Published : 03 Oct 2025, 12:35 AM
১৫২ রান তাড়ায় উদ্বোধনী জুটিতেই রান ১০৯। এরপর ম্যাচে আর বাকী থাকে কী! কিন্তু বাংলাদেশ আর রাশিদ খান দেখিয়ে দিলেন ক্রিকেট নাটকের কত রঙ। জাদুর ঝাঁপি মেলে ধরলেন রাশিদ। আতঙ্কের ছবি ফুটিয়ে তুলল বাংলাদেশ। অনায়াস জয়ের পথ থেকে অবিশ্বাস্য হারের মোড়ে পৌঁছে শেষ পর্যন্ত জিততে পারল তারা রোমাঞ্চ ছড়িয়ে।
শারজাহতে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটিতে আফগানিস্তানকে চার উইকেটে হারিয়ে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।
জয়টি হতে পারত আরও অনেক বড় ব্যবধানের। বাংলাদেশের বোলাররা আফগানদের আটকে রাখে ১৫১ রানে। এরপর তানজিদ হাসান ও পারভেজ হোসেন ১০৯ রানের জুটি গড়েন কেবল ৭১ বলে।
কিন্তু দুই ওভারে চার শিকার ধরে ম্যাচের চিত্র বদলে দেন রাশিদ। ৯ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ।
শেষ পর্যন্ত নুরুল হাসান সোহান ও শূন্য রানে জীবন পাওয়া রিশাদ হোসেন দলকে লক্ষ্যে পৌঁছে দেন ৮ বল বাকি রেখে।
বাংলাদেশের রান তাড়ায় শুরুতে একটু সময় নেন তানজিদ ও পারভেজ। প্রথম তিন ওভারে রান আসে ১৪। এরপর হাত খোলেন দুজনই। পরের তিন ওভারে আসে ৩৬ রান!
এর মধ্যেই মোহাম্মাদ নাবির এক ওভারে দুটি ছক্কার পাশাপাশি দুবার জীবন পান পারভেজ। অভিজ্ঞ এই স্পিনারের দুই ওভারে দুটি ছক্কা মারেন তানজিদও।
পাওয়ার প্লে শেষেও চলতে থাকে দুজনের ব্যাটের দাপট। একাদশ ওভারেই একশ পেরিয়ে যায় দল। ৩৪ বলে ফিফটি করে পারভেজ, ৩৫ বলে তানজিদ। জয়টা তখন মনে হচ্ছিল স্রেফ সময়ের ব্যাপার।
জুটি থামে দ্বাদশ ওভারে। ৩৭ বলে ৫৪ রান করে ফারিদ আহমাদের বলে এলবিডব্লিউ হন পারভেজ।
তখনও ভাবা যায়নি, সামনে কী অপেক্ষায়!
এশিয়া কাপে আলো ছড়ানো সাইফ হাসান শূন্যতেই ফেরেন রাশিদের গুগলিতে। আফগান অধিনায়ক ওই ওভারেই সরিয়ে দেন তানজিদের (৩৭ বলে ৫১) বাধা।

শেষ নয় সেখানেই। রাশিদ পরের ওভারে তিন বলের মধ্যেই বিদায় করে দেন অধিনায়ক জাকের আলি ও শামীম হোসেনকে।
এরপর নুর আহমাদ যখন শূন্যতে ফিরিয়ে দেন তানজিম হাসানকে, বাংলাদেশকে তখন চোখ রাঙাচ্ছে অবিশ্বাস্য এক হার। বিনা উইকেটে ১০৯ থেকে ৬ উইকেটে ১১৮!
একটা স্বস্তির ব্যাপার অবশ্য ছিল, রাশিদ ও নুরের ওভার তখন আর বাকি নেই।
অন্য বোলাররা এ দিন ঠিক ছন্দে ছিলেন না। তাদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়ে সোহান ও রিশাদ জিতিয়ে দেন দলকে। যদিও রিশাদ শূন্য রানে জীবন না পেলে অন্যরকমও হতে পারত।
শেষ চার ওভারে সমীকরণ হয়ে যায় ৩৪ রানের। তবে শেষ ওভারে গড়ায়নি খেলা। অস্বস্তিময় শুরুর পর দুই ছক্কায় ১৩ বলে ২৩ রানে অপরাজিত থাকেন সোহান, ৯ বলে ১৪ রানে রিশাদ।
ম্যাচের প্রথম ভাগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা আফগানিস্তানের ইনিংস শুরু করেন ইব্রাহিম জাদরান ও সেদিকউল্লাহ আটাল। ফর্মে জন্য লড়তে থাকা রাহমানউল্লাহ গুরবাজকে নামানো হয় তিনে। তাসকিন আহমেদের প্রথম ওভারে ইব্রাহিমের তিন বাউন্ডারি শুরু হয় ম্যাচ।
তবে বাংলাদেশের বোলাররা চেপে ধরে দ্রুতই। নাসুম আহমেদের বলে স্লগ করে বোল্ড হন ইব্রাহিম , আটালকে আটকান তানজিম হাসান সাকিব। দুই ব্যাটসম্যান এক প্রান্তে চলে গিয়ে রান আউট হয়ে ফেরেন দারভিশ রাসুলি।
পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেট হারিয়ে আফগানরা তুলতে পারে কেবল ৩৩।

পাওয়ার প্লে শেষে রিশাদ হোসেনকে ছক্কায় বোলিংয়ে স্বাগত জানান গুরবাজ। কিন্তু ওই ওভারেই মোহাম্মাদ ইসহাক বিদায় নেন সীমানায় ধরা পড়ে।
৪০ রানে ৪ উইকেট হারানো দলকে কিছুটা এগিয়ে নেন গুরবাজ ও আজমাতউল্লাহ ওমারজাই। এই জুটি বিপজ্জনক হয়ে ওঠা মুখে ওমারজাইকে (১৮) থামান রিশাদ।
বাংলাদেশের বড় বাধা তখন গুরবাজ। অনেক দিন পর মনে হচ্ছিল, ছন্দ ফিরে পেয়েছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত অবশ্য বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। তানজিমকে ছক্কা মারার পরই আউট হয়ে যান তিনি (৩১ বলে ৪০) দারুণ একটি স্লোয়ারে।
আফগানদের রানের গতি ১৭ ওভার পর্যন্ত ভালোভাবেই নিয়ন্ত্রণে রাখে বাংলাদেশ। এরপর একটু গড়বড় করেন তাসকিন। তার এক ওভার থেকে আসে ২২ রান। ওভারে তিনটি ছক্কা মেরে আরেকটি চেষ্টায় আউট হয়ে যান মোহাম্মাদ নাবি (২৫ বলে ৩৮)।
রাশিদ খান প্রথম বলে ব্যাটের কানায় লেগে বাউন্ডারি পেলেও পরের বলেই আউট হয়ে যান মুস্তাফিজুর রহমানের স্লোয়ারে জাকের আলির দারুণ ক্যাচে। তানজিমের করা শেষ ওভারে শারাফউদ্দিন আশরাফের ছক্কা ও চারে দেড়শ ছাড়ায় আফগানিস্তান।
সেই স্কোরকে প্রায় মামুলি বানিয়েই ফেলেছিলেন তানজিদ ও পারভেজ। তবে নাটক জমিয়ে না জিতলে তো আর দলটা বাংলাদেশ নয়!
স্কোর:
আফগানিস্তান: ২০ ওভারে ১৫১/৯ (ইব্রাহিম ১৫, আটাল ১০, গুরবাজ ৪০, রাসুলি ০, ইসহাক ১, ওমারজাই ১৮, নাবি ৩৮, আশরাফ ১৭*, রাশিদ ৪, নুর ৬; তাসকিন ৪-০-৪০-১, নাসুম ৪-০-১৮-১, তানজিম ৪-০-৩৪-২, মুস্তাফিজ ৪-০-২৪-১, রিশাদ ৪-০-৩৩-২)।
বাংলাদেশ: ১৮.৪ ওভারে ১৫৩/৬ (তানজিদ ৫১, পারভেজ ৫৪, সাইফ ০, জাকের ৬, শামীম ০, সোহান ২৩*, তানজিম ০, রিশাদ ১৪*; ফারিদ ৩-০-২৬-১, ওমারজাই ২.৪-০-৩২-০, নাবি ৩-০-২৭-০, রাশিদ ৪-০-১৮-৪, নুর ৪-০-২১-১, আশরাফ ২-০-২৫-০)
ফল: বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: পারভেজ হোসেন।