Published : 08 Jun 2026, 11:49 AM
১৭ ওভার তখন মোটে শেষ হয়েছে। আব্দুল্লাহ আল মামুনের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন হাবিবুর রহমান সোহান। একজন ওপেনারের জন্য সময়টা খুব লম্বা নয়। কিন্তু এর মধ্যেই তিনি যা করে ফেলেছেন, সেটিকে বলা যায় ঝড়, ধ্বংসযজ্ঞ, টর্নেডো কিংবা তাণ্ডব! মাত্র ছয় দিন আগে গড়েছিলেন লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে বাংলাদেশের দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড। এবার নতুন করে লেখালেন শতরানের রেকর্ডও।
বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান হিসেবে দেশের ক্রিকেটে তার পরিচিতি বরাবরই ছিল। এবার সেটিকেও নতুন উচ্চতায় তুলে নিলেন এই ওপেনার। উপহার দিলেন তিনি লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে বাংলাদেশের দ্রুততম সেঞ্চুরি। ৪৫ বলের শতরানের ছাড়িয়ে গেলেন নিজের রেকর্ড। আউট হয়ে যখন ফিরছেন, তার নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে ৫৮ বলে ১৩০। তার ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস।
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জের হয়ে সোমবার সিটি ক্লাবের বিপক্ষে ইউল্যাব ক্রিকেট মাঠে ইনিংসটি খেলেন সোহান। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তার চতুর্থ শতরান এটি, এবারের লিগে প্রথম।
এই সংস্করণে বাংলাদেশের দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটি এতদিন ছিল ৪৯ বলে, যৌথভাবে যেটি ছিল সোহান ও মোসাদ্দেক হোসেনের।
সোহানের এই ইনিংসে চার ৮টি, ছক্কা ১৩টি! লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এক ইনিংসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছক্কার কীর্তি এটি। ১৬ ছক্কা নিয়ে সবার ওপরে সৌম্য সরকার।
এমন ঝড়ের ইঙ্গিত শুরুতে ততটা ছিল না। প্রথম সাত বলে তার রান ছিল ১। পাঁচ ওভার শেষে রান ছিল ১৫ বলে ১৬। মারদাঙ্গা ব্যাটিংয়ের শুরু ষষ্ঠ ওভারে। নিহাদ উজ জামানের ওভারে তিন ছক্কা ও এক চারে রান নেন ২২।
ফিফটি করে ফেলেন ২৬ বলে। এরপর তার ব্যাটের তেজ বেড়ে যায় আরও। পরের পঞ্চাশ করে ফেলেন স্রেফ ১৯ বলেই।
৮২ থেকে এনামুল হক এনামের বলে ছক্কা ও চারে নব্বই পেরিয়ে যান। পরের ওভারে রনি ফয়সালকে ছক্কা মেরে শতরান পেরিয়ে রেকর্ডে নিজের নাম খোদাই করেন আবার।
শতরানের পরও তুলাধুনা করছিলেন তিনি বোলারদের। শেষ পর্যন্ত যখন আউট হয়ে ফিরছেন, দলের ১৭৪ রানের মধ্যে ১৩০ রানই তার।
লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারে তার আগের সর্বোচ্চ ছিল ১১৭।
আগের ম্যাচটিতে আবাহনী লিমিটেডের বিপক্ষে শূন্য রানে রান আউট হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তবে এর আগের ম্যাচে গত মঙ্গলবার ফিফটি করেছিলেন ১৫ বলে। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে সেই ম্যাচে তাসকিন আহমেদের এক ওভারে নিয়েছিলেন তিনি ২০ রান, নাহিদ রানার এক ওভারে ৩৪।
সোহানের ব্যাটে এমন কীর্তি দেখতে এখন অভ্যস্ত দেশের ক্রিকেট। এই ম্যাচের আগে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তার স্ট্রাইক রেট ১৩০.৪৫। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটেই শুধু নয়, স্বীকৃত ক্রিকেটে দেশের দ্রুততম ফিফটি ও শতরানের রেকর্ডও তার। গত বছর রাইজিং স্টার্স এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টিতে হংকংয়ের বিপক্ষে দোহায় বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে ফিফটি করেন তিনি ১৪ বলে, সেঞ্চুরি ৩৫ বলে।
এবারের লিগের বেশির ভাগটায় অবশ্য সেভাবে জ্বলে উঠতে পারছিলেন না তিনি। প্রথম সাত ইনিংসে ফিফটি ছিল একটি। এবার তিন ম্যাচের মধ্যেই উপহার দিলেন দুটি ‘সোহানিয়’ ইনিংস।