Published : 17 Apr 2026, 10:09 PM
কখনও বলছেন উইকেট ভালো, কখনও বলছেন চ্যালেঞ্জিং। সাইফ হাসানের কথা থেকে উইকেটের সংশয়পূর্ণ চিত্রই ফুটে উঠল, ঠিক বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের মতোই। ডিন ফিক্সক্রফট অবশ্য উইকেটে কোনো সমস্যা দেখছেন না। নিউ জিল্যান্ডের অলরাউন্ডার বললেন, উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পেরেছেন বলেই সফল হয়েছেন তারা।
ম্যাচের শুরুতে যখন দু-একটি বল নিচু হতে দেখা গেল, তখনই উইকেট নিয়ে প্রশ্ন জাগতে শুরু করল। সময়ের সঙ্গে সেই প্রশ্ন উচ্চকিত হলো আরও। সবশেষ সিরিজে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে প্রাণবন্ত উইকেট প্রশংসিত হয়েছিল দারুণ। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের আগে কোচ ফিল সিমন্স ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ জোর দিয়ে বলেছিলেন, এই সিরিজেও একইরকম উইকেটে খেলতে চান তারা। কিন্তু প্রথম ম্যাচের উইকেটে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র।
গত অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের মতো অতটা মন্থর ও টার্নিং উইকেট এটি অবশ্যই নয়। তবে এই উইকেটেও বাউন্স ছিল কিছুটা অসমান। বল কখনও কখনও থমকে এসেছে। টার্নও মিলেছে বেশ। শট খেলা ছিল কঠিন।
বাংলাদেশের পরাজয়ের কারণ অবশ্যই উইকেট নয়। এই উইকেটেও মানিয়ে নিয়ে দারুণ খেলে ২৬ রানে জিতে সিরিজে এগিয়ে গেছে নিউ জিল্যান্ড। এই উইকেটেও ২৪৮ রান তাড়ায় বাংলাদেশের জেতা উচিত ছিল ভালোভাবেই। শেষ ১০ ওভারে ৬৭ রান প্রয়োজন ছিল জয়ের জন্য, উইকেট ছিল ৬টি। ম্যাচ তো জেতাই উচিত!
কিন্তু মাঝের সময়টায় এতটাই থমকে ছিল রানের গতি, পরে সেটি পুষিয়ে নেওয়া যায়নি, উল্টো উইকেট পড়েছে টপাটপ। বাংলাদেশ হেরেছে স্কিলে ব্যর্থ হয়েই।
তার পরও উইকেট নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। বাংলাদেশ দল থেকেই এমন উইকেট চাওয়া হয়েছিল নাকি যেমন উইকেট চাওয়া হয়েছিল, তেমন মেলেনি?
উত্তরটা ভালো দিতে পারতেন কোচ বা অধিনায়ক কিংবা টিম ম্যানেজমেন্টের কেউ। তাদেরকে সংবাদ সম্মেলনে পাওয়া যায়নি। দলের প্রতিনিধি হয়ে এসেছিলেন সাইফ হাসান। ওপেনিংয়ে নেমে ফিফটি করা ব্যাটসম্যান বললেন উইকেট খুব সহজ ছিল না। তবে সেটিকে পরাজয়ের কারণও বলছেন না তিনি।

“আমার মনে হয় উইকেট প্রথম থেকেই একটু চ্যালেঞ্জিং ছিল। কিন্তু কিছু ভুল সময়ে আমাদের উইকেটগুলো পড়েছে। যেমন যদি আমি আরেকটু টেনে নিতে পারতাম… থিতু ব্যাটসম্যানের জন্য একটু সহজ ছিল। নতুন ব্যাটসম্যানের জন্য একটু কঠিন ছিল। কাজেই আমার মনে হয়, আমি যদি আরেকটু এগোতে পারতাম, আরেকটু সহজ হতো।”
সাইফের সংবাদ সম্মেলনে উইকেট নিয়ে প্রশ্ন হয়েছে বেশি। এই ম্যাচের ২২ গজ নিয়ে তার মূল্যায়নেও নানা সময়ে ঘুরেফিরে ফুটে উঠল মিশ্র ভাবনা। তবে আবারও বললেন, উইকেটকে পরাজয়ের অজুহাত হিসেবে দাঁড় করাতে চান না তিনি।
“পাকিস্তান সিরিজের উইকেট তো আপনারা দেখেছেন ‘ট্রু’ উইকেট ছিল। এখানেও উইকেট ভালো ছিল, এমন কোনো একদম খারাপ ছিল না। তবে আমার মনে হয় কিছু আমরা মানিয়ে নিয়ে একটু ভালোমতো (ব্যাটিং) করতে পারতাম। একটু চ্যালেঞ্জিং ছিল, তবে আমার মনে হয় এটা অজুহতি দেওয়ার কিছু নেই, যেহেতু আমরা আমাদের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছি জাতীয় দলে। এখানে আমাদের সেই স্কিল সেট অবশ্যই আছে, তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে আজকে আমরা করতে পারি নাই।”
পরে আরেকটি প্রশ্নেও তিনি বললেন একইরকম কথা।
“উইকেট তো ঠিক ছিল, একটা আইডিয়া ছিল যে কী রকম হতে পারে। তবে আজকে কিছুটা… একটু বেশি আনইভেন হয়েছে। তবে আমার মনে হয়, ওই অজুহাত দিয়ে আসলে বাঁচার কোনো উপায় নেই। আমরা ম্যাচে ছিলাম। ভুল সময়ে কিছু উইকেট পড়াতে আমার মনে হয় আমরা পিছিয়ে গেছি।”
এই ম্যাচে দুই দল মিলিয়ে একশর বেশি স্ট্রাইক রেট কেবল ডিন ফক্সক্রফটের। তার মূল্যায়ন বেশি জরুরি, কারণ তিনি অলরাউন্ডার। ৫৮ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলেছেন, পরে বল হাতে ৬ ওভারে ২৫ রান দিয়েছেন, দারুণ টার্নিং ডেলিভারিতে লিটন কুমার দাসকে আউট করেছেন।
উইকেট নিয়ে আপত্তি-অভিযোগের কিছু দেখছেন না তিনি। দ্রুত মানিয়ে নিতে পেরেই সফল হতে পেরেছেন বলে মনে করেন ২৭ বছর বয়সী অলরাউন্ডার।
“আমার মনে হয় উইকেটের আচরণ দারুণ ছিল। উইকেটের আচরণ নিয়ে অতীতে সবসময়ই মিশ্র বার্তা পেয়েছি। এবার অনুশীলনের উইকেটগুলোরও কৃতিত্ব দিতে হবে। অনুশীলনের উইকেটগুলো খুব ভালো ছিল এবং আজকের উইকেটের মতোই ছিল। আমাদের কাজ ছিল, উইকেটের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং এ নিয়ে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই।”