Published : 22 Jun 2025, 12:42 AM
দিনের শেষ ওভারে জাসপ্রিত বুমরাহর শর্ট বল পুল করার চেষ্টায় মোহাম্মদ সিরাজের হাতে ধরা পড়লেন হ্যারি ব্রুক। কিন্তু আম্পায়ার দিলেন নো বলের সংকেত! ইনিংসের শুরু থেকে চমৎকার বোলিং করা বুমরাহ আরেকটি উইকেট পেতে পেতেও পেলেন না ‘ওভারস্টেপ’ করায়। এ দিন এমন আক্ষেপ ছিল ভারতের ফিল্ডিং ও ব্যাটিংয়েও।
রিশাভ পান্তের রেকর্ড গড়া সপ্তম টেস্ট সেঞ্চুরি, শুবমান গিলের সঙ্গে দুইশ ছাড়ানো জুটিতে একপর্যায়ে ভারতের রান ছিল ৩ উইকেটে ৪৩০। সেখান থেকে ৪১ রানের মধ্যে শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে তারা গুটিয়ে যায় ৪৭১ রানে!
বেন ডাকেটের ফিফটি ও অলিভার পোপের সেঞ্চুরিতে জবাবটা ভালো দিচ্ছে ইংল্যান্ড। হেডিংলি টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ২০৯ রান। এখনও অবশ্য পিছিয়ে তারা ২৬২ রানে।
ইংলিশদের তিনটি উইকেটই নিয়েছেন বুমরাহ। উইকেটসংখ্যা আরও বাড়তে পারত তার। ৩১ বছর বয়সী পেসারের বলে ক্যাচ হাতছাড়া হয় দুটি।
১৫ রানে জীবন পেয়ে ৬২ রান করেন ডাকেট। ৬০ রানে জীবন পেয়ে টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরিতে ১০০ রানে অপরাজিত আছেন পোপ।
লিডসে শনিবার দ্বিতীয় দিনেও বোলারদের জন্য তেমন একটা সুবিধা ছিল না। ৩ উইকেটে ৩৫৯ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করে ভারত। প্রথম ঘন্টা নিরাপদে কাটিয়ে দলের স্কোর চারশ পার করেন আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান গিল ও পান্ত।
পানি পানের-বিরতির পর ৯৯ থেকে স্পিনার শোয়েব বাশিরকে বেরিয়ে এসে ছক্কায় উড়িয়ে ১৪৬ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন পান্ত।

মাহেন্দ্র সিং ধোনিকে (৬) ছাড়িয়ে ভারতের উইকেটকিপার হিসেবে সবচেয়ে বেশি টেস্ট সেঞ্চুরির রেকর্ড নিজের করে নিলেন তিনি (৭)। এই ৭ সেঞ্চুরির ৩টিই করলেন তিনি ইংল্যান্ডের মাটিতে। দেশটিতে একটির বেশি টেস্ট সেঞ্চুরি নেই আর কোনো সফরকারী উইকেটকিপারের।
প্রথম দিন ইয়াশাসভি জয়সওয়াল ও গিলের সেঞ্চুরির পর এবার পান্ত, ২০০৬ সালের পর এই প্রথম ও সব মিলিয়ে চতুর্থবার উপমহাদেশের বাইরে এক ইনিংসে সেঞ্চুরি পেলেন ভারতের তিন ব্যাটসম্যান।
একটু পরই গিলকে ফিরিয়ে ৩০১ বল স্থায়ী ২০৯ রানের জুটি ভাঙেন বাশির। ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় গিলের ১৯ চার ও এক ছক্কায় ২২৭ বলে ১৪৭ রানের ইনিংস।
ভারতের হয়ে নেতৃত্বের অভিষেকে তার চেয়ে বড় ইনিংস আছে কেবল ভিজায় হাজারের, ১৯৫১ সালে দিল্লিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ১৬৪।
গিলের বিদায়েই ভারতের পথ হারানোর শুরু। আট বছর পর টেস্ট ক্রিকেটে ফিরে কারুন নায়ার চার বলে শূন্য রানে ফেরেন শর্ট কাভারে পোপের দুর্দান্ত ক্যাচে। একটু পর এলবিডব্লিউ হয়ে শেষ হয় পান্তের ১২ চার ও ৬ ছক্কায় ১৭৮ বলে ১৩৪ রানের ইনিংস।
লাঞ্চের আগে-পরে দ্রুত শেষ ৪ উইকেট হারিয়ে অলআউট হয়ে যায় ভারত। ২৪ রানে শেষ ৬ উইকেট হারায় তারা।
তিন বা এর বেশি ব্যক্তিগত সেঞ্চুরির যত অলআউট হওয়া দলীয় ইনিংস আছে টেস্টে, তার মধ্যে সর্বনিম্ন ভারতের এই ৪৭১। এক্ষেত্রে আগের সর্বনিম্ন ছিল ২০১৬ সালে সেঞ্চুরিয়নে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই দক্ষিণ আফ্রিকার ৪৭৫।
ইংল্যান্ডের হয়ে ৪টি করে উইকেট নেন অধিনায়ক বেন স্টোকস ও জশ টং।
বোলিংয়ে ভারতের শুরুটা হয় দারুণ। খানিকটা বৃষ্টির পর মেঘলা আকাশের নিচে ব্যাটিং শুরু করে ইংল্যান্ড। প্রথম ওভারে অসাধারণ এক ডেলিভারিতে জ্যাক ক্রলিকে ফিরিয়ে দেন বুমরাহ। স্লিপে ক্যাচ নেন কারুন।
সপ্তম ওভারে বুমরাহ উইকেট পেতে পারতেন আরেকটি, কিন্তু ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ডাকেটের ক্যাচ ফেলেন রাভিন্দ্রা জাদেজা।
জীবন পেয়ে সুযোগ কাজে লাগান তিনি। জমে ওঠে পোপের সঙ্গে তার জুটি। চা-বিরতির আগে ডাকেট ফিফটি করেন ৬৮ বলে। বিরতির পর ৬৪ বলে পঞ্চাশে পা রাখেন পোপ।
নিজের দ্বিতীয় স্পেলে ডাকেটকে ফিরিয়ে ১৬৬ বলে ১২২ রানের জুটি ভাঙেন বুমরাহ। ব্যাটে লেগে বোল্ড হন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
ডাকেটকে ফিরিয়ে এসইএনএ দেশগুলোতে (দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, নিউ জিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া) উপমহাদেশের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ টেস্ট উইকেটের রেকর্ডে ওয়াসিম আকরামকে (৫৫ ইনিংসে ১৪৬ উইকেট) ছাড়িয়ে যান বুমরাহ (৬০ ইনিংসে ১৪৭ উইকেট)।
পরের ওভারে পোপের উইকেটও পেতে পারতেন তিনি, এবার স্লিপে ক্যাচ ফেলেন সেঞ্চুরিয়ান জয়সওয়াল।

সিরাজের বলে ৭ রানে জো রুটকে এলবিডব্লিউ দিয়েছিলেন আম্পায়ার। ইংল্যান্ডের সফলতম ব্যাটসম্যান রিভিউ নিয়ে বাঁচেন। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল লেগ স্টাম্প মিস করে যেত।
৮০ রানের জুটিতে পোপ ও রুট এগিয়ে নেন দলকে। ৯৯ থেকে বুমরাহর বলে সিঙ্গল নিয়ে পোপ নবম টেস্ট সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ১২৫ বলে।
আগের টেস্টে গত মাসে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৭১ রানের ইনিংস খেলার পরও তিন নম্বরে তার জায়গা হয়ে পড়েছিল নড়বড়ে। আরেকটি দারুণ সেঞ্চুরিতে সেই অবস্থান শক্ত করলেন পোপ।
পরের বলেই রুটকে ফিরিয়ে তৃতীয় শিকার ধরেন বুমরাহ। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে স্লিপে ক্যাচ দেন ৩৪ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান (৫৮ বলে ২৮)।
এরপরই বুমরাহর পরের ও দিনের শেষ ওভারে সেই নাটকীয়তা। এই ওভারে মোট তিনবার ওভারস্টেপ করেন ভারতীয় বোলিংয়ের মূল অস্ত্র বুমরাহ।
এ দিন বুমরাহ ছাড়া ভারতের অন্য বোলাররা তেমন প্রভাব রাখতে পারেননি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: (দ্বিতীয় দিন শেষে)
ভারত ১ম ইনিংস: (আগের দিন ৩৫৯/৩) ১১৩ ওভারে ৪৭১ (গিল ১৪৭, পান্ত ১৩৪, কারুন ০, জাদেজা ১১, শার্দুল ১, বুমরাহ ০, সিরাজ ৩*, প্রাসিধ ১; ওকস ২৪-৪-১০৩-০, কার্স ২২-৫-৯৬-১, টং ২০-০-৮৬-৪, স্টোকস ২০-২-৬৬-৪, বাশির ২৭-৬-১০০-১)
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৪৯ ওভারে ২০৯/৩ (ক্রলি ৪, ডাকেট ৬২, পোপ ১০০, ব্রুক ০; বুমরাহ ১৪-২-৪৮-৩, সিরাজ ১৪-০-৫০-০, প্রাসিধ ১০-০-৫৬-০, জাদেজা ৯-২-২৫-০, শার্দুল ৩-০-২৩-০)
১ ইনিংসে ৩ সেঞ্চুরি ৩ শূন্যর যত নজির
ইংল্যান্ডে আরেকটি সেঞ্চুরিতে ধোনিকে ছাড়িয়ে নতুন চূড়ায় পান্ত