Published : 28 Jun 2025, 06:17 PM
ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোচ ড্যারিন স্যামির পর অধিনায়ক রোস্টন চেইসও বারবাডোজ টেস্টে আম্পায়ারিং নিয়ে সমালোচনায় সরব হলেন। তার বিশ্বাস, একাধিক প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফলে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে। আম্পায়ারদের আরও বেশি জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
সিরিজের প্রথম টেস্টে তিন দিনেই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৫৯ রানে হেরেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে ম্যাচের টিভি আম্পায়ার আড্রিয়ান হোল্ডস্টকের কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কোচ স্যামি। ওই সিদ্ধান্তগুলো কীভাবে দেওয়া হয়েছে, সেটা পরিষ্কার হতে দিনের খেলা শেষে ম্যাচ রেফারি জাভাগাল শ্রীনাথের সঙ্গে দেখাও করেন সাবেক ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক।
ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ক্ষুব্ধ করে তোলা সিদ্ধান্তগুলোর একটি হলো চেইসের আউট। প্রথম ইনিংসে ৪৪ রান করা চেইসকে এলবিডব্লিউ দেন আম্পায়ার। ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক রিভিউ নেন সঙ্গে সঙ্গে, রিপ্লে দেখে মনে হতে পারে, বল লেগেছে তার ব্যাটে। আল্ট্রা এজ-এ বেশ কিছু রেখা দেখা যায় বটে, তবে পরিষ্কার বোঝা যায়নি। মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন টিভি আম্পায়ার।
তখন ধারাভাষ্যকার ও সাবেক ক্যারিবিয়ান ফাস্ট বোলার ইয়ান বিশপ বলেন, “আমি এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নই। ব্যাটের কাছে আসার সঙ্গে সঙ্গে বলের দিক পরিবর্তন হতে দেখা যাচ্ছে।”
একই ইনিংসে ৪৮ রান করা শেই হোপ আউট হন কিপার অ্যালেক্স কেয়ারির দারুণ ক্যাচে। তবে এক হাতে নেওয়া ক্যাচটি মাটি স্পর্শ করেছিল কি-না, সেই সংশয়ের অবকাশ ছিল যথেষ্ট।
অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংসে ট্রাভিস হেডের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কট বিহাইন্ডের আবেদনের পর টিভি আম্পায়ার রিপ্লে দেখে সিদ্ধান্ত দেন যে, বল কিপার হোপের গ্লাভসে পৌঁছানোর ঠিক আগে মাটি স্পর্শ করেছিল। তবে ক্যারিবিয়ানদের মনে হয়েছিল, এটা আউট হওয়া উচিত ছিল।
প্রথম দুই দিনে দারুণ লড়াইয়ের পর অস্ট্রেলিয়া তৃতীয় দিন শুরু করে ৬ উইকেট হাতে রেখে ৮২ রানে এগিয়ে থেকে। তবে এ দিন ব্যাটে-বলে দাপট দেখিয়ে অনায়াসে ম্যাচ জিতে নেয় সফরকারীরা।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে টিভি আম্পায়ার হোল্ডস্টকের সমালোচনা করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের নতুন টেস্ট অধিনায়ক চেইস।
“ম্যাচ অফিসিয়ালদের নিয়ে বললে: হ্যাঁ, এটা হতাশাজনক, কারণ খেলোয়াড় হিসেবে যখন আমরা ভুল করি, যখন আমরা সীমা ছাড়িয়ে যাই, তখন আমাদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়। কখনও কখনও নিষিদ্ধও করা হয়। আর্থিক জরিমানা বা অন্য কিছুও হতে পারে। কিন্তু ম্যাচ অফিসিয়ালদের? তাদের কখনও কিছুই হয় না। তাদের কেবল একটি ভুল সিদ্ধান্ত বা প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত হয়েই রয়ে যায় এবং সবকিছু চলতে থাকে।”
“ছেলেদের ক্যারিয়ারের কথা বললে, একটি খারাপ সিদ্ধান্ত একজনের ক্যারিয়ার গড়তে বা ভেঙে দিতে পারে। তাই আমি মনে করি, সবার ক্ষেত্রে সমান হওয়া উচিত। কারও বিপক্ষে খারাপ সিদ্ধান্ত গেলে, কিছু শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।”
চেইস খারাপ সিদ্ধান্তের জন্য আম্পায়ারদের ‘নতুন’ শাস্তির কথা বললেও, আইসিসির অবশ্য একটি বার্ষিক মূল্যায়ন প্রক্রিয়া আছে, যেখানে পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক আম্পায়ারদের এলিট প্যানেল থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে।
টিভি আম্পায়ারের প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্তগুলো যে ম্যাচের ফলে প্রভাব ফেলেছে, তা নিয়ে কোনো সংশয় নেই চেইসের।
“আমি মনে করি এটা (আম্পায়ারিং) ম্যাচে বড় প্রভাব ফেলেছে। কারণ যেমনটা বলেছি, ব্যাটসম্যানরা মাঠে নেমে কী করতে পারে, তা আপনারা দেখেন। আমি আর হোপ ভালো খেলছিলাম এবং তারপর কিছু সিদ্ধান্ত আমাদের বিপক্ষে গেল। এমনকি প্রথম ইনিংসে যখন আমরা বোলিং করছিলাম, তখন একটি ক্যাচের সিদ্ধান্তও আমাদের বিপক্ষে গিয়েছিল, তাই স্কোর কত হতে পারে, তা কেউ বলতে পারবে না। তবে আমি এটা (আম্পায়ারিং) নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করতে চাই না।”
অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্স বলেন, আম্পায়ারিং নিয়ে তাদের কোনো সমস্যা নেই।
“আমাদের যদি মনে হয়, (আউটের) সম্ভাবনা আছে, তাহলে আমরা আবেদন করি, ডিআরএস ব্যবহার করি এবং বাকিটা আম্পায়ারদের ওপর ছেড়ে দেই।”
ম্যাচ অফিসিয়ালদের নিয়ে মন্তব্যের জন্য চেইস ও স্যামি দুজনই আইসিসির শাস্তির ঝুঁকিতে আছেন।