অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকার ট্রফি
Published : 22 Jul 2025, 04:55 PM
ঘরোয়া ক্রিকেটে আলো ছড়িয়ে জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়া আনশুল কাম্বোজে মন্ত্রমুগ্ধ রাভিচান্দ্রান অশ্বিন। ভারতের সাবেক এই স্পিনারের চোখে, আনশুল বিরল ঘরানার ফাস্ট বোলার। তার মাঝে ভারতের দুই তারকা পেসার জাহির খান ও জাসপ্রিত বুমরাহর গুন দেখতে পান অশ্বিন।
এখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বাদ না পাওয়া আনশুলকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজের দলে যোগ করেছে ভারত। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে দুই দলের চতুর্থ টেস্ট শুরু বুধবার।
২৪ বছর বয়সী আনশুলের জাতীয় দলে ডাক মিলেছে মূলত ভারতের পেস বোলিং বিভাগে চোটের থাবায়। বাঁ পায়ের হাঁটুর সমস্যায় সিরিজের বাকি অংশ থেকে ছিটকে গেছেন গত দুই টেস্টে খেলা পেস বোলিং অলরাউন্ডার নিতিশ কুমার রেড্ডি। বাঁ হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলের চোটে ভুগছেন বাঁহাতি পেসার আর্শদিপ সিং। লর্ডস টেস্টে খেলার সময় কুঁচকিতে টান লেগেছে আরেক পেসার আকাশ দিপের।
আনশুলকে নিয়ে এখন ভারতীয় ক্রিকেটে চলছে আলোচনা। পরের টেস্টে তাকে খেলানো হবে কিনা, সেই জল্পনা-কল্পনাও রয়েছে। বুমরাহ ও মোহাম্মদ সিরাজের সঙ্গে এই পেসারকে ম্যানচেস্টার টেস্টের একাদশে দেখতে চান অশ্বিন।
নিজের ইউটিউব চ্যানেল ‘অ্যাশ কী বাত’ এ আনশুলের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন তিনি। এক যুগের বেশি সময় ধরে ভারতীয় পেস বোলিংয়ের নেতৃত্ব দেওয়া জাহির খান ও বর্তমানে ভারত দলের সেরা পেসার বুমরাহ সঙ্গে আনশুলের একটি মিলের কথাও বলেন সাবেক এই স্পিনিং অলরাউন্ডার।
“আনশুলের প্রশংসনীয় দিক হচ্ছে, সে পরিকল্পনা বোঝে। আমি অনেক ফাস্ট বোলারকে দেখেছি, তাদেরকে পরিকল্পনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে বলে তারা নিজেদের মেলে ধরতে চায় এবং খেলা উপভোগ করতে চায়। কিন্তু আনশুল পরিকল্পনা বোঝে এবং মাঠে কীভাবে সেটা বাস্তবায়ন করতে হয়, সেটাও জানে। এই গুন অনেক ফাস্ট বোলারের থাকে না। জাহির খানের এই গুন ছিল। তিনি ছিলেন অসাধারণ।”
“সাম্প্রতিক সময়ের বোলারদের মধ্যে জাসি (বুমরাহ) এমন একজন যে পরিকল্পনাগুলো বোঝে এবং নিখুঁতভাবে সেগুলো বাস্তবায়ন করে। আনশুল সেই ঘরানার। আমি দক্ষতার তুলনা করছি না, কারণ দক্ষতা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা ব্যাপার।”
অশ্বিনের মতে, অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকার ট্রফির পরের টেস্টে বুমরাহ ও সিরাজের সঙ্গে আনশুলকে নিয়ে দুর্দান্ত একটি পেস আক্রমণ সাজাতে পারে ভারত।
“লেংথে সে খুব ভালো। আইপিএলে দেখেছি। তার রিস্ট পজিশনও খুব ভালো…সে তার লেংথ থেকে কখনও সরে না। বুমরাহ ও সিরাজের সঙ্গে আনশুল কাম্বোজকে যদি একাদশে রাখা হয়, আমি বলছি, দুর্দান্ত একটি বোলিং আক্রমণ হবে।”
ভারতীয় ক্রিকেটে আলোড়ন তোলেন আনশুল গত বছরের নভেম্বরে। রাঞ্জি ট্রফির ম্যাচে কেরালার ১০ উইকেটের সবগুলো একাই শিকার করে রেকর্ড বইয়ে নাম লেখান হারিয়ানার এই পেসার।
রাঞ্জি ট্রফির সুদীর্ঘ ইতিহাসে তার আগে একাই ইনিংসের ১০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি ছিল কেবল দুইজনের। ১৯৫৫-৫৬ মৌসুমে বাংলার বাঁহাতি পেসার প্রেমাংশু চ্যাটার্জি আসামের বিপক্ষে নিয়েছিলেন ২০ রানে ১০ উইকেট। ১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে বিদার্ভার বিপক্ষে রাজস্থানের পেসার প্রাদিপ সুন্দারাম নিয়েছিলেন ৭৮ রানে ১০ উইকেট।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এক ইনিংসে ৮ উইকেট নেওয়ার নজিরও আছে আনশুলের। সব মিলিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২৪ ম্যাচ খেলে তার উইকেট ৭৯টি।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে ইংল্যান্ডের মাটিতে খেলেছেন আনশুল। ভারত ‘এ’ দলের হয়ে ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিপক্ষে খারাপ করেননি তিনি। দুটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে তিন ইনিংসে মোট পাঁচ উইকেট নিয়েছেন ওভার প্রতি তিনের একটু বেশি রান দিয়ে।
ইংলিশ কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতার পাশাপাশি লম্বা স্পেলে বোলিং করার সামর্থ্যও আছে আনশুলের। সব মিলিয়ে, তাকে পরের টেস্টের একাদশে না রাখার কোনো কারণ দেখেন না অশ্বিন।
“লোকে বলবে, আনশুল তার প্রথম টেস্ট খেলবে, কখনও সে ইংল্যান্ডেও খেলেনি; কিন্তু (ভারত) ‘এ’ দলের সফরে সে এখানে খেলেছে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সে দুর্দান্ত ফর্মে আছে। তার গড় ১৩ এর মতো (আসলে ২২.৮৮)। ইনিংসে সে ১০ উইকেটও নিয়েছে।”
পাঁচ টেস্টের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পিছিয়ে আছে ভারত।