Published : 23 Aug 2025, 05:47 PM
ম্যাচের শেষ দিকে বেশ উত্তেজনা। না, সেটি ম্যাচের ফল নিয়ে নয়। বরং কৌতূহল তখন ম্যাকেঞ্জি হার্ভির সেঞ্চুরি হবে তো! দলের জয়ের জন্য যখন প্রয়োজন ১ রান রান, তার শতরান ছুঁতে লাগে তখন ২। বাউন্ডারি মেরে সেঞ্চুরি ছুঁয়ে দলকে জেতালেন এই ওপেনার। শেষ হয়ে গেল অস্ট্রেলিয়ার এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের পথচলা।
এই ম্যাচে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের চ্যালেঞ্জ ছিল কঠিন। টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজের সেমি-ফাইনালে খেলতে হলে জয়ই যথেষ্ট ছিল না, প্রয়োজন ছিল বিশাল ব্যবধানে জিতে রান রেট বাড়ানো। কিন্তু হলো উল্টো। ৭ উইকেটের দাপুটে জয়ে অ্যাডিলেইড স্ট্রাইকার্স একাডেমি।
ছয় ম্যাচে স্রেফ দুটি জয় আর চার পরাজয় নিয়ে আসর শেষ করল নুরুল হাসান সোহানের দল। গত বছর এই টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলেছিল বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স দল। এবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ দল নিয়েও ১১ দলের মধ্যে অবস্থান নবম। আরও বিব্রতকর ব্যাপার, চার পরাজয়ের তিনটিই একাডেমি দলের বিপক্ষে!
ডারউইনে শনিবার প্রাথমিক পর্বের শেষ ম্যাচে ২০ ওভারে বাংলাদেশ তোলে ১৭৫ রান। অ্যাডিলেইড স্ট্রাইকার্স একাডেমি ম্যাচ জিতে যায় ১১ বল বাকি রেখে।
১৫ চার ও ১ ছক্কায় ৫৩ বলে ১০২ রানে অপরাজিত থাকেন ম্যাকেঞ্জি হার্ভি।
স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ৪৫ ম্যাচ খেলে তার গড় ২০.১১, স্ট্রাইক রেট ১১৭.৭২। এই টুর্নামেন্টে আগের পাঁচ ইনিংসের কোনোটিতে ৪০ ছুঁতে পারেননি। তিনিই তুলাধুনা করলেন বাংলাদেশ ‘এ’ দলের বোলারদের। ২৪ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অলরাউন্ডার ইয়ান হার্ভির ভাইয়ের ছেলে।
মারারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ উদ্বোধনী জুটিতে ৪৮ রান তোলে পাওয়ার প্লেতে। সেটি মূলত জিসান আলমের সৌজন্যে। আরেক প্রান্তে মোহাম্মাদ নাঈম শেখ আউট হন ১৭ বলে ১৫ রান করে।
ঠিক আগের ম্যাচের মতোই বাঁহাতি স্পিনারের বাইরের বল জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলে স্টাম্পে টেনে আনেন নাঈম। এশিয়া কাপের বাংলাদেশ দলে ফেরা সাইফ হাসান তিনে নেমে ধুঁকতে থাকেন।
তবে জিসান ছিলেন আপন রূপেই। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সফলতম ব্যাটসম্যান ফিফটি করেন ৩৭ বলে। তবে সেখানেই শেষ তার ইনিংস।
তিন বলের মধ্যে সাইফ (১৯ বলে ১৫) ও জিসানকে (৩৮ বলে ৫০) বিদায় করেন পেসার হ্যানো জ্যাকবস। দুজনই আউট হন উড়িয়ে মারার চেষ্টায়।
সাইফের মতো এশিয়া কাপের দলে জায়গা পাওয়া নুরুল হাসান সোহানও পারেননি ভালো কিছু করতে (৮ বলে ৬)।

দলের রানের গতি কমে আসে অনেকটাই। তার পরও বাংলাদেশ ১৭৫ পর্যন্ত যেতে পারে আফিফ হোসেন ও ইয়াসির আলি চৌধুরির সৌজন্যে। পঞ্চম উইকেটে ২৯ বলে ৭০ রানের জুটি গড়েন দুজন।
৫ চার ও ৩ ছক্কায় ২৩ বলে ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন আফিফ। টুর্নামেন্টে তার চতুর্থ ৪০ ছোঁয়া ইনিংস এটি। এর মধ্যে দুটি ছিল ধীরগতির, দুটিতে তিনি দাবি মিটিয়েছেন দলের।
১৫ বলে ২৫ রানে অপরাজিত থাকেন ইয়াসির। আগের দুই ম্যাচে ১৩ বলে ২২ ও ১৯ বলে ২৯ রানের ইনিংস তিনি খেলেছিলেন।
রান তাড়ায় স্ট্রাইকার্স একাডেমি জয়ের পথ তৈরি করে ফেলে শুরুর জুটিতেই। ম্যাকেঞ্জি হার্ভি ও জেইক উইন্টার গড়েন ১২.৪ ওভারে ১২৩ রানের জুটি।
ইনিংসে প্রথম বলে নাঈম হাসানকে বাউন্ডারি মেরে শুরু করা হার্ভি পরে এই অফ স্পিনারকেই টানা দুই বলে চার ও ছক্কায় পঞ্চাশ পেরিয়ে যান ২৪ বলে।
উইন্টার ৩৫ রান করে ৩৫ বলে। তিনে নেমে হ্যারি নিলসেন (৩) ফেরেন দ্রুত। টম ও’কনেল (৬) একটি ছক্কা মেরেই আউট হয়ে যান সাইফের বলে আরেকটির চেষ্টায়।
তবে দ্রুত তিন উইকেট হারালেও তাদের জয় নিয়ে সংশয় জাগেনি কোনো।
হার্ভির রান যখন ৯২, জিততে তখনও ৪০ রান লাগে স্ট্রাইকার্স একাডেমির। মনে হচ্ছিল, সেঞ্চুরিটি করে ফেলবেন তিনি অনায়াসেই। কিন্তু হ্যারি ম্যানেন্টি ক্রিজে দিয়ে দুটি ছক্কা একটি চার মেরে সংশয় ফেলে দেন সঙ্গীকে।
জয়ের জন্য যখন এক রান প্রয়োজন, স্ট্রাইকে তখন ম্যামেন্টিই। ওভারের শেষ বলটি ঠেকিয়ে দেন তিনি কেতাবি ডিফেন্সে। পরের ওভারের প্রথম বলে বাউন্ডারি মেরে দুটি লক্ষ্যই পূরণ করে ফেলেন হার্ভি।
রোববার প্রথম সেমি-ফাইনালে লড়বে শিকাগো কিংসমেন ও অ্যাডিলেইড স্ট্রাইকার্স একাডেমি, দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে পাকিস্তান শাহিনস ও পার্থ স্কর্চার্স একাডেমি। দুটি সেমি-ফাইনাল একই দিনে ফাইনাল।
বাংলাদেশ ‘এ’ দল একটি চারদিনের ম্যাচ খেলবে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে। ডারউইনেই ম্যাচটি শুরু বৃহস্পতিবার।
বাংলাদেশ ‘এ’: ২০ ওভারে ১৭৫/৪ (জিসান ৫০, নাঈম ১৫, সাইফ ১৫, আফিফ ৪৯*, সোহান ৬, ইয়াসির ২৫*; থমসন ৪-০-৩৮-০, ওকলি ৪-০-৪০-০, জ্যাকবস ৪-০-৩৩-৩, ওয়াদিয়া ৪-০-২১-১, ও’কনেল ৪-০-৪২-০)।
অ্যাডিলেইড স্ট্রাইকার্স একাডেমি: ১৮.১ ওভারে ১৭৯/৪ (হার্ভি ১০২*, উইন্টার ৩৫, নিলসেন ৩, ও’কনেল ৬, ম্যানেন্টি ২৫*; নাঈম ৪-০-২৯-০, রিপন ২-০-২৭-০, রকিবুল ৪-০-৩৭-০, সাইফ ৩-০-২৮-২, মৃত্যুঞ্জয় ৩.১-০-৩২-১, আফিফ ১-০-১১-০, মাহফুজুর ১-০-১৪-০)।
ফল: অ্যাডিলেইড স্ট্রাইকার্স একাডেমি ৭ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: ম্যাকেঞ্জি হার্ভি।