অ্যাশেজ
Published : 28 Dec 2025, 10:10 PM
স্রেফ দুই দিনে শেষ ম্যাচ। দুই দলের ইনিংসে নেই কোনো ফিফটি। এবারের অ্যাশেজের মেলবোর্ন টেস্টে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের এমন হতশ্রী পারফরম্যান্সে ভীষণ হতাশা জেফ বয়কট। এখনকার ব্যাটসম্যানদের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ইংলিশ সাবেক অধিনায়ক।
মেলবোর্নে ১০ মিলিমিটার ঘাসের উইকেটে প্রথম দিনই পড়ে ২০ উইকেট। প্রথম ইনিংসে ১৫২ রানে গুটিয়ে যাওয়া অস্ট্রেলিয়া পরে ইংল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে দেয় ১১০ রানে। দ্বিতীয়বার ব্যাটিংয়ে নেমে আরও বাজে অবস্থা হয় স্বাগতিকদের, ১৩২ রানে অলআউট হয় তারা। ১৭৬ রানে লক্ষ্য তাড়ায় ৪ উইকেট হাতে রেখে জিতে যায় সফরকারীরা।
প্রথম তিন ম্যাচে হেরে আগেই সিরিজ জয়ের স্বপ্ন ভাঙা ইংলিশরা এই জয়ে দীর্ঘ এক অপেক্ষার অবসান ঘটায়। ১৫ বছর আর ১৮ টেস্ট পর অস্ট্রেলিয়ার কোন টেস্ট জয়ের স্বাদ পায় তারা।
এই জয়ের ইংলিশদের কৃতিত্ব দিতে ভোলেননি বয়কট। দা টেলিগ্রাফে নিজের কলামে তিনি লেখেন, “ইংল্যান্ড বক্সিং ডে টেস্ট জিতেছে কারণ তারা অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে ভালো ক্রিকেট খেলেছে। এটা কোনো অঘটন নয়।”
এরপরই এমন ব্যাটিং বিপর্যয়ের গভীরে যান বয়কট। মেলবোর্নের বাজে ব্যাটিং প্রদর্শনীর জন্য এখনকার ক্রিকেটের ধরনের বেশি দায় দেখেন তিনি।
“ওয়ানডে ম্যাচগুলো ব্যাটিং সহায়ক পিচে খেলা হয়, গ্রাউন্ডসম্যানরা ওই ধরনের উইকেটই বানান যাতে ব্যাটসম্যানরা আধিপত্য করতে পারে। এটা সিমিং পিচে সুইং করা বলের বিপক্ষে ব্যাটিং শেখার সম্পূর্ণ বিপরীত।”
অস্ট্রেলিয়ায় অ্যাশেজ জুড়ে ভোগা ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের শূলে চড়ান ৮৫ বছর বয়সী বয়কট।
“আমাদের শীর্ষমানের ব্যাটসম্যানরা খুবই কম কাউন্টি ক্রিকেট খেলে এবং সফরগুলোয় টেস্ট ম্যাচের বাইরে কিছুই খেলে না। শুধুমাত্র নেটে অনুশীলন করে ব্যাটসম্যানরা সুইং করা বল সামলাতে পুরোপুরি দক্ষ হতে পারবে না।”
পরে ইংল্যান্ড ক্রিকেটের ঊর্ধ্বতন কর্তাদের সমালোচনার তিরে বিদ্ধ করেন ১০৮টি টেস্ট খেলে ৮ হাজারের বেশি রান করা বয়কট।
“দুঃখের বিষয় হলো, ইসিবির কর্তা ক্রিকেটারদেরকে আরও ৫০ ওভার, টি-টোয়েন্টি এবং হান্ড্রেড ক্রিকেট খেলাচ্ছে, কারণ এতে প্রচুর অর্থ আসে। আর আমরা জানি যে, তাদের কাছে সাফল্যের মানদণ্ড হলো অর্থ, অ্যাশেজ জয় বা বিশ্বের সেরা দল হওয়া নয়।”
বয়কট মনে করেন, প্রাণের ছোঁয়া থাকা উইকেটে কীভাবে ব্যাটিং করতে হয়, সেই ধারণাই নেই এখনকার ব্যাটসম্যানদের।
“জো রুট ইংল্যান্ডের সেরা টেকনিক্যাল ব্যাটসম্যান, কিন্তু স্বাভাবিক ব্যাটিং করতে গিয়ে সে দুইবার ব্যর্থ হয়েছে। এটা প্রমাণ করে, এখনকার ব্যাটসম্যানরা সিমিং পিচে কীভাবে রক্ষণাত্মক ব্যাটিং করতে হয় সেটা আসলে জানেই না।”
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং নিয়ে সমালোচনা করতেও ছাড়েননি বয়কট।
“আমাদের মধ্যে কয়েকজন সাবেক ক্রিকেটার এই সিরিজের আগে ও সিরিজ চলাকালীন বলেছিলেন যে, অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং সাধারণ মানের। আর দলটি মূলত স্মিথ ও হেডের উপর নির্ভরশীল। দ্বিতীয় ইনিংসে তাদের ব্যাটিং দেখিয়েছে, দলটির কতজনের মান আসলে খারাপ।”
প্রথম ইনিংসে লিড পাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার গা ছাড়া ভাব দেখা দিয়েছিল কিনা সে প্রশ্নও তোলেন বয়কট। যদিও সাবেক ব্যাটসম্যান বলেন, সব মিলিয়ে বাজে ব্যাটিং দেখেছেন তিনি।
“আমি জানি না (অস্ট্রেলিয়ার গা ছাড়া ভাব এসেছিল কিনা), তবে আমি যেটা দেখেছি, সেটা হলো খুবই বাজে ব্যাটিং।”
সিডনিতে আগামী রোববার শুরু অ্যাশেজের পঞ্চম ও শেষ টেস্ট।