Published : 23 Aug 2025, 08:20 PM
বাবার পথ অনুসরণ করে ক্রিকেটের আঙিনায় বিচরণ করছেন নারেন মুরালিদারান ও রানুক জায়াসুরিয়া। শ্রীলঙ্কার অনূর্ধ্ব-২৩ পর্যায়ের ক্রিকেটে মুখোমুখি লড়াইয়ে নেমেছেন দেশটির দুই গ্রেট ক্রিকেটার মুত্তাইয়া মুরালিদারান ও সানাৎ জায়াসুরিয়ার ছেলে।
অনূর্ধ্ব-২৩ ইন্টার ক্লাব টুর্নামেন্টে শনিবার শুরু হয়েছে তামিল ইউনিয়ন ক্রিকেট অ্যান্ড অ্যাথলেটিক ক্লাবের বিপক্ষে সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাবের ম্যাচ। দুই দিনের ম্যাচের প্রতিযোগিতাটিতে সিংহলিজের প্রতিনিধিত্ব করছেন নারেন। আর তামিল ইউনিয়নের হয়ে খেলছেন রানুক।
বাবার মতো বাঁহাতি ব্যাটসম্যান রানুক। বছর ছয়েক আগে রানুককে নেটে জায়াসুরিয়ার ব্যাটিং করানোর ছবি ভাইরাল হয়েছিল। আর নারেন নিজেকে গড়ে তুলছেন স্পিনিং অলরাউন্ডার হিসেবে। দুইজনের বয়সই ১৭।
চলতি টুর্নামেন্টে এই ম্যাচের আগ পর্যন্ত তিন ম্যাচের তিন ইনিংসে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ১২৫ রান করেছেন রানুক। যেখানে রয়েছে ১১৬ রানের চমৎকার একটি ইনিংস।
নারেনদের বিপক্ষেও এদিন ভালো শুরু করেন রানুক। দারুণ ব্যাটিংয়ে ফিফটির কাছে পৌঁছে যান তিনি। কিন্তু অল্পের জন্য পঞ্চাশ ছোঁয়া হয়নি তার। তিনে নেমে ৭ চারে ৮০ বলে খেলেন ৪৩ রানের ইনিংস।
এদিন ৫ ওভার বোলিং করে কোনো উইকেট নিতে পারেননি নারেন। ২ মেডেন দিয়ে বাকি ৩ ওভারে খরচ করেন ১৭ রান।
এই প্রতিযোগিতায় আগে দুই ম্যাচ খেলে ২ উইকেট নিয়েছেন নারেন। আর ব্যাট হাতে ২ ইনিংসে করেছেন ৫২ রান, সর্বোচ্চ ৪৫।
এরই মধ্যে প্রথম শ্রেণি ও টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের স্বাদ পেয়েছেন নারেন। চারটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে ২৫ রান করেছেন তিনি, সেইসব ম্যাচে অবশ্য করেননি বোলিং। আর তিন টি-টোয়েন্টিতে ১১ রান করার পাশাপাশি ২ শিকার ধরেছেন তিনি।
বছর চারেক আগে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বাবা মুত্তাইয়া মুরালিদারানের মতো ঠিক একই বোলিং অ্যাকশনে নেটে বোলিং করছেন নারেন। বোলিংয়ে এখনও সেভাবে জ্বলে উঠতে না পারলেও, ব্যাটিং দিয়ে এরই মধ্যে নজর কেড়েছেন নারেন।
২০১৯ সালে অনূর্ধ্ব-১৫ টুর্নামেন্টে ১৬২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। এরপর ২০২৩ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ ইন্টার স্কুল টুর্নামেন্টেও উপহার দিয়েছিলেন সেঞ্চুরি।
নারেনের বাবা মুত্তাইয়া মুরালিদারান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইতিহাসের সফলতম বোলার। এই অফ স্পিনারের ১ হাজার ৩৪৭ উইকেটের ধারেকাছেও নেই কেউ। অস্ট্রেলিয়ান গ্রেট লেগ স্পিনার শেন ওয়ার্নের উইকেট ১ হাজার ১টি।
টেস্টে মুত্তাইয়া মুরালিদারানের ৮০০ উইকেটও সর্বোচ্চ। সাতশ উইকেট নিতে পেরেছেন আর কেবল ওয়ার্ন (৭০৮) ও ইংলিশ পেসার জেমস অ্যান্ডারসন (৭০৪)। ওয়ানডেতেও মুরালিদারানের ৫৩৪ উইকেট সর্বোচ্চ। পাঁচশ উইকেট আছে আর কেবল পাকিস্তান পেস বোলিং গ্রেট ওয়াসিম আকরামের (৫০২)।
আর সানাৎ জায়াসুরিয়া ক্রিকেট ইতিহাসের গ্রেট অলরাউন্ডারদের একজন। ওয়ানডেতে ১৩ হাজার ৭০৪ রানের পাশাপাশি ৩২৩ উইকেট রয়েছে তার নামের পাশে। টেস্টে রান করেছেন ৬ হাজার ৯৭৩, উইকেট ৯৮টি। আর দেশের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে ৬২৯ রান করার পাশাপাশি উইকেট নিয়েছেন ১৯টি।
মুরালিদারান ও জায়াসুরিয়া আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছেড়েছেন এক যুগেরও বেশি সময় আগে। এখন তাদের ছেলেদের পালা। নিজেদের কতটুকু মেলে ধরতে পারেন তারা, সেটাই এখন দেখার।
নারেন ও রানুকের আগামী বছরের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের শ্রীলঙ্কা দলে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।