Published : 12 Mar 2026, 04:36 PM
ম্যাচের যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে ভারতের ভরসা জাসপ্রিত বুমরাহ। চাপের মুহূর্তে বল হাতে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার কাজটা বেশ সাফল্যের সঙ্গে করে আসছেন তিনি। দলের প্রয়োজনে নিজেকে মেলে ধরতে পারার চেয়ে বেশি আনন্দ আর কিছুতে পান না, বললেন ভারতীয় তারকা পেসার।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালেই যেমন খুব কঠিন মুহূর্তে ভারতের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বুমরাহ। শেষ তিন ওভারে যখন ৪৫ রান প্রয়োজন ইংল্যান্ডের, তখন ১৮তম ওভারে বল হাতে নিয়ে স্রেফ ৬ রান দেন তিনি! রান বন্যার ম্যাচটি সাত রানে জিতে ফাইনালে ওঠে ভারত।
আর শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তো দলের জয়ের নায়কই বুমরাহ। আহমেদাবাদে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ফাইনালে চার ওভারে স্রেফ ১৫ রান দিয়ে চার শিকার ধরেন তিনি। ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবার চার উইকেট নিয়ে জেতেন ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার।
রেকর্ড ২৫৫ রানের পুঁজি গড়ে কিউইদের ৯৬ রানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়ে ভারত। দলের এই সাফল্যের সঙ্গী হতে পেরে আনন্দের শেষ নেই বুমরাহর।
গত রোববারের ফাইনালের পর বিসিসিআই টিভিতে কথা বলেন বুমরাহ, যা প্রকাশ করা হয় বৃহস্পতিবার। সেখানে সময়ের সেরা বোলারদের একজন বলেন, কঠিন সময়ে ব্যবধান গড়ে দিতে পারলেই বেশি ভালো লাগে তার।
“আমি সবসময় কঠিন কাজ করতে চেয়েছি। আর এই কারণেই ক্রিকেট খেলছি। ক্রিকেট খেলা শুরু করার কারণও একই। ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিতে পারলে ভীষণ আনন্দিত হই। আমার কাছে এর চেয়ে ভালো অনুভূতি আর কিছু হতে পারে না।”
আহমেদাবাদেই ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে হৃদয় ভেঙেছিল ভারতের। সেই ম্যাচে খেলেছিলেন বুমরাহও। এবার তাসমান সাগর পারের আরেক দলকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিততে পেরে অনেক খুশি তিনি।
“গতবার আমরা অল্পের জন্য জিততে পারিনি, তবে এবার কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছাতে পেরেছি। খুবই খুশি লাগছে।”
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে বসে ভারতের হার দেখেছিলেন বুমরাহর পরিবার। এবার সাফল্যের সাক্ষী তারা।
“আমার ছেলে এখানে এসেছে। গতবারও সে এখানে ছিল, এবারও আছে। মা এসেছেন-সত্যিই মুহূর্তটা দারুণ। চক্র পূরণের মতো কিছু হয়েছে কিনা জানি না। তবে আমি অনেক খুশি।”
২০২৪ সালে ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের কারিগরদেরও একজন ছিলেন বুমরাহ। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ফাইনালে দুর্দান্ত বোলিংয়ে ভাগ্য গড়ে দেন তিনি। টানা দ্বিতীয়বার বিশ্ব জয়ের আনন্দে আত্মহারা বুমরাহ।
“পরপর দুটি বিশ্বকাপ জয় সচরাচর ঘটে না। আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ, সৃষ্টিকর্তা অনেক দয়ালু, কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার নেই।”