Published : 12 Mar 2026, 09:30 PM
ইংল্যান্ডের একশ বলের টুর্নামেন্ট দা হান্ড্রেডে ভারতীয় মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোতে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের দল পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই নিলামে আবরার আহমেদকে নিয়েছে সানরাইজার্স লিডস। এই রহস্য স্পিনারকে এক লাখ ৯০ হাজার পাউন্ডে কিনেছে দলটি।
ভারতীয় মিডিয়া গ্রুপ সান টিভি গত বছর আগের নর্দার্ন সুপারচার্জার্স নামে পরিচিত এই ফ্র্যাঞ্চাইজির পুরো মালিকানা কিনে নেয়। এই গ্রুপেরই মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজি আইপিএলের সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ও দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ টোয়েন্টির সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপ।
দা হান্ড্রেডের আট ফ্র্যাঞ্চাইজির চারটিই আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি সংশ্লিষ্ট ভারতীয় মালিকানাধীন। গত মাসে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ক্রিকেটারদের এজেন্টদেরকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ভারতীয় মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোতে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের নেওয়া হবে না। এ নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে আলোচনা-সমালোচনাও হয় প্রবল।
সেই ছায়া নিষেধাজ্ঞার পর বৃহস্পতিবারের নিলামে এই চারটি ফ্র্যাঞ্চাইজি পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের জন্য বিড করবে কি-না, তা নিয়ে ছিল কৌতূহল। তবে আবরার দল পাওয়ায় অনিশ্চয়তা কেটে গেল।
নিলামে এই স্পিনারের ভিত্তিমূল্য ছিল ৭৫ হাজার পাউন্ড। তাকে পেতে সানরাইজার্স লিডসের সঙ্গে লড়াইয়ে নামে ট্রেন্ট রকেটস। লড়াইয়ে জিতে মধ্যাহ্নভোজের বিরতির কিছুক্ষণ আগে তাকে পেয়ে যায় সানরাইজার্স লিডস।
বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে বর্তমানে পাকিস্তান জাতীয় দলের সঙ্গে ঢাকায় আছেন আবরার।
তখন পর্যন্ত নিলামে দল পাওয়া দ্বিতীয় পাকিস্তানি ক্রিকেটার আবরার। তার আগে আরেক স্পিনার উসমান তারিককে এক লাখ ৪০ হাজার পাউন্ডে দলে নেয় বার্মিংহ্যাম ফিনিক্স, যারা ভারতীয় মালিকানাধীন ফ্র্যাঞ্চাইজি নয়।
নিলামের ১০ মার্কি খেলোয়াড়ের তালিকায় থাকা পাকিস্তানের পেসার হারিস রউফের নাম উঠলেও কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি আগ্রহ দেখায়নি। দেশটির দুই অলরাউন্ডার শাদাব খান ও সাইম আইয়ুবেরও নাম ওঠে; কিন্তু তাদের প্রতিও কেউ আগ্রহ দেখায়নি।
বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি ক্রিকেটার এর আগে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মালিকানাধীন বা আংশিক মালিকানাধীন বিশ্বব্যাপী অন্যান্য টি-টোয়েন্টি লিগের দলগুলোয় খেলেছেন। কিন্তু প্রতিবেশী দুই দেশের রাজনৈতিক বৈরিতায় ২০০৮ সালের পর থেকে কোনো সক্রিয় পাকিস্তানি ক্রিকেটার আইপিএলে খেলার সুযোগ পাননি।
এবার দা হান্ড্রেডের নিলামের চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা পান পাকিস্তানের ১৪ ক্রিকেটার। এর মধ্যে শাহিন শাহ আফ্রিদি শেষ মুহূর্তে নাম প্রত্যাহার করে নেন।
নিলামের চূড়ান্ত তালিকায় আছেন বাংলাদেশের দুই ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমান ও রিশাদ হোসেন। ৭৫ হাজার পাউন্ড ভিত্তিমূল্যের ক্যাটাগরিতে থাকা রিশাদের নাম উঠলেও কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি আগ্রহ দেখায়নি। শেষ দিকে আবার নাম উঠতে পারে।