উইমেন’স ওয়ানডে বিশ্বকাপ
Published : 19 Oct 2025, 11:05 PM
দারুণ ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরি থেকে তখন ১৩ রান দূরে স্মৃতি মান্ধানা। জয়ের জন্য ৭ উইকেট হাতে রেখে ভারতের প্রয়োজন ৬০ বলে ৬২ রান। ম্যাচ তাদের মুঠোয়। কিন্তু আর এক রান যোগ করে মান্ধানার বিদায়ের পর পেরে উঠল না ভারত। বোলিংয়ে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে শ্বাসরুদ্ধকর জয়ে বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে উঠল ইংল্যান্ড।
উইমেন’স ওয়ানডে বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ভারতের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের জয় ৪ রানে।
ইন্দোরে রোববার হিদার নাইটের সেঞ্চুরিতে ৮ উইকেটে ২৮৮ রানের পুঁজি গড়ে ইংল্যান্ড। জবাবে শক্ত অবস্থানে থেকেও ৬ উইকেটে ২৮৪ রানের বেশি করতে পারেনি ভারত।
আসরে প্রথম দুই ম্যাচে জয়ের পর টানা তৃতীয় হারের তেতো স্বাদ পেল হারমানপ্রিত কৌরের দল।
আট দলের আসরে তৃতীয় দল হিসেবে সেমি-ফাইনালের টিকেট নিশ্চিত করল ইংল্যান্ড। শেষ চারে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গী হলো তারা।
পাঁচ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের সমান ৯ পয়েন্ট, দক্ষিণ আফ্রিকার পয়েন্ট ৮।
সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে ভারত চারে ও নিউ জিল্যান্ড পাঁচে আছে। শেষ চারের বাকি একটি জায়গার লড়াইয়ে সম্ভাবনায় সবচেয়ে এগিয়ে আছে এই দুই দল। নিজেদের পরের ম্যাচে আগামী বৃহস্পতিবার মুখোমুখিও হবে এই দুই দলই।
বড় লক্ষ্য তাড়ায় ভারতের শুরুটা ভালো ছিল না। প্রথম ১০ ওভারে ৪২ রানে ২ উইকেট হারায় তারা।
তৃতীয় উইকেটে মান্ধানা ও হারমানপ্রিতের ১২২ বলে ১২৫ রানের জুটি পথে রাখে স্বাগতিকদের। ১০ চারে ৭০ বলে ৭০ রান করে বিদায় নেন অধিনায়ক হারমানপ্রিত।
এরপর মান্ধানা ও দীপ্তি শার্মার পঞ্চাশোর্ধ জুটিতে ভারতের জয় মনে হচ্ছিল সময়ের ব্যাপার। ৪০ ওভার শেষে তাদের স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ২২৭ রান।
৫৩ বলে দরকার যখন ৫৫ রান, বাঁহাতি স্পিনার লিন্সে স্মিথকে উড়িয়ে মেরে লং-অফে ধরা পড়েন বাঁহাতি ওপেনার মান্ধানা (৯৪ বলে ৮৮)।
এরপরই বদলে যায় চিত্র। তারপরও অবশ্য ভারতের নাগালেই ছিল জয়। শেষ পাঁচ ওভারে দরকার ছিল ৩৬ রান।
ফিফটি করে ৪৭তম ওভারে আউট হয়ে যান দীপ্তি (৫৭ বলে ৫০)। শেষ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ১৪ রান। স্মিথ প্রথম পাঁচ বলে দেন কেবল ৫। শেষ বলে আমানজোতের বাউন্ডারিতে কমে শুধু পরাজয়ের ব্যবধান।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ওপেনার অ্যামি জোন্সের (৬৮ বলে ৫৬) ফিফটিতে বড় সংগ্রহের ভিত পায় ইংল্যান্ড। ৩০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমে দলকে টানেন নাইট।
৮৬ বলে তৃতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। ৩৪ বছর বয়সী ব্যাটার এই সংস্করণে তিন অঙ্কের দেখা পেলেন চার বছরের বেশি সময় পর।
৯১ বলে ১৫ চার ও এক ছক্কায় ১০৯ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা তিনিই।