Published : 15 Dec 2025, 07:02 PM
অভিযোগ পুরোনো। দাবি সেই একই। সিদ্ধান্তও নতুন কিছু নয়। তবু কিছুদিন পরপরই সংবাদ সম্মেলন আহবান করা হয় ঢাকার লিগ ক্রিকেট বর্জন করা ক্লাবগুলির পক্ষ থেকে। এবার তাই সরাসরি প্রশ্নই ছুটে গেল তাদের কাছে এটা নিয়ে। ক্লাব কর্তাদের দাবি, বিসিবির মিথ্যাচারের জবাব দেওয়ার জন্যই তারা বারবার সংবাদ সম্মেলন করছেন।
গত অক্টোবরের বিসিবি নির্বাচন ও বর্তমান বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে অবৈধ ঘোষণা করে সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেয় ঢাকার অনেকগুলো ক্লাব। শুরুতে ৪৩ ক্লাব হলেও পরে ৪৪ ক্লাব, এমনকি ৪৫ ক্লাব এখানে একতাবদ্ধ বলে দাবি করা হয়েছে।
এর মধ্যে প্রথম বিভাগের ক্লাব ৮টি। সেই ক্লাবগুলির বর্জনের মধ্যে দিয়েই রোববার শুরু হয় প্রথম বিভাগ লিগ। মাঠে না আসায় শুরুর দিনেই অবনমন হয়ে যায় ৪টি ক্লাবের।
পরদিন সোমবার আরেকটি সংবাদ সম্মেলন আহবান করে ক্লাবগুলি। আগের কয়েক দফায় যে ধরনের অভিযোগ ও দাবি তারা জানায়, এ দিনও ছিল অনেকটা সেসবই। পুরোনো কথাগুলিই তারা ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে তুলে ধরেছে আবার।
নতুন কোনো সিদ্ধান্ত না থাকার পরও কেন কদিন পরপরই সংবাদ সম্মেলন ডাক হচ্ছে, সেটির ব্যাখা দিলেন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুজ্জামান।
‘‘প্রেস কনফারেন্স করতে হয়, কারণ আমাদের বলার মাধ্যমটা তো গণমাধ্যম। আমাদের কথাগুলো গণমাধ্যম পৌঁছে দিচ্ছে সবার কাছে। বারবার সংবাদ সম্মেলন করে বলার উদ্দেশ্য হলো পরিস্থিতিটা তুলে ধরা, যা তারা (বিসিবি) তৈরি করেছে অবৈধভাবে।’’
‘‘আমরা যে সমস্ত দাবি-দাওয়া বা যে সমস্ত কথাবার্তাগুলো বলেছি, সেগুলি তারা অস্বীকার করছে, আমাদের নিয়ে মিথ্যাচার করছে। এইটা আমরা গণমাধ্যমের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করছি বারবার।’’
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম ও বর্তমান পরিচালনা পর্ষদকে শুরু থেকেই ‘অবৈধ’ বলে আসছে লিগ বর্জন করা এই ক্লাবগুলি। সঙ্কট সমাধানের পথ নিয়ে মাসুদুজ্জামান পুরোনো কথাই শোনালেন নতুন করে।
‘‘এই ক্রিকেট বোর্ডকে আমরা মানি না। আমরা স্বচ্ছ একটা নির্বাচন চাই। এই বোর্ড ভেঙে দিয়ে স্বচ্ছ নির্বাচন হতে হবে। নির্বাচনের মাধ্যমে যে যারা বোর্ড গঠন করবে, আমরা সেই বোর্ডের আওতায় লিগে অংশ নেব।’’
ইন্দিরা রোড ক্রীড়া চক্রের কাউন্সিলর ও বিসিবির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বাবুর কথাও সেই আগের মতোই।
‘‘আমরা ভেবেছিলাম সুন্দর একটা নির্বাচন হবে। কিন্তু কী ধরনের নির্বাচন হয়েছে তা জাতি দেখেছে। তাই আমরা মনে করি এই অবৈধ বোর্ডের অধীনে কোনো লিগেই আমরা থাকব না। শাসক চলে গিয়েছে, শোষক নয়।’’