দারুণ এক স্পেলে তিন উইকেট খালেদের
কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো বোলিংয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন বাংলাদেশের পেসার।
পাঁচ ওভারের প্রথম স্পেলে উইকেট নেই একটিও। আবার যখন বল হাতে পেলেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ, ততক্ষণে ৪৮ ওভার পেরিয়ে গেছে। পুরোনো সেই বলেই জ্বলে উঠলেন তিনি। দুর্দান্ত এক স্পেলে শিকার করলেন তিন উইকেট। ধারাভাষ্যকার বলতে বাধ্য হলেন, “এই স্পেলটি গ্লস্টারশায়ারের মিডল অর্ডার থেকে নিচের দিকের ব্যাটিং লাইন আপের প্রাণ বের করে নিয়েছে…।”
খালেদের সঙ্গে দারুণ বোলিং করলেন কেন্টের অন্য বোলাররাও। সবুজ উইকেটে পাঁচ পেসার নিয়ে সাজানো পেস আক্রমণের সবাই দেখা পেলেন উইকেট। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের ডিভিশন টু-এর মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গ্লস্টারশায়ারের প্রথম ইনিংস ২২৯ রানে থামাল কেন্ট।
৫৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে কেন্টের সেরা বোলার ম্যাট মিল্নস। ১১ ওভার বোলিংয়ে খালেদের প্রাপ্তি ৩৭ রানে ৩ উইকেট। একটি করে উইকেট নেন ম্যাট কুইন, কিথ ডাজন ও একানশ সিং।
আগের ম্যাচে খালেদ উইকেট নিয়েছিলেন ৮টি।
গ্লস্টারশায়ারের বিপক্ষে এই ম্যাচ জিতলে কাউন্টির ডিভিশন টু থেকে ওয়ানডে উন্নীত হবে কেন্ট। ম্যাচ ড্র হলে বা হারলেও সুযোগ থাকবে, তবে তখন নির্ভর করতে হবে অন্য দলের পারফরম্যান্সের ওপর।
ঘরের মাঠ ক্যান্টারবুরির সেন্ট লরেন্স গ্রাউন্ডে ঘাসে ভরা উইকেটে টস জিতে বোলিং নেয় কেন্ট। তৃতীয় ওভারে দলকে প্রথম উইকেট এনে দেন মিল্নস।
দ্বিতীয় উইকেটে ৬২ রানের জুটি গড়েন অলিভার প্রাইস ও টমি বুরম্যান। ৫২ রান করেন প্রাইস, ২৯ রানে ফেরেন বুরম্যান।
চতুর্থ বোলার হিসেবে আক্রমণে এসে প্রথম স্পেলে ৫ ওভারে ১৯ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকেন খালেদ।
প্রাইস-বুরম্যানের বিদায়ের পর অধিনায়ক জেমস ব্রেসির ব্যাটে এগিয়ে যেতে থাকে গ্লস্টারশায়ার। তবে আরেকপ্রান্তে সঙ্গী পাচ্ছিলেন না কাউকে। ৪৮তম ওভারে কামরান ধারিওয়ালকে ফেরান মিল্নস। গ্লস্টারের রান তখন ৫ উইকেটে ১৪৪।
পরের ওভারেই আক্রমণে ফেরেন খালেদ এবং ছোবল দেন দ্রুতই। ড্রাইভ করার চেষ্টায় ব্যাটের কানায় লেগে বোল্ড হন ডারিয়ুশ আহমেদ।
খালেদের পরের শিকার সাই কিশোর। লেংথ থেকে দারুণভাবে লাফিয়ে ওঠা বিষাক্ত এক ডেলিভারিতে শূন্য রানে ফেরেন ভারতীয় ক্রিকেটার।
ওই স্পেলেই খালেদ ফেরান চে সিমন্সকে। ভেতরে ঢোকা দারুণ ডেলিভারিতে উপড়ে যায় অফ স্টাম্প।
৮ উইকেটে ১৭১ রান থেকে গ্লস্টারকে টেনে নেন ব্রেসি। নবম উইকেটে ম্যাট টেইলরের সঙ্গে যোগ করেন ৫৮ রান।
১০৩ বলে ৮৬ রান করা ব্রেসিকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন মিল্নস। ওই ওভারেই শেষ ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে এই পেসার শেষ করে দেন ইনিংস।
কেন্ট ব্যাটিংয়ে নেমে তৃতীয় ওভারে জ্যাক ক্রলিকে (১) হারালেও এই প্রতিবেদন লেখার সময় তাদের রান ১ উইকেটে ৫৪।
কেন্টের জন্য খুশির খবর এসেছে অন্য খেলা থেকে। ডিভিশন ওয়ানে ওঠার ক্ষেত্রে তাদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী নর্থ্যাম্পটনশায়ার ১০৩ রানেই গুটিয়ে গেছে লর্ডসে।
