দা হান্ড্রেড
Published : 13 Mar 2026, 08:31 PM
ইংল্যান্ডের একশ বলের টুর্নামেন্ট দা হান্ড্রেডে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের ওপর ভারতের ছায়া নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে আবরার আহমেদকে দলে নিয়ে তোপের মুখে পড়েছে সানরাইজার্স লিডস। ভারতীয় মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজিটির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই) সহ-সভাপতি রাজিব শুক্লা বলেছেন, এখানে তাদের কিছুই করার নেই।
দা হান্ড্রেডের আট ফ্র্যাঞ্চাইজির চারটিই আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি সংশ্লিষ্ট ভারতীয় মালিকানাধীন। গত মাসে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ক্রিকেটারদের এজেন্টদেরকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ভারতীয় মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোতে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের নেওয়া হবে না।
সেই ছায়া নিষেধাজ্ঞার পর বৃহস্পতিবারের নিলামে এই চারটি ফ্র্যাঞ্চাইজি পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের জন্য বিড করবে কি-না, তা নিয়ে ছিল কৌতূহল। তবে ট্রেন্ট রকেটসের সঙ্গে লড়াইয়ে জিতে ৭৫ হাজার পাউন্ড ভিত্তিমূল্যের পাকিস্তানি লেগ স্পিনার আবরারকে এক লাখ ৯০ হাজার পাউন্ডে কিনে নেয় সানরাইজার্স লিডস।
ভারতীয় মিডিয়া গ্রুপ সান টিভি গত বছর আগের নর্দার্ন সুপারচার্জার্স নামে পরিচিত এই ফ্র্যাঞ্চাইজির পুরো মালিকানা কিনে নেয়। এই গ্রুপেরই মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজি আইপিএলের সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ টোয়েন্টির সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপ।
আবরারকে দলে নেওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েন ফ্র্যাঞ্চাইজিটির কর্ণধারদের একজন কাভ্য মারান, যিনি নিজেও নিলামের টেবিলে ছিলেন। নিলামের পর ফ্র্যাঞ্চাইজিটির এক্স (আগের টুইটার) হ্যান্ডল কয়েক ঘণ্টা স্থগিত ছিল।
বিসিসিআই সহ-সভাপতি রাজিব শুক্লা শুক্রবার বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেন, দা হান্ড্রেডের কোনো কিছু তাদের এখতিয়ারে নেই।
“আইপিএলের সঙ্গে এটি মোটেও সম্পর্কিত নয়। এটি একটি বিদেশি লিগ। এটি আমাদের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না। এখানে আমরা কিছু করতে পারি না। সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে।”
“আমাদের এখতিয়ার আইপিএলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বাইরের লিগে তারা কী করে, তার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। বিদেশি লিগে একজন খেলোয়াড়কে চুক্তিবদ্ধ করানোর ক্ষেত্রে আমরা কীভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারি। এটি তাদের নিজস্ব ব্যাপার। এটি পুরোপুরি ফ্র্যাঞ্চাইজির ওপর নির্ভর করে, যারা ভারতের বাইরে একটি দল কিনেছে।”
আবরারকে দলে নেওয়ার ব্যাখ্যা দিয়েছেন সানরাইজার্স লিডসের কোচ ড্যানিয়েল ভেটোরি। পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের না নেওয়ার বিষয়ে তাদের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি জানিয়ে নিউ জিল্যান্ডের স্পিন গ্রেট বলেন, সবাইকে নিয়েই তাদের পরিকল্পনায় ছিল।
“আদিল রাশিদকে (সাউদার্ন ব্রেইভের কাছে) হারানোর পর আমরা স্বাভাবিকভাবেই বিদেশি স্পিনারের দিকে ঝুঁকেছি। চার বা পাঁচজন খেলোয়াড়ের ওপর আমাদের নজর ছিল এবং আবরার তাদের মধ্যে একজন। তাকে পেয়ে আমরা খুব খুশি।”
“নিলামে যারা ছিল তাদের সবার জন্যই আমরা পরিকল্পনা করেছিলাম। পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের না নেওয়ার বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। কে সেরা বিকল্প, তা নিয়েই শুধু আলোচনা হয়েছিল… রিশাদ হোসেন, উসমান তারিক ও আবরার আহমেদ সবাই আমাদের রাডারে ছিল।”
বাংলাদেশের লেগ স্পিনার রিশাদের নাম নিলামে উঠলেও তাকে কেউ কেনেনি। বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে এক লাখ পাউন্ডে নিয়েছে বার্মিংহাম ফিনিক্স।
শাহিন শাহ আফ্রিদি শেষ মুহূর্তে নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর নিলামের চূড়ান্ত তালিকায় থাকা পাকিস্তানের ১৩ ক্রিকেটারের মধ্যে দল পেয়েছেন শুধু আবরার ও তারিক। অফ স্পিনার তারিককে এক লাখ ৪০ হাজার পাউন্ডে নিয়েছে বার্মিংহাম ফিনিক্স, যারা ভারতীয় মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজি নয়।
বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি ক্রিকেটার এর আগে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মালিকানাধীন বা আংশিক মালিকানাধীন বিশ্বব্যাপী অন্যান্য টি-টোয়েন্টি লিগের দলগুলোয় খেলেছেন। কিন্তু প্রতিবেশী দুই দেশের রাজনৈতিক বৈরিতায় ২০০৮ সালের পর থেকে কোনো সক্রিয় পাকিস্তানি ক্রিকেটার আইপিএলে খেলার সুযোগ পাননি।
সানরাইজার্স লিডসের আবরারকে দলে নেওয়াটা ভারতে অনেকে ভালোভাবে নেয়নি। তাকে ছেড়ে দেওয়ার দাবিও সামাজিক মাধ্যমে তুলেছেন কেউ কেউ।
গত নভেম্বরে আইপিএলের নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মুস্তাফিজকে দলে নেওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে তোপের মুখে পড়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগে ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও ধর্মীয় কিছু গোষ্ঠীর প্রতিবাদের মুখে ভারতীয় বোর্ডের নির্দেশে জানুয়ারির শুরুতে তাকে দল থেকে ছেড়ে দেয় কলকাতা।
এরপর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ভারত-বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক। নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বলে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যায়নি বাংলাদেশ। তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেয় আইসিসি।