Published : 03 May 2026, 11:02 PM
শুরুতে একটু খরুচে বোলিং করলেন নাহিদ রানা। তবে ঘুরে দাঁড়াতে তিনি সময় নিলেন না খুব একটা। গতি, বাউন্স আর ইয়র্কারের মিশেলে দুর্দান্ত বোলিং উপহার দিলেন বাংলাদেশের তরুণ ফাস্ট বোলার।
পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ফাইনালে পেশাওয়ার জালমির হয়ে চার ওভারে ২২ রানে ২ উইকেট নেন নাহিদ।
হায়দরাবাদ কিংসমেনের বিপক্ষে তার প্রথম ওভারে আসে ১৩ রান। পরের তিন ওভারে একটি মেডেনে স্রেফ ৯ রান দিয়ে গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও হুনাইন শাহর উইকেট নেন তিনি।
দেশের মাটিতে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের আগে এবারের পিএসএলে খেলেন নাহিদ। অভিষেক ম্যাচে ভালো না করলেও পরের তিন ম্যাচে দুর্দান্ত বোলিংয়ে তিনি উইকেট নেন ৭টি।
ওয়ানডে সিরিজে দুর্দান্ত বোলিং করা পেসারকে বিশ্রাম দেওয়া হয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে। প্রাথমিকভাবে তাকে আর পিএসএলে খেলার ছাড়পত্র না দিলেও, পরে ফাইনালের জন্য অনুমতি দেয় বিসিবি। একটি বড় বৈশ্বিক ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিযোগিতার ফাইনালে অংশগ্রহণের গুরুত্ব বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হয় বোর্ডের পক্ষ থেকে।
উপলক্ষটা তিনি রাঙালেন চমৎকার বোলিংয়ে। বড় ম্যাচের চাপ যে তিনি ভালোভাবেই নিতে পারেন, সেটিও দেখালেন ২৩ বছর বয়সী বোলার।
২ উইকেটে ৭১ রানের শক্ত অবস্থানে থেকে পথ হারিয়ে ১২৯ গুটিয়ে গেছে কিংসমেন।
লাহোরে রোববার টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে মাজ সাদাকাত ও মার্নাস লাবুশেনের উইকেট হারিয়ে প্রথম পাঁচ ওভারে কিংসমেন করে ৫৬ রান।
ষষ্ঠ ওভারে বোলিং পান নাহিদ। শুরুটা তার ভালো হয়নি। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে সরে গিয়ে ফ্লিক করে স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকান সাইম আইয়ুব। পরের বলে হাফ-ভলি ডেলিভারিতে কাভার দিয়ে চার মারেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
ওই ওভারে ১৩ রান নিয়ে, পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেটে ৬৯ রান তুলে বেশ ভালো অবস্থানে ছিল কিংসমেন।
সপ্তম ওভারে জোড়া ধাক্কা খায় তারা। স্পিনার সুফিয়ান মুকিমের বলে এলবিডব্লিউ হন উসমান খান। রান আউটে বিদায় নেন ইরফান খান।
অষ্টম ওভারে অসাধারণ বোলিং করেন নাহিদ। প্রথম বলেই তিনি বিদায় করে দেন ম্যাক্সওয়েলকে। গতিময় বাউন্সার পুল করার চেষ্টায় ঠিকমতো পারেননি অস্ট্রেলিয়ান তারকা, সহজ ক্যাচ উঠে যায় মিড-অনে।
‘গোল্ডেন ডাক’ এর তেতো স্বাদ পান তিনি।
পরের তিন বলে আসে এক রান। পঞ্চম বলে ঠিকমতো খেলতে পারেননি সাইম, দুই ব্যাটসম্যান ছোটেন রানের জন্য। মাইকেল ব্রেসওয়েলের সরাসরি থ্রুয়ে রান আউটে বিদায় নেন কুসাল পেরেরা। শ্রীলঙ্কান ব্যাটসম্যান যদিও সন্তুষ্ট ছিলেন না। রানের জন্য ছোটার সময় পেরেরাকে নাহিদ বাধার সৃষ্টি করেছিলেন কি না, পরীক্ষা করে দেখে আউট দেন তৃতীয় আম্পায়ার।
ওই ওভারে প্রথম পাঁচ বলে কেবল এক রান দেওয়া নাহিদ শেষ বলে হজম করেন বাউন্ডারি।
কিংসমেন উইকেট হারায় নিয়মিতই। হাসান খান বিদায় নেন ১২ রান করে। একপর্যায়ে ২ উইকেটে ৭১ থেকে তাদের স্কোর হয়ে যায় ৭ উইকেটে ৯০।
১৪তম ওভারে বোলিংয়ে ফেরানো হয় নাহিদকে। ১৪৮ কিলোমিটার গতিময় ডেলিভারিতে তিনি বোল্ড করে দেন হুনাইনকে। ব্যাটে কোনো রান তিনি এই ওভারে দেননি। একটি রান আসে লেগ বাই থেকে।
ইনিংসের ১৭তম ও নাহিদের শেষ ওভারে প্রথম বলে ইয়র্কারে সাইমকে এলবিডব্লিউ দিয়েছিলেন আম্পায়ার। ব্যাটসম্যান রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান বল লেগ স্টাম্পের বাইরে পিচ করায়।
এরপর কোমর উচ্চতার একটি ‘নো’ বল করেন নাহিদ। ফ্রি হিট লং-অনে খেলে রান নেওয়ার সুযোগ থাকলেও নেননি সাইম। পরের বলে দুই ও চতুর্থ বলে এক নেন তিনি। শেষ দুই বলে কোনো রান আসেনি। এই ওভারে আসে মোট ৪ রান।
পরের ওভারে সাইম ও আকিফ জাভেদকে ফিরিয়ে ইনিংস গুটিয়ে দেন অ্যারন হার্ডি। ২৭ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দলের সফলতম বোলার এই অস্ট্রেলিয়ান পেস বোলিং অলরাউন্ডার।
পাঁচ চার ও দুই ছক্কায় সাইমের ৫০ বলে ৫৪ ছাড়া কিংসমেনের আর কেউ ২০ ছাড়াতে পারেননি।