ভারত-নিউ জিল্যান্ড
Published : 18 Jan 2026, 05:51 PM
ব্যাট হাতে রানের ফোয়ারা ছুটিয়েই চলেছেন ড্যারিল মিচেল। চমৎকার ব্যাটিংয়ে টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি উপহার দিলেন তিনি। তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া পেলেন গ্লেন ফিলিপসও। তাদের নৈপুণ্যে নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে একটি প্রথমের দেখা পেল নিউ জিল্যান্ড।
ইন্দোরে রোববার ভারতের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে দলের বিপর্যয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে নিজেদের মেলে ধরেন মিচেল ও ফিলিপস। ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে ৩ ছক্কা ও ১৫ চারে ১৩১ বলে ১৩৭ রান করেন মিচেল। আর ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে ৮৮ বলে ৩ ছক্কা ও ৯ চারে ১০৬ রানের ইনিংস খেলেন ফিলিপস।
ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডেতে এই প্রথম জোড়া সেঞ্চুরি দেখল নিউ জিল্যান্ড। আর এই সংস্করণে সব মিলিয়ে ১৫ ওয়ানডেতে জোড়া সেঞ্চুরি পেল তারা।
ওয়ানডেতে অনেকদিন ধরেই দুর্দান্ত ছন্দে আছেন মিচেল। এই সংস্করণে সবশেষ চার ইনিংসে তিনটি সেঞ্চুরি করলেন তিনি। আর সাত ইনিংসে পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেললেন ছয়টিতেই।
ভারতের বিপক্ষে চলতি সিরিজে রাজকোটে আগের ম্যাচে ১৩১ রানের ইনিংস খেলে দলের জয় সঙ্গে নিয়ে ফেরেন মিচেল। আর ভাদোদারায় প্রথম ওয়ানডেতে ৮৪ রান করেন ডানহাতি এই ব্যাটসম্যান। সিরিজে মোট ৩৫২ রান হলো তার।
ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে দারুণ একটি রেকর্ড গড়েন মিচেল। তিন ম্যাচের দ্বি পাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজে তার ৩৫২ রান নিউ জিল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ।
ভারতের মাটিতে ১১ ওয়ানডে ইনিংসে চতুর্থ সেঞ্চুরি করলেন মিচেল। এশিয়ার দেশটিতে এই সংস্করণে তার চেয়ে বেশি শতক করতে পারেননি কিউইদের কেউ। তার সমান চারটি সেঞ্চুরি করেছিলেন ন্যাথান অ্যাস্টল। ভারতের বিপক্ষে নিউ জিল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে বেশি পাঁচটি সেঞ্চুরির রেকর্ডটি তার।
হলকার ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এদিন টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নিউ জিল্যান্ডের শুরুটা হয় বেশ বাজে। প্রথম ৭ বলে ৫ রান করতেই দুই ওপেনার হেনরি নিকোলস ও ডেভন কনওয়েকে হারিয়ে ফেলে তারা। দলের রান ৫৮ হতে বিদায় নেন উইল ইয়াংও।
ভীষণ চাপে পড়া দলের হাল ধরেন মিচেল ও ফিলিপস। তাদের ব্যাটে ধীরে ধীরে শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে থাকে দলটি। একপ্রান্তে বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রান বাড়ান মিচেল। অন্যপ্রান্তে কিছুটা মন্থর ছিলেন ফিলিপস।
কুলদিপ ইয়াদাভকে চার মেরে ৫৬ বলে পঞ্চাশে পা রাখেন মিচেল। তখন ২৪ বলে ১৪ রানে ছিলেন ফিলিপস। পরে রানের গতিতে দম দিয়ে ৫৩ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন তিনি।
ততক্ষণে নব্বইয়ের ঘরে পৌঁছে গেছেন মিচেল। ৩৬তম ওভারে সিঙ্গেল নিতে কাঙ্ক্ষিত সেঞ্চুরিতে পা রাখেন তিনি। ওয়ানডেতে এটি তার নবম শতক।
দ্রুত রান বাড়িয়ে ৮৩ বলে তিন অঙ্কের ঠিকানায় পা রাখেন ফিলিপস। ফিফটি থেকে সেঞ্চুরি ছুঁতে তার লাগে কেবল ৩০ বল।
এরপর আর টিকতে পারেননি ফিলিপস। আর্শদিপ সিংয়ের বলে কট বিহাইন্ড হন তিনি। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে অপরাজিত ১০৬ রান করেছিলেন ডানহাতি ব্যাটসম্যান।
ফিলিপসের বিদায়ে ভাঙে ২১৯ রানের জুটি। ভারতের বিপক্ষে যেকোনো উইকেটে নিউ জিল্যান্ডের যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০২২ সালে করা টম ল্যাথাম ও কেন উইলিয়ামসনের অবিচ্ছিন্ন ২২১ রানের যুগলবন্দি সেরা।
ফিলিপস ফেরার ওই ওভারে দুটি চার মারেন মিচেল। তাতে ওয়ানডেতে আগের সর্বোচ্চ ১৩৪ রান টপকে যান তিনি। কিন্তু পরের ওভারেই বাজে তার বিদায়ঘণ্টা। সিরাজের বলে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন তিনি।
পরে ১৮ বলে অপরাজিত ২৮ রান করেন নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল ব্রেসওয়েল। ৮ উইকেটে ৩৩৭ রানে থামে সফরকারীরা।