন তানজিদ। ১৩ ইনিংসে তার রান ৩৫৬, সমান ইনিংসে শান্তর রান ৩৫৫।