১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মিরাজকে এখন আর শুধু রান আটকানোর স্পিনার মনে করেন না মুশতাক

মিরাজের বোলিংয়ে বৈচিত্র বেড়েছে এবং আরো বৈচিত্র বাড়ানো কাজ করে যাচ্ছেন তিনি, বললেন বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ।

বিডিনিউজ২৪

ক্রীড়া প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম থেকে,

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Apr 2026, 01:57 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:29 PM

মেহেদী হাসান মিরাজের বোলিং বৈচিত্রের ঘাটতি নিয়ে কথা বললে মুশতাক আহমেদের একটি জবাব এখন তৈরি হয়েই আছে। টম ল্যাথামকে আউট করা ডেলিভারিটি দেখেছেন? ওভারস্পিন করা সেই ডেলিভারিটিকে স্রেফ একটি নমুন বললেন বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ। তার মতে, মিরাজের বোলিংয়ে বৈচিত্র বাড়ছে এবং আরও বাড়াতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক।

নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ অবশ্য শেষ। মিরাজের বোলিং দেখার পালাও আপাতত শেষ। টি-টোয়েন্টি সিরিজের দলে তিনি নেই। তবে তার বোলিং নিয়ে বিশ্লেষণও থেমে নেই। 

বাংলাদেশের ওয়ানডে বোলিং আক্রমণে মিরাজকে মূলত রান আটকানোর ভূমিকাতেই দেখা গেছে বেশির ভাগ সময়। তার বোলিংয়ের ধরনটাই এমন যে, উইকেট শিকারি বোলার হওয়ার সুযোগ খুব একটা নেই। আধুনিক স্পিনারদের মতো দুই দিকেই বল টার্ন করানো বা ক্যারম বল কিংবা স্লাইডার, বা এই ধরনের ডেলিভারি তার নেই। প্রথাগত অফ স্পিন বৈচিত্রের ওপরই তাকে নির্ভর করতে হয়।

তার পারফরম্যান্সেও একটা সময় ভাটার টান পড়েছিল প্রবলভাবে। এক পর্যায়ে তো টানা পাঁচ ওয়ানডেতে উইকেট পাননি। পরে গত বছর থেকে একটু একটু করে নিজেকে ফিরে পেতে শুরু করেছেন। গত দুটি সিরিজে বেশ ভালো বোলিংই করেছেন। কিন্তু নিষ্প্রাণ ব্যাটিং উইকেটে তার বোলিং কতটা কার্যকর হবে, আগামী বছরের বিশ্বকাপের ভেন্যু দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের কন্ডিশনে সেরা একাদশে জায়গা তার প্রাপ্য কি না, এমন অনেক প্রশ্ন এখনও আছে তাকে নিয়ে।

ওয়ানডে সিরিজ শেষে মিরাজ বলেছিলেন, মুশতাকের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে বোলিংয়ে উন্নতি হচ্ছে তার। চট্টগ্রামে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে মুশতাক শোনালেন মিরাজকে নিয়ে আশার কথা। 

“সে তো এটা করেছে। মাঝের ওভারগুলোতে উইকেট পেয়েছে। গত ম্যাচে সে ল্যাথামের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উইকেট পেয়েছে। সে (ল্যাথাম) ভালো ব্যাটসম্যান, অন্যদেরকেও নিজের সঙ্গে টেনে নিতে পারে সে। (তাকে আউট করা) ওই বলটা ওভারস্পিন ছিল। এ কারণেই বলছি, মিরাজ উন্নতি করছে। তার ভূমিকা শুধু রান আটকানোই নয়।”

“এখন তার বোলিংয়ে বৈচিত্র্য আনা… সে কোনো রহস্য স্পিনার নয়… কিন্তু একটা জিনিস সে করতে পারে, সে তার বৈচিত্র আরও বাড়াতে পারে, যেটির কাজ সে করে যাচ্ছে। এর কৃতিত্ব অবশ্যই তার প্রাপ্য।”

এই সময়ের ক্রিকেটে স্পিন বোলিংয় সাফল্য পেতে হলে বৈচিত্রের বিকল্প নেই, সেটি জোর দিয়েই বলছেন মুশতাক।

“একজন স্পিন বোলিং কোচ হিসেবে আমার দৃষ্টিকোণ থেকে, বৈচিত্র থাকতেই হবে। বৈচিত্র দেখাতে হবে, গতি পরিবর্তন করতে হবে, বিশেষ করে পশ্চিমা ক্রিকেটার, পশ্চিমা ব্যাটসম্যানদের ক্ষেত্রে। কারণ, তাদের হাত খুব দ্রুত চলে। যখন তাদের হাত দ্রুত চলে, একজন স্পিন বোলার হিসেবে গতিতে বৈচিত্র্য আনতে হবে। গতিতে বৈচিত্র্য আনতে পারলে তাদেরকে বিভ্রান্ত করা যাবে। এভাবেই সে ল্যাথামের উইকেটটি পেয়েছে এবং সে ভালো বোলিং করে আসছে।”

এই সময়ের রহস্য স্পিনারদের মতো বৈচিত্র বা আলোচিত ডেলিভারিগুলো যে মিরাজের ক্ষেত্রে রপ্ত করা কঠিন, তা জানেন মুশতাক। কিন্তু বোলিংয়ে বৈচিত্র যোগ করার অনেক পথের কথাও তিনি বললেন নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের উদাহরণ দিয়ে।। 

“সামগ্রিকভাবে, যেমনটা আমি বলেছি, ক্রিজের গভীরতা এবং অ্যাঙ্গল ব্যবহার করা… ক্রিকেট পুরোটাই অ্যাঙ্গলের খেলা। সেই অ্যাঙ্গলগুলো এবং ব্যাটসম্যানদের যদি বুঝতে পারা যায় —আমি মাঝেমধ্যেই এটা বলি এবং বিশ্বাসও করি, নিজেও এটা করেছি—ফিল্ডিং পজিশন এবং কৌশলগত পদক্ষেপের মাধ্যমেও প্রতিপক্ষকে আউট করা যায়। যদি সেই কৌশলগত চালগুলো জানা থাকে।”

“যেমন, কীভাবে তাদের রান করা থামানো যায়, তাদের শক্তি কোথায়—যদি ম্যাচের মধ্যে তা বের করতে পারে এবং সেই কৌশল তৈরি করে পরিকল্পনা প্রয়োগ ভালোভাবে করতে পারেন, তাহলে ম্যাচ জেতার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।”