বিগ ব্যাশ
Published : 25 Jan 2026, 05:59 PM
বেন ডোয়ার্শিসকে লং-অফ দিয়ে উড়িয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিলেন জশ ইংলিশ। অপর প্রান্ত থেকে দৌড়ে এসে সতীর্থকে জড়িয়ে ধরলেন কুপার কনোলি। মাঠের বাইরে অপেক্ষমাণ অন্যরাও ততক্ষণে ছুট দিলেন ক্রিজের দিকে। সেখানেই কিছুক্ষণ চলল মিচেল মার্শ, অ্যাস্টন টার্নারদের উদযাপন। স্টিভেন স্মিথ, মিচেল স্টার্কদের হৃদয় ভেঙে বিগ ব্যাশের শিরোপা জয়ের আনন্দে মাতল তারা।
বিগ ব্যাশের পঞ্চদশ আসরের ফাইনালে রোববার সিডনি সিক্সার্সকে ৬ উইকেটে হারায় পার্থ স্কর্চার্স। প্রতিপক্ষকে ১৩২ রানে গুটিয়ে ১৫ বল বাকি থাকতে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় তারা।
অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে আগে থেকেই সবচেয়ে বেশি শিরোপা জয়ী দল পার্থ। ঘরের মাঠ অপ্টাস স্টেডিয়ামে ৫৫ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে ষষ্ঠবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেই রেকর্ডকে আরও সমৃদ্ধ করল তারা।
বিগ ব্যাশের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে এনিয়ে ষষ্ঠবার সিডনি সিক্সার্সের মুখোমুখি হয়ে চারবারই জিতল পার্থ স্কর্চার্স।
পার্থ স্কর্চার্সের এবারের জয়ের নায়ক বাঁহাতি পেসার ডেভিড পেইন। প্রতিপক্ষকে দেড়শর আগে আটকে রাখার পথে চার ওভারে স্রেফ ১৮ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন তিনি। তার মতো তিন শিকার ধরতে ৩২ রান দেন আরেক পেসার জাই রিচার্ডসন।
ম্যাচে ফিফটি করতে পারেননি কেউ। সর্বোচ্চ ২ ছক্কা ও ৪টি চারে ৪৪ রান করেন পার্থ স্কর্চার্সের ওপেনার মার্শ। সিডনি সিক্সার্সের হয়ে ২৫ রানও করতে পারেননি কেউ।
চতুর্থ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে অষ্টম ফাইনালে খেলতে নামা সিডনি সিক্সার্স মূলত হেরে যায় ব্যাটিং ব্যর্থতায়। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই ড্যানিয়েল হিউজকে হারায় তারা।
ভালো শুরু পাওয়া স্মিথকে এলবিডব্লিউ করে দেন অ্যারন হার্ডি। ১৩ বলে ২৪ রান করা তারকা ব্যাটসম্যানকে রিভিউ নিয়ে ফেরায় পার্থ স্কর্চার্স। থিতু হয়ে যাওয়া জশ ফিলিপির ফিরতি ক্যাচ নেন পেইন।
পরের ওভারে জোড়া শিকার ধরেন তিনি; বিদায় করেন প্রতিপক্ষ অধিনায়ক মোইজেস হেনরিকেস ও ল্যাচলান শকে। দুই ব্যাটসম্যানই ধরা পড়েন মার্শের হাতে।
নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে এরপর আর বেশিদূর যেতে পারেনি পার্থ স্কর্চার্স।
ইনিংসের প্রথম বলে ছক্কায় লক্ষ্য তাড়া শুরু করেন মার্শ। টুর্নামেন্ট জুড়ে দারুণ ব্যাটিং করা ফিন অ্যালেনও দ্রুত রান তোলায় মনোযোগ দেন। তাদের ব্যাটে ওভারপ্রতি প্রায় ১০ করে আসতে থাকে রান।
নবম ওভারে তাদের ৮০ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে অ্যালেনের বিদায়ে। স্টার্কের বলে এডওয়ার্ডসের চমৎকার ক্যাচে বিদায় নেন ১ ছক্কা ও ৪টি চারে ৩৬ রান করা অ্যালেন। এক সেঞ্চুরি ও দুই ফিফটিতে সর্বোচ্চ ৪৬৬ রান করে আসর শেষ করলেন নিউ জিল্যান্ড ব্যাটসম্যান।
অ্যালেন ফেরার পরের ওভারে হার্ডিকে কট বিহাইন্ড করে দেন শন অ্যাবট। কিছুক্ষণ পর টানা দুই ওভারে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন মার্শ ও টার্নার। ততক্ষণে অবশ্য জয়ের কাছে পৌঁছে যায় দলটি। কুপার কনোলি ও ইংলিস মিলে বাকি পথ পাড়ি দেন অনায়াসে।
আসর সেরার পুরস্কার জিতেছেন মেলবোর্ন স্টার্সের স্যাম হার্পার। ১১ ম্যাচে তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩৮১ রান করেছেন তিনি এক সেঞ্চুরি ও দুই ফিফটিতে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
সিডনি সিক্সার্স: ২০ ওভারে ১৩২ (হিউজ ৭, স্মিথ ২৪, ফিলিপি ২৪, হেনরিকেস ২৪, শ ১৪, এডওয়ার্ডস ৩, ডেভিস ১৯, মানেন্তি ৮, ডোয়ার্শিস ৪, অ্যাবত ১, স্টার্ক ১*; কনোলি ৩-০-১৪-০, রিচার্ডসন ৪-০-৩২-৩, বিয়ার্ডম্যান ৪-০-২৯-২, পেইন ৪-০-১৮-৩, হার্ডি ৩-০-১৬-১, কাউচ ২-০-২২-০)
পার্থ স্কর্চার্স: ১৭.৩ ওভারে ১৩৩/৪ (মার্শ ৪৪, অ্যালেন ৩৬, হার্ডি ৫, ইংলিস ২৯*, টার্নার ২, কনোলি ৪*; অ্যাবট ৪-০-১৯-২, স্টার্ক ৪-০-৩৩-১, এডওয়ার্ডস ৪-০-৩১-১, ডোয়ার্শিস ৩.৩-০-২৫-০, ডেভিস ২-০-১৯-০)
ফল: পার্থ স্কর্চার্স ৬ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: ডেভিড পেইন
ম্যান অব দা টুর্নামেন্ট: স্যাম হার্পার।