Published : 24 Jan 2026, 10:21 AM
“ভালো লাগছে, কিন্তু আমরা যদি চ্যাম্পিয়ন হতাম, অনেক বেশি ভালো লাগত। প্রতিটি খেলোয়াড়ই চায় যে চ্যাম্পিয়নশিপটা তাদের হাতে উঠুক…” সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই প্রাপ্তি ও আক্ষেপের সমীকরণ মেলানোর চেষ্টা করলেন শরিফুল ইসলাম। ফাইনাল হেরে যাওয়ার বিষাদও মিশে থাকল তার কণ্ঠে।
তবে ওই হতাশাটুকু ছাড়া গোটা বিপিএল তার জন্য প্রাপ্তির আনন্দে ভরপুর। বিপিএলের ফাইনালে শুক্রবার রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের কাছে শরিফুলের চট্টগ্রাম রয়্যালস বড় ব্যবধানে হারলেও আসরজুড়ে দুর্দান্ত পারফর্ম করে তিনি জিতে নেন দুটি পুরস্কার।
সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হওয়াটা নিশ্চিত করে ফেলেছিলেন আগেই। ফাইনালে আরও দুটি উইকেট নিয়ে জিতে নেন আসরের সেরা বোলারের পুরস্কার।
১২ ইনিংসে ওভারপ্রতি ৫.৮৪ করে রান দিয়ে ২৬ উইকেট শরিফুলের। এবারের আসরের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারিই শুধু নন তিনি, বিপিএলের এক আসরে সবচেয়ে বেশি উইকেটের কীর্তিও এখন তার। ভেঙে দিয়েছেন গত আসরে দুর্বার রাজশাহীর হয়ে ১২ ম্যাচে ২৫ উইকেট নেওয়া তাসকিন আহমেদের রেকর্ড।
এবার প্রথম পাঁচ ম্যাচে শরিফুলের উইকেট ছিল ৮টি। ষষ্ঠ ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিংয়ে নোয়াখালীর বিপক্ষে ৫ উইকেট নেন তিনি দেন কেবল ৯ রান দিয়ে। এর মধ্যে শেষ দুই ওভারে স্রেফ ১ রানে নেন ৪ উইকেট।
তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট সেটি। বিপিএলে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে কম রানে ৫ উইকেট নেওয়ার নজিরও সেটি। এই পারফরম্যান্সকেই এই আসরে নিজের সেরা মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন ২৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।
“আমার মনে হয় টি-টোয়েন্টিতে পাঁচ উইকেট পাওয়াটা অনেক কঠিন বিষয়। তাই ওই দিনের বোলিং ফিগারটা আমি এগিয়ে রাখব।”
যে দলের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তিনি মেলে ধরেছেন আসরজুড়ে, সেই চট্টগ্রাম রয়্যালস বিপিএল শুরুর আগ মুহূর্তেও ছিল বিপর্যস্ত ও টালমাটাল। টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন সরে দাঁড়ায় মালিকপক্ষ। তড়িঘড়ি করে বিসিবি দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন কোচিং স্টাফ নিয়ে দলটি গুছিয়ে ওঠে দ্রুতই। সীমিত শক্তি নিয়ে ও বিদেশের বড় কোনো তারকা ছাড়াই দারুণ পারফর্ম করে শিরোপার মঞ্চে জায়গা করে নেয় তারা।

পারিশ্রমিকের চিন্তা না করে নির্ভার থেকে পারফর্ম করতে পারার জন্য শরিফুল কৃতজ্ঞতা জানালেন ক্রিকেট বোর্ডের প্রতি।
“বিশেষ করে ধন্যবাদ দেব বিসিবিকে। উনারা যখন দলটার দায়িত্ব নিয়েছে, তখন আমাদের খেলোয়াড়রা যেটা সবসময় বিপিএলে অনেক দলের ক্ষেত্রে হয় যে একটা চিন্তা থাকে পেমেন্ট ইস্যুতে… যখন বিসিবি হাতে নিয়েছে তখন আমরা সবাই খুবই নির্ভার ছিলাম এবং আমরা নিজের দলের মতো করে খেলেছি। মনে করেছি যে, আমাদের নিজের গড়া দল। আমরা ওই ভাবেই প্রতিটা অনুশীলন সেশন বলেন, ম্যাচ বলেন সবসময় এরকম।”
চট্টগ্রামের এই পথচলায় বল হাতে যেমন নেতৃত্ব দিয়েছেন শরিফুল, তেমনি অবদান কম নয় অধিনায়ক শেখ মেহেদি হাসানেরও। এই অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার ১২ ইনিংসে নিয়েছেন ১৫ উইকেট। ব্যাট হাতে ১০ ইনিংসে ১৭৭ রান করেছেন তিনি ১৪১.৬০ স্ট্রাইক রেটে।
নোয়াখালীর বিপক্ষে শরিফুল যেদিন পাঁচ উইকেট শিকার করেন, সেদিন ১২ রানে ৩ উইকেট নেওয়ার পর ৩৬ বলে অপরাজিত ৪৯ রানের ইনিংসে দলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন মেহেদি।
প্রথম কোয়ালিফায়ারে আঁটসাঁট বোলিংয়ে ২ উইকেট নেওয়ার পর ৯ বলে ১৯ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে তিনিই হন ‘ম্যান অব দা ম্যাচ।’
টুর্নামেন্ট-সেরার লড়াইয়ে সবচেয়ে এগিয়ে ছিলেন এই দুজনই। যেখানে মেহেদিকে পেছনে ফেলে সেরা শরিফুল।
এই প্রথম বিপিএলে ‘প্লেয়ার অব দা টুর্নামেন্ট’ হলেন কোনো বিশেষজ্ঞ বোলার। শরিফুলের আশা, তার পথে ধরে পরের আসরে আবার কোনো বোলারের হাতে উঠবে এই পুরস্কার।
“ভালো লাগছে, এবার হয়তো আমিই হয়েছি বোলার হিসেবে ম্যান অব দা টুর্নামেন্ট। পরের বছরও হয়তো বা আরেকজন হবে। এখন দেখা যাচ্ছে যে বিপিএলে আমি সবশেষ কয়েকবার দেখেছি যে বোলাররা ভালো লড়াই করছে, গত বছর যেমন তাসকিন ভাই । সামনে আরও বোলাররা ভালো আধিপত্য দেখাবে আশা করি।”