Published : 20 Oct 2025, 07:10 PM
টি-টোয়েন্টিতে রিশাদ হোসেনকে ছাড়া বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ এখন ভাবাই যায় না। ওয়ানডেতেও আলো ছড়াতে শুরু করেছেন এখন। এই পথচলায় সামনে তাকে টেস্ট ক্রিকেটেও দেখছেন মুশতাক আহমেদ। বাংলাদেশের স্পিন কোচের ধারণা, ভবিষ্যতে লাল বলের ক্রিকেটও রাঙাবেন রিশাদ।
তার আন্তর্জাতিক অভিষেক ২০২৩ সালে। ব্যাটে-বলে পারফরম্যান্সে টি-টোয়েন্টি দলে আপন জায়গা করে নেন তিনি দ্রুতই। তবে বিশ্ব ক্রিকেটের নজর কাড়তে শুরু করেন মূলত গত বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে। ১৪ উইকেট নিয়ে এক আসরে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ডও গড়েন।।
৫০টি টি-টোয়েন্টি তার খেলা হয়ে গেছে। ওয়ানডেতে তার ক্যারিয়ারের এখনও বলা যায় হাঁটি হাঁটি পা পা চলছে। এর মধ্যেই গড়ে ফেলেছেন রেকর্ড। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে শনিবার ৬ উইকেট শিকার করেছেন বাংলাদেশের প্রথম স্পিনার হিসেবে।
যার সংস্পর্শে নিজেকে এখন শাণিত করছেন তিনি, সেই মুশতাক দারুণ উচ্ছ্বসিত তরুণ এই লেগ স্পিনারকে নিয়ে। বাংলাদেশের স্পিন কোচের বিশ্বাস, সাদা বলের দুই সংস্করণের মতো টেস্টেও ভালো করতে পারবেন রিশাদ।
‘‘আমার শতভাগ প্রত্যাশা আছে (রিশাদ টেস্ট খেলবে)। শেষ চার উইকেটে এখন সব দলেই ব্যাট করতে পারে। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ডের মতো দল, লম্বা ব্যাটিং লাইনআপ নিয়ে নামে। সেখানে রিশাদের মতো লেগ স্পিনার, যার উচ্চতাকে কাজে লাগিয়ে বাউন্স পায় যারা, টেস্ট ক্রিকেটে বা ৫০ ওভারের ক্রিকেটে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে এবং ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে। কারণ শেষ চার ব্যাটসম্যান রং আন পড়তে পারে না। তবে জায়গাটা তাকে অর্জন করে নিতে হবে নিজের বোলিং দিয়েই।’’
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে রিশাদের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের ছবিটা এমনিতে উজ্জ্বল নয়। ২১ ম্যাচ খেলে স্রেফ ৩১ উইকেট তার। তবে স্রেফ এই পরিসংখ্যান থেকে সবটুকু বোঝা কঠিন। অনেক সময়ই বোলিং করার সুযোগ তিনি পাননি বা বোলিং পেলেও যথেষ্ট ওভার করতে পারেননি।
মুশতাক জানালেন, বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটের প্রতি রিশাদের যথেষ্ট অনুরাগও আছে।
‘‘যদি টেস্ট দলে না থাকে, তাহলে ওকে চার দিনের ক্রিকেট খেলতেই হবে। ও নিজেও আগ্রহী। আমি ওর সঙ্গে কথা বলেছি, ও খুবই উৎসাহী প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলতে। কারণ ও জানে, লাল বলের ক্রিকেট খেললে ভালো থেকে আরও ভালো হয়ে উঠবে ও।’’
সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরে আফগান লেগ স্পিন তারকা রাশিদ খানের সঙ্গে কথা বলেছের, সময় কাটিয়েছেন রিশাদ। মুশতাকও তখন ছিলেন সেখানে। রাশিদের সঙ্গে কথোপকথন রিশাদকে আরও সমৃ্দ্ধ করেছে বলেই মনে করেন স্পিন কোচ।
“খুব ভালো (আলোচনা হয়েছে দুজনের)। আমি চেয়েছিলাম রিশাদ যেন রাশিদের সঙ্গে কথা বলে। তারা দুজনের মধ্যে দারুণ কিছু ভাবনার বিনিময় হয়েছে। রাশিদের থেকে রিশাদ পুরো আলাদা ধরণের বোলার। কিন্তু স্পিন নিয়ে দুজনেরই বোধ দারুণ।”
“রিশাদের মতো তরুণদের জন্য রাশিদ (খান) বা আদিলের (রাশিদ) মতো সিনিয়রদের সঙ্গে কথা বলা খুবই জরুরি। এটা দারুণ ব্যাপার যে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এখন রিশাদকে গুরুত্ব দেওয়া শুরু হয়েছে।”