Published : 06 Jan 2026, 09:01 AM
ম্যাচ শেষ করে তখন মাঠ ছাড়ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। তার দিকে এগিয়ে গিয়ে কিছু বললেন আসিফ আলি। পিঠ চাপড়েও দিলেন। চট্টগ্রাম রয়্যালসের এই পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানও মূলত ‘ফিনিশার।’ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বেশি দিন টিকতে পারেননি তিনি। ফিনিশারের ভূমিকা কতটা কঠিন, তা ভালো করেই জানা থাকার কথা তার। মাহমুদউল্লাহর ইনিংসটির মাহাত্ম্যও বুঝতে পারছেন। তাই হয়তো কাছে গিয়ে বাহবা দিলেন।
চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে সোমবার শেষ দিকে সমীকরণ একটু জটিল হয় উঠেছিল রংপুর রাইডার্সের। শেষ চার ওভারে প্রয়োজন ছিল ৪১ রানের। মাহমুদউল্লাহ ও খুশদিল শাহর দারুণ ব্যাটিংয়ে ম্যাচটি ৭ বল বাকি রেখেই জিতে নেয় দলটি। ১২ বলে ২২ রান করে আউট হয়ে যান খুশদিল। তবে মাহমুদউল্লাহ দলকে জিতিয়ে তবেই মাঠ ছাড়েন ১৯ বলে অপরাজিত ৩০ করে।
আগের দিনই ফিফটি করে ম্যান অব দা ম্যাচ হয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। এর আগের দিন ম্যাচ-সেরা হয়েছিলেন তিনি ১৬ বলে ৩৪ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলে।
অথচ এই মাহমুদউল্লাহ নিলামে নিজের ক্যাটেগরিতে কোনো দল পাননি শুরুতে। সব ক্যাটেগরির নিলাম শেষে পরে আবার কিছু নাম তোলা হয়, তখর তাকে নেয় রংপুর রাইডার্স।
যদিও রংপুরের দাবি, মাহমুদউল্লাহর প্রতি তাদের লক্ষ্য ছিল আগে থেকেই।
“আমরা যখন নিলামে বসেছিলাম, যখন দল করছিলাম, একজন ফিনিশার আমাদের প্রয়োজন ছিল। মাহমুদউল্লাহর অভিষেক ২০০৭ সালে। তার পর থেকে আমরা সবাই জানি, এই ভূমিকাটা সে কতটা পালন করেছে। আমরা জানতাম যে, এই পজিশনে একজনকে দরকার ও মাহমুদউল্লাহর চেয়ে ভালো কেউ নেই।”
চলতি বিপিএলে এখনও পর্যন্ত মাহমুদউল্লাহর গড় ৫৮, স্ট্রাইক রেট ১৪৩.২০। আশরাফুলের মতে, গত কয়েক বছরে এত ভালো ব্যাটিং আর করেননি অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান।
“এখন যে ব্যাটিং করছে, ওর গত ৩-৪ বছরের সেরা। ওর ক্যারিয়ারের সেরা সময় ছিল হাতুরুসিংহের সময়, ২০১৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত। এখনও অসাধারণ সময় কাটাচ্ছে। আমাদের সৌভাগ্য তাকে পাওয়া।”
মাহমুদউল্লাহ এখন ক্যারিয়ারের যে পর্যায়ে আছেন, সেখানে পারফর্ম করাটা আরও চ্যালেঞ্জিং। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন সংস্করণকেই বিদায় বলে দিয়েছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেট তো খেলেনই না, সীমিত ওভারেও খেলেন কম।
গত এপ্রিলের পর থেকে এবারের বিপিএলের আগ পর্যন্ত এই আট মাসে স্রেফ দুটি ম্যাচ খেলেছেন তিনি, সেপ্টেম্বরে জাতীয় লিগ টি-টোয়েন্টিতে।
আশরাফুল বললেন, পারফর্ম করার জন্য খুব বেশি অনুশীলন করতে হয় না মাহমুদউল্লাহর মতো ব্যাটসম্যানদের। ৩৯ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান এখন ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতিতে জোর দেন।
“মাহমুদউল্লাহ তো আমাদের কিংবদন্তি ক্রিকেটার। বিশ্বক্রিকেটে সব মিলিয়ে যদি দেখেন, যারাই কিংবদন্তি ক্রিকেটার, বিশেষ করে যারা ব্যাটসম্যান, তাদের অল্প ব্যাটিং করলেই হয়। তারা মস্তিষ্কের কাজটাই বেশি করেন।”
“সে (মাহমুদউল্লাহ) এখন প্রচুর ফিটনেসের কাজ করে। এটা আসলে মূল ব্যাপার হওয়া উচিত। যারা ভালো ব্যাটসম্যান, তাদের বেশি বোলিং করা লাগে না, আমি মনে করি। কিন্তু সে প্রচুর ট্রেনিং করে এবং যে টুর্নামেন্ট খেলবে, সেটার জন্য ভালোমতো প্রস্তুতি নেয়। এখন নিয়মিত ফিটনেস নিয়ে কাজ করে, জিম করে এবং মস্তিষ্ক নিয়ে কাজ করে।”