Published : 18 May 2026, 03:18 PM
কি বলা যায় শটটিকে, আপার কাট নাকি স্ল্যাশ? এর চেয়ে বেশি বরং বলা যায় আত্মহত্যা। লিটন কুমার দাসের কাছে শটের নাম হতে পারে এখন ‘হতাশা।’ প্রথম ইনিংসে অসাধারণ সেঞ্চুরির পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ফিফটি করা ব্যাটসম্যানের দিকে আঙুল তোলা কঠিন। তবে আক্ষেপ তো করাই যায়। দারুণ এক কীর্তির হাতছানি ছিল বাংলাদেশের কিপার-ব্যাটারের সামনে। সেটি তিনি হারিয়ে ফেললেন ওই শটে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিনে হাসান আলির বলে ওই শটে লিটনের ইনিংস থামে ৬৯ রানে। প্রথম ইনিংসে তিনি খেলেছিলেন ১২৬ রানের ইনিংস।
বাংলাদেশের প্রথম ও টেস্ট ইতিহাসের তৃতীয় কিপার-ব্যাটসম্যান হিসেবে এক ম্যাচে জোড়া শতরানের সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন লিটন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হলো না।
কিপার-ব্যাটার হিসেবে জোড়া শতরানের প্রথম কীর্তিটি গড়েছিলেন অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার। ২০০১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হারাতে প্রথম ইনিংসে ১৪২ রান করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে অপরাজিত ছিলেন তিনি ১৯৯ রানে। ওই ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কিংবদন্তির ৩৪১ রান এখনও কিপার-ব্যাটার হিসেবে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ রানের বিশ্বরেকর্ড।
প্রায় ২৬ বছর পর একজন সঙ্গী পান ফ্লাওয়ার। গত বছর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হেডিংলিতে ১৩৪ ও ১১৮ রানের ইনিংস খেলেন রিশাভ পান্ত।
লিটন এই ইনিংসের পথে জীবন পান দুই দফায়। ৩৮ রানে তাকে রান আউট করার সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন বাবর আজম। পঞ্চাশে পা রাখেন তিনি ৬৭ বলে। ৫৬ রানে তিনি রক্ষা পান সাজিদ খানকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে। তাতে মনে হচ্ছিল ভাগ্যও বুঝি তাকে শতরানে পৌঁছে দিতে চায়। কিন্তু তিনি পা দিলেন হাসান আলির শর্ট বলের ফাঁদে।
বেশ কিছুক্ষণ ধরেই তাকে শর্ট বল করছিলেন হাসান। লিটন বেশ কয়েকবার ছেড়ে দিয়েছেন বল, কয়েক দফায় ‘ডাক’ করেছেন মাথা নিচু করে। কিন্তু এক পর্যায়ে ধৈর্য হারিয়ে চালিয়ে দেন ব্যাট। থার্ডম্যান সীমানায় বল মুঠোয় জমান সাউদ শাকিল।
জোড়া শতরান না হলেও একই টেস্টে সেঞ্চুরি ও ফিফটি এই নিয়ে তিনবার করে ফেললেন লিটন। বাংলাদেশের হয়ে তামিম ইকবাল ও নাজমুল হোসেন শান্তও এটি করেছেন তিনবার করে।
তবে লিটন ব্যতিক্রম আরেকটি জায়গায়। তিনি এটি তিনবার করেছেন ছয় নম্বর বা এর নিচে ব্যাটিংয়ে নেমে। টেস্ট ইতিহাসে যেটি আর পেরেছেন শুধু ইংল্যান্ডের ম্যাট প্রায়র ও শ্রীলঙ্কার ধানাঞ্জায়া ডি সিলভা।
লিটন এই ইনিংসের পথে পঞ্চম উইকেটে ১২৩ রানের জুটি গড়েছেন মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে। দুজনের এই যুগলবন্দিও বাংলাদেশের ক্রিকেটে দেখা যায় নিয়মিতই। পঞ্চম বা এর নিচের জুটিতেই এই নিয়ে সপ্তমবার শতরানের বন্ধন গড়লেন তারা।
টেস্ট ইতিহাসের এখানে তাদের ওপরে আছে কেবল একটি জুটি। পঞ্চম উইকেট বা এর নিচের জুটিতে ৮টি শতরানের জুটি গড়েছেন ইংল্যান্ডের জো রুট ও বেন স্টোকস। পাকিস্তানের এই দলের ব্যাটিং কোচ আসাদ শাফিক ও সাবেক কোচ মিসবাহ-উল-হাকের এমন জুটি আছে ৭টি।
তবে রুট-স্টোকস জুটি খেলেছেন ৪৭ ইনিংস, শাফিক-মিসবাহ জুটি ৪৩ ইনিংস। মুশফিক-লিটন জুটি লেগেছে মাত্র ২৫ ইনিংস।
সব মিলিয়ে মুশফিক ও লিটন শতরানের জুটি গড়েছেন ৮টি। এখানে তারা আগে থেকেই বাংলাদেশের শীর্ষে। এবার রেকর্ডটি সমৃদ্ধ হলো একটু।
মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিমের শতরানের জুটি আছে ৬টি। হাবিবুল বাশার ও জাভেদ ওমর বেলিম জুটি এবং মুশফিক ও সাকিব আল হাসান জুটির শতরান ৫টি।