Published : 01 Jan 2026, 10:20 AM
মূল স্পিনার অ্যাডাম জ্যাম্পার সঙ্গে আছেন বাঁহাতি স্পিনার ম্যাথু কুনেমান। তাদের সঙ্গী কুপার কনোলি, যাকে বলা যায় পুরোপুরিই একজন স্পিন বোলিং অলরাউন্ডার। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও ম্যাথু শর্টের মতো স্পিনিং অলরাউন্ডার তো আছেনই। লেগ স্পিন, বাঁহাতি স্পিন ও অফ স্পিন মিলিয়ে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে স্পিনে কোনো ফাঁক রাখেনি অস্ট্রেলিয়া।
বছরের প্রথম দিনে অস্ট্রেলিয়া ঘোষণা করেছে আগামী মাসে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল। এটিকে অবশ্য তারা ‘প্রাথমিক’ দল বলছে। কারণ, আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত কোনো কারণ দেখানো ছাড়াই দলে পরিবর্তন আনা যাবে। তবে বাস্তবতা হলো, চোট সমস্যা ছাড়া দলে পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা খুবই কম। বিগ ব্যাশে কেউ অসাধারণ কিছু করলেই কেবল হয়তো সুযোগ মিলতে পারে।
চোটাক্রান্তদের নিয়ে অবশ্য উৎকণ্ঠা নিয়েই অপেক্ষা করতে হবে অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়ার কোচ অ্যান্ড্র ম্যাকডোনাল্ড আগেই বলেছিলেন, চোটের কারণে আপাতত মাঠের বাইরে থাকা প্যাট কামিন্স, জশ হেইজেলউড ও টিম ডেভিডকে বিশ্বকাপ স্কোয়াডে রাখা হবে। এরপর ৩১ জানুয়ারির কাছাকাছি গিয়ে চূড়ান্ত হবে এই তিনজনের ভাগ্য।
এই তিনজনের মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় আছেন আপাতত হেইজেলউড। নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচ খেলতে গিয়ে হ্যামস্ট্রিংয় টান লাগে তার। সেই চোট থেকে ফেরার চেষ্টার পথেই নতুন করে চোট পান তিনি একিলিসে। তাতে ছিটকে পড়েন গোটা অ্যাশেজ থেকে। তবে কোচ কয়েকদিন আগে জানান, শিগগিরই বোলিংয়ে ফিরবেন অভিজ্ঞ এই পেসার। বিদায়ী বছরে টি-টোয়েন্টিতে অসাধারণ বোলিং করেছেন ৩৫ ছুঁইছুঁই বোলার।
২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর এই সংস্করণে দেশের হয়ে আর কোনো ম্যাচ খেলেননি কামিন্স। গত জুলাইয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে চোটের পড়ার পর থেকে সব ধরনের ক্রিকেট মিলিয়েই স্রেফ একটি ম্যাচ খেলেছেন অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক, সেটি গত মাসের অ্যাডিলেইড টেস্ট।
দলের প্রয়োজনে স্বল্প প্রস্তুতি নিয়ে অ্যাডিলেইডে টেস্টে মাঠে নেমে দারুণ বোলিংয়ে ছয় উইকেট নেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার সিরিজ জয় নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় আর কোনো ঝুঁকি তাকে নিয়ে নেওয়া হয়নি। এই মাসের শেষ দিকে আরেক দফা স্ক্যান করিয়ে তাকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আপাতত সবচেয়ে বড় শঙ্কা টিম ডেভিডকে নিয়ে। বছরটি অসাধারণ কেটেছে তার। বিশেষ করে, ব্যাটিং অর্ডারে ওপরে তুলে আনার পর নতুন ভূমিকায় তিনি জ্বলে উঠেছেন নতুনভাবে। তবে গত শুক্রবার বিগ ব্যাশের ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন বিস্ফোরক এই ব্যাটসম্যান। পরে স্ক্যান করে গ্রেড টু টিয়ার ধরা পড়ে তার। সময়ের সঙ্গে লড়াই করতে হবে তাকে।
সময় অস্ট্রেলিয়ার হাতে যথেষ্টই আছে। বিশ্বকাপ আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হলেও অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ম্যাচ ১১ ফেব্রুয়ারি। প্রথম দুই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ আয়ারল্যান্ড ও জিম্বাবুয়ে। সত্যিকার অর্থে তাদের প্রথম বড় ম্যাচ ১৬ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। এজন্যই চোটাক্রান্তদের নিয়ে আশার জায়গা বেশি তাদের।
বিশ্বকাপ দলে সত্যিকার অর্থে চমক বলতে জেভিয়ার বার্টলেটের জায়গা পাওয়া ও বেন ডোয়ার্শিসের বাদ পড়া। বিদায়ী বছরে পেসারদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১০টি ম্যাচ খেলেছেন ডোয়ার্শিস। মিচেল স্টার্কের অবসরের পর বাঁহাতি পেসে তার ওপরই বেশি ভরসা রাখছিল দল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ দলে কোনো বাঁহাতি পেসার রাখা হয়নি। বরং নতুন বলে বার্টলাটের দক্ষতার ওপর আস্থা রাখা হয়েছে বেশি।
কামিন্স ও হেইজেলউড ফিট হয়ে উঠলে অবশ্য বার্টলেটকে বাইরে বসেই থাকতে হবে। তৃতীয় পেসার হিসেবে থাকবেন ন্যাথান এলিস। তবে কামিন্স বা হেইজেলউডের কেউ শেষ পর্যন্ত ছিটকে গেলে ডোয়ার্শিস স্কোয়াডে ফিরবেন নিশ্চিতভাবেই।
উল্লেখযোগ্য বলতে হবে মিচেল ওয়েনের বাদ পড়া ও কুপার কপোলির দলে ফেরাও। গত জুলাইয়ে অভিষেকর পর থেকে নিয়মিতই খেলেছেন ওয়েন। আগ্রাসী ব্যাটিং ও মিডিয়াম পেস বোলিং দিয়ে কিছু ম্যাচে দারুণ ভূমিকাও রেখেছেন দলের জয়ে। তবে কন্ডিশনের কারণেই খড়গ নেমেছে তার ওপর।
কনোলি এখনও পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৬টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। ব্যাটিং করেছেন মাত্র ২টিতে, বোলিং করেছেন স্রেফ ৮ ওভার। সবশেষ তিনটি সিরিজের স্কোয়াডে তিনি ছিলেন না। তবে দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ক্রিকেটাদের একজন মনে করা হয় তাকে। এবারের বিগ ব্যাশের শুরুটাও দারুণ করেছেন তিনি ব্যাটে-বলে।
জশ ইংলিস ছাড়া অন্য কোনো কিপার রাখা হয়নি দলে। অ্যালেক্স কেয়ারি ও জশ ফিলিপির তাই যাওয়া হচ্ছে না বিশ্বকাপে।
বিশ্বকাপের আগে জানুয়ারির শেষ দিকে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের একটি সিরিজ খেলবে অস্ট্রেলিয়া। সেটির দল ঘোষণা করা হবে পরে।
অস্ট্রেলিয়া: মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), জেভিয়ার বার্টলেট, কুপার কনোলি, প্যাট কামিন্স, টিম ডেভিড, ক্যামেরন গ্রিন, ন্যাথান এলিস, জশ হেইজেলউড, ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস, ম্যাথু কুনেমান, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, ম্যাথু শর্ট, মার্কাস স্টয়নিস, অ্যাডাম জ্যাম্পা।