Published : 24 Jul 2025, 12:42 AM
‘বিস্তারিত বলব না, তবে বাংলাদেশ গর্ব করতে পারে’- চওড়া হাসিতে এই কথা বলে বাড়ির পথে রওনা হলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। কী নিয়ে গর্ব করতে পারে দেশ, সেটি অবশ্য আগেই বলেন তিনি। সব শঙ্কা পেরিয়ে, ঢাকায় বৃহস্পতিবার এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) বার্ষিক সাধারণ সভায় যোগ দেবে সব সদস্য। তবে এই কার্যসম্পাদনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে চাননি বিসিবি সভাপতি।
সাধারণত নীরবে-নিভৃতেই হয় এসিসির বার্ষিক সাধারণ সভা। তবে এবার ঢাকায় হতে যাওয়া এই সভায় অংশ নেওয়া নিয়ে শুরুতে বিসিসিআইয়ের (বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া) আপত্তির কারণে সৃষ্টি হয় অনিশ্চয়তা। পরে আফগানিস্তান ও শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট বোর্ডেরও অংশ নিতে না চাওয়ার খবর জানা যায়।
সভার নির্ধারিত সময়ের ৪৮ ঘণ্টা আগেও নিশ্চিত ছিল না আইসিসির পূর্ণ সদস্য তিন দেশের অংশগ্রহণ। তবে আগের রাতে আমিনুল জানালেন, শেষ পর্যন্ত এসিসির সভায় যোগ দিতে রাজি হয়েছে সব দেশ।
এসিসি সভার আগের দিন ছিল আনুষ্ঠানিক নৈশভোজ। সেখানে অংশ নেন এরই মধ্যে সভার জন্য বাংলাদেশে চলে আসা বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিনিধিরা। এছাড়া বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ক্রিকেটাররাও যোগ দেন বিশেষ এই আয়োজনে।
নৈশভোজ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আমিনুল বলেন, ক্রিকেটের স্বার্থে সব দেশকে রাজি করাতে পেরেছে বিসিবি।
“গত দুই দিন ধরে বেশ কিছু পরিকল্পনা করছি। সবার আগে ক্রিকেট। আমাদের সবার মধ্যে যদি কোনো ভুল বোঝাবুঝি থেকে থাকত, যেহেতু বাংলাদেশে এসিসির এজিএমটা হোস্ট করছি, সেই দায়িত্বটা নিয়ে সকলের সাহায্য নিয়ে আমরা সবাইকে রাজি করাতে পেরেছি ক্রিকেটের স্বার্থে।”
তবে সব দেশের প্রতিনিধিরা সশরীরে উপস্থিত থাকবেন না। ভারত ও শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধি যুক্ত হবেন অনলাইনে। আর বুধবার রাতে বাংলাদেশে আসার কথা আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড প্রতিনিধির। আর সহযোগী সদস্য দেশগুলো চলে এসেছে আগেই।
“কালকের এসিসির এজিএমে সবাই অংশ নিচ্ছে। যারা আসতে পারছে না, তারা অনলাইনে যোগ দেবে। যারা এরই মধ্যে চলে এসেছে, তিনটা পূর্ণ সদস্য... আজ রাতে আফগানিস্তান আসবে। পাকিস্তান, বাংলাদেশ আছে এখানে। ভারত বলেছে অনলাইনে যোগ দেবে, শ্রীলঙ্কা যোগ দেবে। সব মিলিয়ে সবাই যুক্ত হচ্ছে।”
“এখন পর্যন্ত তা-ই (ভারত-শ্রীলঙ্কা অনলাইনে যুক্ত হবে)। শ্রীলঙ্কা নিশ্চিত করে বলেছে, তারা জয়েন করবে। আর ভারত বলেছে লাইকলি টু বি। তবে তাদের সেক্রেটারির সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা জয়েন করবে।”
ক্রিকেটের পরাশক্তি হয়ে ওঠার পর থেকে এসিসিকে আর তেমন গুরুত্ব দেয় না বিসিসিআই। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সভাপতি মহসিন নাকভি এসিসিরও প্রধান হওয়ার পর সেই দূরত্ব বেড়েছে আরও।
এর সঙ্গে আছে দুই দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েন। গত এপ্রিলে কাশ্মীরের পাহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে দুই দেশের মতো দুই ক্রিকেট বোর্ডের সম্পর্কও চলে গেছে মুখ না দেখাদেখির মতো অবস্থায়।
এর মধ্যে নাকভির অনুরোধে ঢাকায় এসিসি সভা আয়োজনে বিসিবি রাজি হওয়ায় বিসিসিআই খুব একটা সন্তুষ্ট নয়, ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে এই খবর। সব মিলিয়েই ছিল বিসিসিআইয়ের সভায় যোগ দিতে না চাওয়ার সিদ্ধান্ত।
এত জটিলতার মধ্যে ভারতকে এসিসির সভায় রাজি করাতে বিসিবির কী ভূমিকা ছিল জানতে চাইলে, বিস্তারিত বলেননি আমিনুল।
“আমি এখানে বিস্তারিত বলব না। তবে বাংলাদেশ গর্ব করতে পারে। আমি বিস্তারিত বলব না। তবে আমি বাংলাদেশের একজন প্রতিনিধি হিসেবে গর্ব করতে পারি, আমরা যে কাজটা করেছি।”