Published : 17 Jan 2026, 08:28 AM
এক ঝলক তাকিয়ে দেখলেন, বল উড়ে যাচ্ছে দূর থেকে আরও দূরে। এরপরই মাথা নিচু হয়ে গেল রিপন মন্ডলের। টানা দুটি ছক্কায় মনোবলেও লাগল ধাক্কা। সেই রিপন পরের বলেই দেখা পেলেন উইকেটের। পরে ওভার শেষ করলেন শেষ বলে আরেকটি উইকেট নিয়ে, মাথা উঁচু করেই। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা পেসার আরও একবার দলকে জিতিয়ে অর্জন করে নিলেন ম্যান অব দা ম্যাচের স্বীকৃতি।
বিপিএলের ঢাকা পর্বের প্রথম দিনে শুক্রবার সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে ৩৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা হন রিপন। এবারের বিপিএলে তিনিই একমাত্র ক্রিকেটার, সেরার স্বীকৃতি পেলেন তৃতীয়বার।
মাহমুদউল্লাহ, নাসুম আহমেদ ও নাজমুল হোসেন শান্ত জিতেছেন ২ বার করে।
রিপন ম্যাচ-সেরা হলেও শেষ সময়ে কঠিন পরীক্ষায় তিনি পড়ে গিয়েছিলেন। শেষ ১২ বলে সিলেটের প্রয়োজন পড়ে ২৫ রানের। রিপনের যা সাম্প্রতিক ফর্ম ও শেষের ওভারগুলোয় বোলিংয়ে যে দক্ষতা, তার ওপর ভরসা রাখাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ওভারের প্রথম দুই বলেই তাকে ছক্কা মেরে দেন মইন আলি। প্রথমটি ফুল টস পেয়ে নান্দনিক শটে উড়িয়ে দেন এক্সট্রা কাভারের ওপর দিয়ে, পরেরটি পেশির জোরে আছড়ে ফেলেন মিড উইকেট গ্যালারিতে।
সমীকরণ নেমে আসে ১০ বলে ১৩ রানে।
কিন্তু উল্টো নাটকের বাকি আছে তখনও। পরপর দুই ছক্কার পর আরেকটি চেষ্টায় মইন ধরা পড়েন সীমানায়। পরের দুই বল থেকে রান আসে কেবল দুটি। ওভারের শেষ বলে আউট হয়ে যান নাসুম আহমেদ।
পরে বিনুরা ফার্নান্দোর করা দুর্দান্ত শেষ ওভারে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচ জিতে যায় ৫ রানে।
প্রথম তিন ওভারে ২০ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছিলেন রিপন। শেষ ওভারে দুটি ছক্কার পরও শেষ পর্যন্ত তার প্রাপ্তি ৩৪ রানে ৪ উইকেট।
ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে রিপন বললেন, টানা দুই ছক্কায় সত্যিই বড় ধাক্কা খেয়েছিলেন।
“উনি (মইন) সেট ব্যাটসম্যান, বড় ব্যাটসম্যান, অন্য পাশে টেল এন্ডারের মতো একজন ব্যাটসম্যান ছিল, আমাদের পরিকল্পনা ছিল উনাকে (মইন) এক রান দেওয়া। কিন্তু উনি প্রথম বলে ছক্কা মারলেন, দ্বিতীয় বলেও মারলেন। তখন আমি মানসিকভাবে একটু হতাশ হয়ে পড়েছিলাম, সত্যি কথা বলতে। তবে শান্ত ভাই এসে অনেক সাহায্য করেছেন, উজ্জীবিত করেছেন।”
“আমাদের পরিকল্পনা ছিল, আমরা যদি মইন ভাইকে আউট করতে পারি, তাহলে ম্যাচ জিতব।”
রিপনের ওই দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর পর শেষ ওভারে কাজ শেষ করেন বিনুরা। ৬ বলে যখন প্রয়োজন ১১ রান, ওভারের প্রথম ৫ বলে মাত্র ৩ রান আসে। ১ বলে প্রয়োজন পড়ে তখন ৮ রানের। অসম্ভব সমীকরণ।
কিন্তু এরপরই টানা দুটি ওয়াইড করে বসেন বিনুরা। তখন এক বলে প্রয়োজন ছয় রান, যা খুবই সম্ভব। ম্যাচে নতুন করে প্রাণ ফেরে। সেই বলে অবশ্য নাটকীয় কিছু হয়নি। শেষ বলে উইকেট নিয়ে ম্যাচ শেষ করেন বিনুরা।
টানা দুটি ওয়াইডের পর ভড়কে গিয়েছিলেন রিপন। তবে বিনুরার ওপর আস্থা ছিল বলেও জানালেন।
“টেনশন তো একটু হবেই… ও আমাদের গুরুত্বপূর্ণ একজন বোলার, ক্র্যাম্পিং ধরনের কিছু হয়েছিল। যখন এক বলে আট লাগে, তখন একটু রিল্যাক্সড ছিলাম আমরা। দুটি ওয়াইড হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই একটু চাপ তো থাকেই। তবে বিশ্বাস ছিল যে, ও পারবে।”
চার উইকেটে ৭ ম্যাচে রিপনের উইকেট হয়ে গেল ১৭টি। এখনও পর্যন্ত এবারের বিপিএলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট তার। বিপিএল শুরুর আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলতে নেমে ম্যাচে উইকেট নেন তিনি পাঁচটি। গত নভেম্বরে রাইজিংস স্টার্স এশিয়া কাপেও সাড়া ফেলে দেন দারুণ বোলিং করে।
২২ বছর বয়সী পেসার শোনালেন এই পারফরম্যান্স ধর রাখার প্রত্যয়।
“যেভাবে হচ্ছে, যেভাবে আমি চাচ্ছি, সবকিছুই ঠিকমতো হচ্ছে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে, আমি যত পরিশ্রম করেছি, সেটির ফল পাচ্ছি। তবে ভালোর তো শেষ নেই, চেষ্টা করব এটা ধরে রাখার।”