১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

‘জীবন কতটা ক্ষণস্থায়ী’, মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে অস্ট্রেলিয়ান গ্রেটের উপলব্ধি

কঠিন সময়ে পাশে থাকাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বিশ্বকাপজয়ী ডেমিয়েন মার্টিন।

‘জীবন কতটা ক্ষণস্থায়ী’, মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে অস্ট্রেলিয়ান গ্রেটের উপলব্ধি
ডেমিয়েন মার্টিন। ছবি: ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Jan 2026, 05:14 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:35 PM

বালির ওপর খালি পায়ে দাঁড়িয়ে সাগরের দিকে তাকিয়ে থাকার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়েছেন ডেমিয়েন মার্টিন। মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে আসার অনুভূতি ওই পোস্টেই তুলে ধরেছেন অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটিং গ্রেট। সঙ্গে কঠিন সেই সময়ে তার পাশে থাকাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।

গত ২৬ ডিসেম্বর ছিল মার্টিন ও তার পরিবারের জন্য দুঃস্বপ্নের একটি দিন। মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত হলে ওই দিন গোল্ড কোস্টের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ৫৪ বছর বয়সী মার্টিনকে।

মেনিনজাইটিস হলো মস্তিষ্ক বা সুষুম্নাকাণ্ডের আবরণীর প্রদাহ বা মস্তিষ্ক-ঝিল্লীর প্রদাহ। খুবই গুরুতর রোগ এটি, যা ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক বা পরজীবীর সংক্রমণের কারণে ঘটে।

অবস্থা ভীষণ গুরুতর হওয়ায় তখন মার্টিনকে ‘ইনডিউসড কোমায় রাখা হয়।’ এটার মানে প্ররোচিত কোমা বা চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ওষুধের মাধ্যমে অচেতন রাখা। অবস্থার উন্নতি হওয়ায় সপ্তাহখানেক পর তাকে কোমা থেকে বের করে আনা হয়।

মার্টিনের শারীরিক অবিশ্বাস্য উন্নতিতে তার পরিবার ও কাছের মানুষদের পাশাপাশি চিকিৎসকরাও অবাক হয়েছেন। চলতি মাসের শুরুতে তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হওয়া। সেরে ওঠার বাকি প্রক্রিয়া নিজ বাসা থেকেই চালাচ্ছেন তিনি।

মার্টিনের অসুস্থতার ওই সময়টায় তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে তথ্যগুলো দিয়েছিলেন অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। সাবেক এই অস্ট্রেলিয়ান কিপার-ব্যাটসম্যান জাতীয় দলের পাশাপাশি ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ায়ও মার্টিনের দীর্ঘদিনের সতীর্থ ছিলেন। তাদের বন্ধুত্বটা বেশ পুরনো ও ঘনিষ্ঠ।

জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং পরে অলৌকিকভাবে সেরে ওঠার পর শনিবার প্রথমবারের মতো সামাজিক মাধ্যমে কিছু লিখলেন মার্টিন।

 “আমার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ৫০/৫০ দেওয়ার পর, আমি আট দিন পর ইনডিউসড কোমা থেকে ফিরে আসি…তখন আমি হাঁটতে পারতাম না, কথাও বলতে পারতাম না। এর চার দিন পর চিকিৎসকদের বিস্ময় উপহার দিয়ে আমি হাঁটলাম, কথা বললাম এবং তাদের সবাইকে প্রমাণ করে দিলাম কেন আমাকে সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া উচিত।”

“ঘরে ফিরতে পেরে, সমুদ্রসৈকতে বালির ওপর পা রাখতে পেরে এবং যারা আমার ও আমার পরিবারের পাশে অটল সমর্থন নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানানো শুরু করতে পেরে ভীষণ ভালো লাগছে।”

নতুন জীবন পাওয়ার পর নিজের উপলব্ধিও জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১৯৯৯ ও ২০০৩ বিশ্বকাপ জেতা মার্টিন।

“এই অভিজ্ঞতা আমাকে মনে করিয়ে দিয়েছে, জীবন কতটা ক্ষণস্থায়ী, সবকিছু কত দ্রুত বদলে যেতে পারে এবং সময় কতটা মূল্যবান!”

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৬৭ টেস্ট খেলে ৪৬.২৭ গড়ে ৪ হাজার ৪০৬ রান করেছেন মার্টিন। সেঞ্চুরি করেছেন ১৩টি, ফিফটি ২৪টি। ২০৮ ওয়ানডে খেলে ৪০.৮০ গড়ে করেছেন ৫ হাজার ৩৪৬ রান। এই সংস্করণে শতরান ৫টি, অর্ধশত ৩৭টি।

ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটও কিছুটা পেয়েছেন তিনি, খেলেছেন ইতিহাসের প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে। চারটি ম্যাচ খেলেছেন এই সংস্করণে।