Published : 07 Nov 2025, 05:42 PM
শেষ ১০ ওভারে দারুণ বোলিংয়ে লক্ষ্যটা নাগালে রাখলেন বোলাররা। তিন ম্যাচের মধ্যে দ্বিতীয়বার পাঁচ উইকেটের স্বাদ পেয়ে যেখানে বড় ভূমিকা রাখলেন ইকবাল হোসেন ইমন। কিন্তু ব্যাটিংয়ে টপ অর্ডার ব্যর্থ হলো আরেকবার। ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে লড়িয়ে ব্যাটিংয়ে আবদুল্লাহ চেষ্টা করলেও তা যথেষ্ট হলো না। শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানেই হেরে সিরিজে পিছিয়ে পড়ল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল।
চতুর্থ যুব ওয়ানডেতে আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের জয় ৪৭ রানে।
বগুড়ায় প্রথম ম্যাচ হেরে পিছিয়ে পড়া সফরকারী দল রাজশাহীতে টানা দুই জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেল ২-১ ব্যবধানে। দ্বিতীয় ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়।
টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরিতে আফগানিস্তানের আরেকটি জয়ের নায়ক ফায়সাল খান। তিন নম্বরে ১০ চার ও ৪ ছক্কায় ১১৬ বলে ১১২ রানের ইনিংস খেলে আবারও ‘ম্যান অব দা ম্যাচ’ হন ১৭ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান।
রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার ৪০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৯৩ রানের শক্ত অবস্থানে থেকে তিন বল বাকি থাকতে ২৫৮ রানে অলআউট হয় আফগানিস্তান।
প্রথম ম্যাচে ৫ উইকেট নেওয়া ইকবাল এবার ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে ৫১ রানে নেন ৬টি। যুব ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে চতুর্থ সেরা বোলিং এটি।
রান তাড়ায় বাংলাদেশ প্রথম আট ওভারের মধ্যে স্রেফ ৪০ রানে হারিয়ে ফেলে ৬ উইকেট! সেখান থেকে ৯ উইকেটে ২১১ পর্যন্ত যেতে পারে তারা আবদুল্লাহর নৈপুণ্যে।
সপ্তম উইকেটে দেবাশিস সরকারের সঙ্গে ১০৮ ও অষ্টম উইকেটে স্বাধীন ইসলামের সঙ্গে ৫৯ রানের জুটি গড়েন আবদুল্লাহ।
প্রায় পঞ্চাশ ওভার উইকেটকিপিং করার পর, ছয় নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৬০ বলে ক্যারিয়ার সেরা ৯৫ রান করে শেষ ওভারে আউট হন তিনি। ৬ চার ও ৩ ছক্কায় গড়া তার ইনিংসটি। দেবাশিস ৪ ছক্কা ও ২ চারে করেন ৬১ বলে ৫১।
ব্যাটিংয়ে নেমে তৃতীয় ওভারে জোড়া ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। আগের ওভারে দারুণ একটি ছক্কা মারা অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিম বোল্ড হন বলের লাইন বুঝতে না পেরে। একটি চার মারার পরের বলে মিড অফে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বাঁহাতি ওপেনার রিফাত বেগ।
পঞ্চম ওভারে আবার দুটি উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এবার আউট হয়ে যান জাওয়াদ আবরার ও রিজান হোসেন। প্রথম চারটি উইকেটই নেন পেসার আব্দুল আজিজ।
জোড়ায় জোড়ায় উইকেট হারানোর শেষ নয় সেখানেই। অষ্টম ওভারে অফ স্পিনার ওয়াহিদউল্লাহ জাদরানের বলে বোল্ড হয়ে যান কালাম সিদ্দিকি এলিন ও সামিউন বশির।
পঞ্চাশের আগে ছয় ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে তখন অল্পে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় বাংলাদেশ। সেখান থেকে দলকে উদ্ধার করে আবদুল্লাহ ও দেবাশিসের শতরানের জুটি।
মাটি কামড়ে উইকেটে পড়ে থাকা আবদুল্লাহ ফিফটি করেন ৯২ বলে। পঞ্চাশ ছুঁতে দেবাশিসের লাগে ৫৮ বল। এরপরই ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।
পরে আবদুল্লাহ ও স্বাধীন ৫৯ রানের জুটি গড়লেও বল খেলে ফেলেন তারা ১০৫টি। ম্যাচও তাই ধীরে ধীরে বাংলাদেশের নাগালের বাইরে চলে যায়। পায়ে ক্রাম্প নিয়েও ব্যাটিং চালিয়ে যাওয়া আবদুল্লাহ শেষ ওভারে স্টাম্পড হয়ে থামেন।
এর আগে টস হেরে বোলিং পেয়ে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল ভালো। তৃতীয় ওভারে দারুণ এক ডেলিভারিতে ওসমান সাদাতকে কট বিহাইন্ড করে ফেরান ইকবাল। আরেক ওপেনার খালিদ আহমাদজাইকে বেশিদূর যেতে দেননি সাদ ইসলাম। দশম ওভারে ৫০ রানে ২ উইকেট হারায় আফগানিস্তান।
তৃতীয় উইকেটে ১২১ রানের বড় জুটিতে দলকে টানেন ফায়সাল ও উজাইরউল্লাহ নিয়াজি। উজাইরউল্লাহকে (১০০ বলে ৭২) ফিরিয়ে মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠা জুটি ভাঙেন ইকবাল।
এরপর ফায়সাল একপ্রান্ত আগলে রেখে রান করলেও অন্য প্রান্তে নিয়মিত উইকেট হারায় আফগানিস্তান। ১০৬ বলে সেঞ্চুরি করা ফায়সালকে ৪৮তম ওভারে আউট করে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন ইকবাল। শেষ ওভারে তিনি ধরেন আরেকটি শিকার।
আফগানিস্তান শেষ ৫ উইকেট হারায় ১৪ রানের মধ্যে। শেষের এমন দারুণ বোলিংয়ের পরও হারের হতাশা সঙ্গী হলো বাংলাদেশের।
একই মাঠে শেষ ম্যাচ আগামী রোববার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দল: ৪৯.৩ ওভারে ২৫৮ (খালিদ ১৬, ওসমান ৯, ফায়সাল ১১২, উজাইরউল্লাহ ৭২, মাহবুব ৭, আজিজউল্লাহ ১৬, নাজিউল্লাহ ১০, আজিজ ০, ওমারজাই ৭, জাতিউল্লাহ ২, ওয়াহিদউল্লাহ ১*; ইকবাল ৯.৩-০-৫১-৬, সাদ ১০-০-৬২-২, সামিউন ১০-২-২৮-০, রিজান ৯-১-৩৯-০, স্বাধীন ৭-০-৪২-১, আজিজুল ৩-০-২৫-০, দেবাশিস ১-০-১১-০)
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল: ৫০ ওভারে ২১১/৯ (আজিজুল ৮, রিফাত ১০, জাওয়াদ ১০, কালাম ০, রিজান ৪, আবদুল্লাহ ৯৫, সামিউন ০, দেবাশিস ৫১, স্বাধীন ১৫*, ইকবাল ৪; আজিজ ৬.২-২-২৮-৪, ওয়াহিদউল্লাহ ১০-২-২৯-২, ওমারজাই ১০-০-৪৬-১, জাতিউল্লাহ ১০-০-৪৩-০, উজাইরউল্লাহ ৭-১-২৬-০, নাফিউল্লাহ ৫-১-২৫-২, আজিজউল্লাহ ১.৪-০-১২-০)
ফল: আফগানিস্তান ৪৭ রানে জয়ী
সিরিজ: ৫ ম্যাচের সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে আফগানিস্তান
ম্যান অব দা ম্যাচ: ফায়সাল খান