Published : 22 Jun 2026, 10:16 AM
অংশীদারত্বের ভিত্তিতে সমৃদ্ধি, আঞ্চলিক শান্তি এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় জানিয়েছে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ।
সোমবার সকালে মালয়েশিয়ার পুত্রাজায়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পরদানা পুত্রা’য় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য, কর্মসংস্থান, জ্বালানি নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার বার্তা আসে।
তার আগে একান্ত ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ দুই বৈঠকের পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ও দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় হয়।
সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা এগিয়ে নিতে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। এছাড়া সন্ত্রাসবাদ দমন বিষয়ে গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহযোগিতা এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে দুটি দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময় করেছে দুই দেশ।

সফররত প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, “আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, তিনি তার প্রথম সরকারি সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে বেছে নিয়েছেন। তার এ সদিচ্ছাকে আমরা গভীরভাবে সাধুবাদ জানাই। এটি আপনাদের গভীর ভালোবাসা ও আস্থারই বহিঃপ্রকাশ।
“আমরা সৌভাগ্যবান যে, আপনার প্রয়াত বাবা ও মায়ের সঙ্গে আমাদের পরিচয় ছিল। আমি তাকে (তারেক রহমানকে) আমার প্রথম অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছি—যখন আমি একজন যুবনেতা হিসেবে মৌচাক ক্যাম্পে তার বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলাম।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আর তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার প্রয়াত মায়ের সঙ্গেও বেশ কয়েকবার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে আমার দেখা হয়েছিল।
“এর চেয়েও বড় কথা হলো, ভাই তারেক রহমান এবং তার পরিবার চরম কষ্ট ও সংগ্রাম সহ্য করেছেন। তিনি নিজের দেশের মানুষকে গভীরভাবে ভালোবাসেন এবং তাদের স্বাধীনতা ও উন্নতির পক্ষে নিজের আদর্শে সবসময় অবিচল থেকেছেন।”
অন্যদিকে তারেক রহমান বলেন, “আমি আত্মবিশ্বাসী যে, আজকের এই আলোচনা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জুবাইদা রহমান সকালে ‘পরদানা পুত্রা’য় পৌঁছালে তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান আনোয়ার ইব্রাহিম এবং তার স্ত্রী ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পর প্রথমে একান্ত বৈঠকে মিলিত হন দুই নেতা। পরে তারেক রহমান ও আনোয়ার ইব্রাহিমের নেতৃত্বে দুই দেশের প্রতিনিধি দলের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, কর্মী প্রেরণ, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ও কৃষি, শিক্ষা ও জন-যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বৈঠকে।
পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসে তারেক রহমান বলেন, “আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ এবং দ্রুত শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছি। পাশাপাশি অনিয়মিত শ্রমিকদের বৈধকরণ এবং আটক বাংলাদেশিদের সম্ভাব্য প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও উত্থাপন করেছি।
“আমরা একমত হয়েছি যে শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমে এবং শ্রমিকদের ব্যয় হ্রাস পায়।”
আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, “মানবসম্পদ সহযোগিতা—বিশেষ করে আমাদের শ্রমিকরা, প্রথমত আমাদের অর্থনীতিকে টিকে রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু একইসঙ্গে এই খাতটি নিয়ে অনেক বিতর্ক ও উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মানবিক দিক, শ্রমিকদের সঙ্গে আচরণ এবং এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে আরও স্বচ্ছ ও ন্যায়সংগত করার চ্যালেঞ্জ এর মধ্যে অন্যতম।
“আমি তার স্পষ্টবাদিতা এবং আমাদের যৌথ লক্ষ্যকে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতিকে সাধুবাদ জানাই। হ্যাঁ, আমাদের শ্রমিকদের প্রয়োজন আছে। তবে তার চেয়েও বড় কথা হল—আমাদের অবশ্যই শ্রমিক এবং তাদের পরিবারের কল্যাণ রক্ষা করতে হবে।”

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের শোষণ ও নিপীড়নের অভিযোগের প্রসঙ্গ টেনে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শ্রমিকদের শোষণ করা, তাদের সাথে খারাপ আচরণ করা এবং কেবল নিজেদের স্বার্থে তাদের ব্যবহার করার এই চলমান প্রবণতা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
“ব্যক্তিগতভাবে এবং দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তিনি যে মনোভাব প্রকাশ করেছেন, আমি তার গভীরভাবে প্রশংসা করি। এই বাড়াবাড়ি বন্ধে এবং প্রক্রিয়াটি যেন স্বচ্ছ হয় তা নিশ্চিত করতে আমাদের অবশ্যই নেতৃত্ব দিতে হবে; এটি যেন উভয় দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি শ্রমিক ও তাদের পরিবারের স্বার্থ রক্ষা করে।”
দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, “এখন আমাদের দুই দেশের সম্পর্ক আরও বাড়াতে হবে। আমরা তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট অন্য মন্ত্রীদের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। দুই দেশের সম্পর্ক আরও মজবুত করতে আমাদের দ্রুত এফটিএ (মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি) সই করা এবং সব খাতে একটি বড় অংশীদারিত্ব তৈরি করার চ্যালেঞ্জ নিতে হবে।
“আমাদের এই সম্পর্ক শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না—যদিও ব্যবসা ও বিনিয়োগ সবসময়ই মূল বিষয় হিসেবে থাকবে। এর বাইরেও আমাদের বিভিন্ন গবেষণা, বিজ্ঞানের নতুন বিষয় এবং সেমিকন্ডাক্টর ও এআইয়ের মতো নতুন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একসাথে কাজ করতে হবে। কারণ এগুলোই ভবিষ্যতে আমাদের মানুষের জন্য আসল চ্যালেঞ্জ।”

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, “আমরা অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে বৈঠকের ব্যবস্থা করেছি; যেমন—এলএনজি ও হালাল শিল্প নিয়ে পেট্রোনাস ও পেট্রোবাংলার মধ্যে আলোচনা, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও পর্যটন খাতে যৌথ উদ্যোগ।
“আর অবশ্যই বাংলাদেশে এবং এখানে থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংকট সমাধানে আমরা একসাথে কাজ করার চেষ্টা করছি। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সাথে এই সমস্যার আংশিক সমাধানের জন্য আমরা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে এবং আসিয়ানের নিয়ম মেনে তাদের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাব।”
তিনি বলেন, “বিশ্ব রাজনীতির বিষয়ে—যেমন ফিলিস্তিন এবং গাজায় জায়নবাদী ইসরায়েলি বাহিনীর নির্মম অত্যাচারের বিরুদ্ধে, কিংবা উপসাগরীয় অঞ্চল ও ইরানে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার সমর্থনে আমরা একসাথে আছি। শান্তি নিশ্চিত করতে আমরা আমাদের সব অংশীদারদের সাথে এক হয়ে কাজ করে যাব।”
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে শুরুতে আনোয়ার ইব্রাহিমের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “গত ফেব্রুয়ারিতে আমি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর প্রথম শুভেচ্ছা বার্তাগুলোর একটি পেয়েছিলাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কাছ থেকে। তিনি আমাকে অভিনন্দন জানান এবং মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানান।
“তার সেই আন্তরিক আমন্ত্রণ গ্রহণ করতে পেরে আমি সম্মানিতবোধ করছি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম বিদেশ সফরে আমার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মালয়েশিয়ায় আসতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।”
১৯৭৯ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট, বাবা জিয়াউর রহমানের মালয়েশিয়া সফরে কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “সেই সফর দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করেছিল এবং শ্রমবিষয়ক সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল।
“আমি আমার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯৩ সালের মালয়েশিয়া সফরের কথাও স্মরণ করছি। তার সেই সফর আমাদের বন্ধুত্বকে আরও গভীর করে এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন করে।”
তিনি বলেন, “মালয়েশিয়া বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ অংশীদার। পারস্পরিক আস্থা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্কের ভিত্তিতে আমাদের এই বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে।”
মালয়েশিয়ায় উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আতিথেয়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, মালয়েশিয়া সরকার ও দেশটির জনগণকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, “আরও একবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মালয়েশিয়া সরকার এবং দেশটির জনগণকে তাদের বন্ধুত্ব ও আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানাই। আমরা মধুর স্মৃতি নিয়ে দেশে ফিরছি।”

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “মালয়েশিয়ার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার বিস্তৃত ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে মতবিনিময় করেছি।
“আজ আমরা বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। যৌথ কমিশন বৈঠক এবং দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় পরামর্শ প্রক্রিয়াসহ বিদ্যমান কাঠামোর মাধ্যমে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রবৃদ্ধিকে স্বাগত জানিয়েছি এবং বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
এ সফরে হওয়া সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর ও দ্বিপক্ষীয় দলিল বিনিময়ের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এসব উদ্যোগ আমাদের সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং সম্পর্কের ইতিবাচক গতিধারা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
“আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজকের আলোচনা বাংলাদেশ–মালয়েশিয়া সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। আমরা যৌথ সমৃদ্ধি, আঞ্চলিক শান্তি এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা করছি।”
মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জনগণের কাছ থেকে শক্তিশালী জনসমর্থন পেয়েছে। জনগণের বিপুল সমর্থনের ভিত্তিতে আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছি। আমাদের অগ্রাধিকার হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা।
“আমরা একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলছি এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করছি। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে এবং আমি মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের এসব সুযোগ কাজে লাগানোর আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি।”
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি, হালাল শিল্প, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর খাত নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, “মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিক, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং উদ্যোক্তারা দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন। তাদের অবদান উভয় দেশের অর্থনীতি ও সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দুর্দশা নিয়ে আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং তাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মালয়েশিয়ার ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”
বাংলাদেশ আসিয়ানের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক চায় জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “আমরা আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা করেছি। বাংলাদেশ আসিয়ানের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পৃক্ততা চায় এবং আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার প্রত্যাশা করে।
“একই সঙ্গে আমরা আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসিইপি)-এ যোগদানে আগ্রহী। বাংলাদেশের আঞ্চলিক সংযুক্তি প্রচেষ্টায় মালয়েশিয়ার সমর্থনের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”

বৈঠকে পশ্চিম এশিয়া পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আমরা জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি।
“জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করায় মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানাই। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আমাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশাবাদী।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং তার সহধর্মিণীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। বাংলাদেশের জনগণ তাদের স্বাগত জানাতে গর্ববোধ করবে।”